
৭৯ বছর ধরে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে প্রধানমন্ত্রীদের অমৃতবাণী কম শুনল না দেশ! বর্তমান নরেন্দ্র মোদিই ১২ বার এই উপলক্ষে ভাষণ দিয়ে ফেললেন। প্রতিবারই তিনি নতুন নতুন চমক সামনে আনেন, চমক না দিতে পারলে সেই একই কথার চর্বিত-চর্বন মানুষ শুনবেই বা কেন? এবারের ভাষণে মোদিজির চমক ছিল একদিকে ‘শক্তির সপ্তধারা’, অন্যদিকে ‘দিমাগি নকশাল’। গত পাঁচ সাত দশকে যে কাজ হয়নি, তিনি আগামী পাঁচ সাত বছরে তা করে ফেলার সংকল্প করেছেন। দেশের যত সমস্যা নাকি ওই সময়েই জন্ম নিয়েছে! যদিও, তিনি নিজেই গদিতে আসীন হয়ে রয়েছেন, এক দশকের বেশি। ১২ বছরে যা পারলেন না, আগামী পাঁচ সাত বছরে তা করে ফেলবেন, এমন গ্যারান্টিই বা মোদিজি কী করে দিচ্ছেন? এই কারণেই কি ‘বিকশিত ভারতের’ লক্ষ্য তিনি ২০৪৭ পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন?
নরেন্দ্র মোদি কোনও প্রশ্নের উত্তর দেন না, ফলে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়াও সম্ভব নয়। অবশ্য প্রশ্ন করাও বিপদের– ‘দিমাগ’ অর্থাৎ মন বা চিন্তাকেই যখন নকশালবাদের মতো উগ্রপন্থার আঁতুড় বলে দেগে দেন খোদ প্রধানমন্ত্রী, তাঁর পারিষদবর্গের কাছে যে বার্তা পৌঁছে যায় তার সাথে সদ্য পরিচয় হয়েছে প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ছাত্র-যুব সমাজ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কাছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কথিত ‘শক্তির সপ্তধারা’ খুঁটিয়ে দেখতে গেলেই যে মনে প্রশ্ন আসতে বাধ্য। দেশের হাল যা তাতে শ্রমিক-চাষি-অফিস কর্মচারী-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী-হকার– দেশের সব স্তরের রামা কৈবর্ত-হাসিম শেখরা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সিপাই-সান্ত্রীদের ভয়ে সব কিছু মেনে নিয়ে নিজের ‘দিমাগ’-কে যতই ঠাণ্ডা থাকতে বাধ্য করার চেষ্টা করুন না কেন, পেট যে বুঝবে না! আধপেটা খাওয়া সন্তানের সামনে মনকে শান্ত রাখবেন তাঁরা কী দিয়ে? বিজেপি সরকারের রেকর্ড বলছে, প্রশ্ন করার জন্য দেশদ্রোহী তকমা পেয়েছেন একাধিক সাংবাদিক। প্রশ্ন তোলার অপরাধে খুন হয়েছেন সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ, সমাজকর্মী গোবিন্দ পানসারে, নরেন্দ্র দাভোলকর। সংবাদমাধ্যম সরকারের বিরুদ্ধে কলম ধরায় তার সম্পাদক গ্রেপ্তারের মতো ঘটনাও বিরল নয়। তা হলে প্রশ্ন তুললেই ‘নকশাল’ তকমা লাগানোর হুমকি নতুন করে কাদের দিলেন প্রধানমন্ত্রী? প্রতিবাদী যুব সমাজকে নয় কি! স্বাধীনতার ৮০ বছর উদযাপনে ভারতবাসীর কাছে সরকারের বিশেষ বার্তা– সরকারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলো না, মাথা নিচু করে সব অন্যায় মেনে নিজেকে ‘দেশপ্রেমিক’ প্রমাণ করো!
