
ডায়মন্ডহারবারঃ ভোটার তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে বাদ পড়া নাগরিকদের ভোটাধিকার পুনর্বহাল, ট্রাইবুনালের বিচার দ্রুত শেষ করা এবং রেশন, আবাস যোজনা সহ সমস্ত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা অক্ষুণ্ন রাখার দাবিতে ২০ আগস্ট দক্ষিণ ২৪ পরগণার ডায়মন্ডহারবারে ‘ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতি’-র ডাকে বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হলেন সহস্রাধিক মানুষ।
এ দিন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে সুসজ্জিত, স্লোগান মুখরিত মহামিছিল পুরোনো হাসপাতাল চত্বর থেকে শুরু হয়ে মহকুমা শাসক দপ্তরে পৌঁছয়। নেতৃত্বে ছিলেন সমিতির মহকুমা সম্পাদক সঞ্জয় মণ্ডল, সভাপতি নাসিরউদ্দিন মীর এবং রাজ্য প্রতিনিধি বনমালী পণ্ডা।
সঞ্জয় মণ্ডলের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল মহকুমা শাসককে স্মারকলিপি দেন। তাঁরা দাবি তোলেন– বিচারাধীন নাগরিকদের কোনও ভাবেই রেশন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বা আবাস যোজনার মতো সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না এবং ডিলিটেড পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় যেন ব্যাঘাত না ঘটে, প্রশাসনকে তা দেখতে হবে। মহকুমা শাসক দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ সভায় বনমালী পণ্ডা বলেন, দেশের বৈধ নাগরিকদের হোল্ডিং সেন্টারে আটক রাখার কোনও নিয়ম নেই। সরকার নিজেই আইন মানছে না। তিনি বলেন, বৈধ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় আনতে গড়িমসি করা হলে এবং প্রশাসনিক স্তরে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ না হলে আন্দোলন তীব্রতর রূপ নেবে।
দক্ষিণ দিনাজপুরঃ বালুরঘাট শহরের নাট্য মন্দিরে ২২ আগস্ট ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির উদ্যোগে চার শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে একটি কনভেনশন হয়। প্রধান বক্তা ছিলেন শঙ্কর ঘোষ। মোকসেদ সরকারকে সভাপতি এবং নন্দা সাহাকে সম্পাদিকা করে ২৫ জনের একটি জেলা কমিটি গঠিত হয়।
উত্তর ২৪ পরগণাঃ নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি কাণ্ডের ফলে ৩৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ যে দুর্গতি ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে বসিরহাট মহকুমার লক্ষাধিক মানুষ রয়েছেন। অবিলম্বে বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে বসিরহাটের টাউন হলে ২৪ আগস্ট সারা বাংলা ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির উদ্যোগে চার শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এক নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান বক্তা সমন্বয় সমিতির অন্যতম রাজ্য নেতা, এআইকেকেএমএস-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর ঘোষ বলেন, নিপীড়নের শিকার এই নাগরিকদের অধিকার ফিরে পাওয়ার একমাত্র রাস্তা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। প্রতিনিধিরা কনভেনশনে নিজেদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন। বিশিষ্ট জননেতা অজয় বাইন ও শিক্ষক হিরণ্ময় মণ্ডলকে যথাক্রমে সভাপতি ও সম্পাদক করে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়। শেষে এক দৃপ্ত মিছিল বসিরহাট শহর পরিক্রমা করে।