
পূর্ব মেদিনীপুরঃ তমলুকের মানিকতলা মোড়। শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরা মূর্তির পাদদেশে সমাবেশ। থিকথিকে ভিড়। ঝাড়গ্রাম থেকে যে অঙ্গীকার যাত্রীরা রওনা হয়েছেন তাঁরা ১৩ ডিসেম্বর সকালে তমলুক শহরে পদযাত্রার জন্য জমায়েত হয়েছেন। সাথে এই এলাকার নানা প্রান্ত থেকে অগণিত মানুষজন জড়ো হচ্ছেন ধীরে ধীরে, অঙ্গীকার যাত্রীদের সাথে মিছিলে হেঁটে এই শহরে আরেকটা ইতিহাস তৈরির জন্য।
উদ্যোক্তা তমলুক অভ্যর্থনা সমিতি প্রত্যেক অভিযাত্রীকে সোনালী মেডেল দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন। সাথে স্লোগান উঠছে ‘নারী সুরক্ষা অঙ্গীকার, যাত্রা চলেছে দুর্নিবার“ডাক দিয়েছে মা ও বোন, লড়াই হবে মরণপণ।’
শহর জুড়ে সুদৃশ্য সুসজ্জিত পদযাত্রা শুরু হল। রাস্তার আশেপাশের উৎসুক মানুষ দেখল এক অভিনব মিছিল। হাসপাতাল মোড়ে ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশে সভায় সঙ্গীত, নৃত্য, জিমনাস্টিক্স, পথনাটিকা অনুষ্ঠিত হল। বক্তব্য রাখলেন বিশিষ্টজনেরা।
ওই দিন বিকেলে অর্ধশতাধিক সুসজ্জিত টোটো করে অঙ্গীকার যাত্রীরা পৌঁছয় মেছেদায় বিদ্যাসাগর মূর্তির পাদদেশে। এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে নিয়ে পদযাত্রা করে তাঁরা মেছেদা স্টেশন চত্বরে শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তির পাদদেশে এক সমাবেশে যুক্ত হন।
মিছিল দেখে এলাকার এক মাধ্যমিক শিক্ষক বললেন, প্রতিবাদ এখনও বেঁচে আছে। সুদৃশ্য মিছিল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন নিজের কাজে আসা মৌমিতা বর্মন। বললেন, আর জি কর আন্দোলনের পরে মনে হচ্ছিল কিছুই হবে না। কিন্তু আজ এই সুসজ্জিত মিছিল দেখে আশা ফিরে পেলাম। পদযাত্রায় অংশ নেওয়া শিশু-কোলে এক মা হাঁটতে হাঁটতে বললেন, আমার মেয়ের আগামী দিনের সুরক্ষার জন্য আজ এই অঙ্গীকার যাত্রায় অংশ নিয়েছি। সত্তরোর্ধ্ব অধ্যাপিকা দীপ্তি মাইতি আর জি কর আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। বললেন, মেয়েদেরও সমান অধিকার সমাজে। তাদের সুরক্ষার দাবিতে আজ সবাই পথে নামছি। মেছেদা অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক লক্ষীকান্ত প্রামাণিক বললেন, আজ সমাজে নারীরা বিপন্ন। অর্ধেক আকাশে তাঁদের সুরক্ষার দাবিতে পুরুষদেরও সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাই এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছি। তমলুকে মদ বিরোধী নাগরিক কমিটির সদস্য গীতা দত্ত ফুলের তোড়া নিয়ে সংবর্ধনা দিতে এসে বললেন, সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো মহিলাদের এই উদ্যোগ আশা জাগাল।