প্রধানমন্ত্রীর সপ্তধারা কী? উৎপাদন শক্তি, কৃষি শক্তি, প্রযুক্তি শক্তি, গতি শক্তি (উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা), আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা, পরিবেশবান্ধব ও সমুদ্রবান্ধব অর্থনীতি (গ্রিন-ইকোনমি ও ব্লু-ইকোনমি), এবং মেধা ও কৃষ্টি শক্তি– এই সপ্ত-শক্তির ধারায় আর্থিক সংস্কার করে যুবশক্তি, নারীশক্তি ও কৃষক-শ্রমিককে এগিয়ে নিয়ে যাবেন নাকি তিনি! প্রধানমন্ত্রী বিশেষ জোর দিয়ে ‘সংস্কার’ শব্দটা ব্যবহার করেছেন। এই আর্থিক সংস্কার শব্দটি এখন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কাছে আতঙ্কের। মানুষ জানে সংস্কার মানেই নতুন কোনও আর্থিক আক্রমণের ভূমিকা। অন্য দিকে সংস্কারের ঘোষণাতে দেশি বা বিদেশি বৃহৎ পুঁজি মালিকদের মন ভরে যায় খুশিতে।
মোদিজি কথিত সপ্ত-শক্তিধারার প্রথমটি হল ‘উৎপাদন শক্তি’। কী সেটা? আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতার শক্তি বাড়াতে যন্ত্রাংশের পাশাপাশি সম্পূর্ণ পণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি বাড়াতে উৎপাদন খরচ কমানো, পণ্যের গুণমান বৃদ্ধি ও সর্বোপরি প্যাকেজিং-এর উপর জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যতই রাগ করুন, প্রশ্ন না করে উপায় নেই– দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মানুষের কেনার ক্ষমতা বাড়ানো ও তাদের জন্য পণ্য উৎপাদনের কী হবে? উৎপাদন খরচ কমাতে কাঁচামাল, বিদ্যুৎ ইত্যাদির দাম যখন কমার আশা নেই, উৎপাদন খরচ কমানোর একমাত্র উপায় শ্রমিকের প্রাপ্যে কোপ বসানো! আন্তর্জাতিক মানের পণ্য তৈরি করতে শ্রম নিবিড় শিল্পের ঝাঁপ বন্ধ করে পুরোপুরি পুঁজি-প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পে বৃহৎ মালিকদের বিপুল মুনাফা হবে সন্দেহ নেই। উৎপাদন শক্তিধারা বল জোগাবে দেশি একচেটিয়া পুঁজি মালিকদের, কিন্তু দেশের কোটি কোটি কাজ হারানো শ্রমিকের বেঁচে থাকার শক্তি যে ফুরিয়ে যাবে! মোদিজি কি জানেন, দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে শুরু করে সমস্ত উৎপাদন খাতে বৃদ্ধি গত তিনমাসে কমতে কমতে একেবারে তলানিতে নেমেছে! দেশের অধিকাংশ মানুষের রোজগারের বড় অংশই চলে যায় খাদ্য জোগাড়ে, তারা শিল্পদ্রব্য কিনবে কী করে? প্রধানমন্ত্রী এ জন্যই শুধু রপ্তানিতেই পড়ে রইলেন?
দ্বিতীয় হল ‘কৃষি শক্তি’। এই ধারায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মধ্য দিয়ে ভারতের খাদ্য, ফল, মশলা, সিrকে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডে পরিণত করতে কৃষি ক্ষেত্রে বিপুল সংস্কার হবে। অর্থাৎ কৃষিতে বৃহৎ পুঁজিকে ঢোকার অধিকতর সুযোগ করে দেওয়ার রাস্তা হবে। প্রশ্ন করতেই হয়– এ ধারা শক্তি জোগাবে কাকে? কৃষক না একচেটিয়া পুঁজি মালিককে? মোদিজির ভোলার কথা নয়, পাঁচ বছর আগে তাঁর সরকারের আনা এই রকম ধারার তিন কৃষি আইন রুখতে সাতশোর বেশি অন্নদাতা কৃষক দিল্লির সীমান্তে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে গেছেন। মোদিজি তাঁদের কটাক্ষ করে খালিস্তানি, আন্দোলনজীবী, টুকরে টুকরে গ্যাং ইত্যাদি কত কিছু বলেছেন। তাঁরা কিন্তু ভয় পাননি। এখন দিমাগি নকশাল তকমার ভয়ে তাঁরা পিছিয়ে যাবেন, এমন আশাই কি করছেন মোদিজি? ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি, ল্যাটিন আমেরিকার কিছু দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কিংবা ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার স্বার্থে? মোদিজি বলুন পরিষ্কার করে! কৃষকরা বলছেন, এই চুক্তির জোরে ডেয়ারি পণ্য, ফল, ডাল, তৈলবীজ সহ নানা কৃষিপণ্য বিদেশ থেকে অবাধে ভারতে ঢুকবে। আমদানি করবে মোদিজিদের ঘনিষ্ঠ বৃহৎ কোম্পানির মালিকরা। জীবিকা হারাবে ভারতের সাধারণ কৃষক। অন্য দিকে ভারতীয় একচেটিয়া পুঁজি মালিকরা চাষের জমি থেকে শুরু করে ফসলের বাজার পর্যন্ত দখল করবে পুরোপুরি। চাষি হবে তাদের মজুর, না হয় চুক্তি-বদ্ধ ঠিকাদার। আন্তর্জাতিক বাজারে মোদিজি কথিত চকচকে প্যাকেজিং মোড়া ‘ভারতীয় ব্র্যান্ডের’ ফসলে কোটি কোটি কৃষি মজুর-চাষির চোখের জল আর রক্তের দাগ ঢাকবেন কী দিয়ে? অবশ্য প্রশ্ন না করে চাষিরা দিনে দিনে আত্মহত্যার তালিকায় নতুন নতুন সংখ্যা যোগ করলে তাদের ‘দিমাগ’ নিয়ে বিজেপি সরকারের কোনও আপত্তি নেই! স্বাধীনতার ৮০ বছরে স্বদেশি কৃষককে অপূর্ব উপহার!
বাকি পাঁচ শক্তিধারা হল– প্রযুক্তি, ‘বিকশিত ভারত’ গড়তে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা, পরিবেশবান্ধব ও সমুদ্রবান্ধব অর্থনীতি এবং ‘সফট পাওয়ার’ (মেধা ও কৃষ্টি শক্তি) গড়ে তুলতে যোগব্যায়াম, হস্তশিল্প, গেমিং, ডিজিটাল কন্টেন্ট ইত্যাদি তৈরির ধারা। প্রযুক্তির জন্য ডেটা সেন্টার, ৬জি টেলিকমিউনিকেশন, রোবোটিক্স ইত্যাদির জোরে দেশকে লম্বা লাফ দিতে বলেছেন মোদিজি। প্রশ্ন হল, লাফটা দেবে কে? দেশের তরুণ সমাজের হাতে তো দিন গুজরানের মতো বেতনের কাজই নেই। তারা কী করে এই সব দামি প্রযুক্তি ব্যবহার করবে? আম্বানি, আদানি সাহেবদের মতো কিছু ধনকুবের আর তাদের উচ্চবেতনের কিছু কর্মচারী, সাথে হাজার কতক অতি ধনীরাই হল একমাত্র ভারতবাসী?
যোগাযোগ শক্তিধারা! দেশে ব্রিজ থেকে সড়ক যোগাযোগ, বিমান পরিষেবা, বিমানবন্দর, জাহাজ শিল্প ইতিমধ্যে চলে গেছে বিশেষ কতগুলি কোম্পানির কব্জা। রেলও সেই পথে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী কর্পোরেট মালিকদের হাতে পরিকাঠামো তৈরির ভার তুলে দিয়ে ‘স্পেস টেকনোলজি’ দিয়ে রাস্তা বানানোর বড়াই করেন। অথচ, রোজ জাতীয় সড়ক থেকে ব্রিজ ভেঙে পড়ছে। সরকারি বিমান পরিষেবা বেসরকারি হওয়ার পর এখন প্রায় প্রাণ হতে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হয়। পরিবেশবান্ধব, সমুদ্রবান্ধব শক্তিধারা নিয়ে বলার সময় মোদিজির টেলিপ্রম্পটারের পর্দায় যাই লেখা থাক, মনের পর্দায় কি আন্দামান নিকোবরের লক্ষ লক্ষ গাছ, সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে আদানিদের সর্বনাশা প্রকল্প, আরাবল্লি পাহাড় বেচে দেওয়া, খনির অজুহাতে ধ্বংসের পথে চলা ওড়িশার নিয়মগিরি থেকে শুরু করে মধ্যপ্রদেশের পাহাড় জঙ্গলের কথা ভেসে উঠেছিল? উত্তরাখণ্ডের ‘দেবভূমি’তে পরিবেশ ধ্বংসের জন্য বিজেপি সরকারের আসুরিক কাজকর্ম মনে পড়ে যাওয়াতেই এবারের ভাষণে তাঁর খেই হারিয়েছিল কি না, তিনিই বলতে পারবেন। এ দিকে যোগব্যায়াম, গেমিং আর কন্টেন্ট বানিয়ে দেশের কোটি কোটি কর্মহীন যুবক-যুবতীদের রোজগারের পথ বাতলানো বেশ উন্নত কল্পনাশক্তির ফসল হলেও তাতে বাস্তবের চিঁড়ে যে একেবারেই ভেজে না!
এই অপূর্ব ‘শক্তিধারা’ ৮০ বছরের স্বাধীন দেশের ভবিষ্যত হলে, সে দেশের ছাত্র-যুবকদের চিন্তাশক্তি (মোদিজি কথিত ‘দিমাগ’) শাসকদের কাছে গভীর উদ্বেগের বিষয় হতে বাধ্য। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী চিন্তাশক্তিকে নকশালবাদের সারিতে ফেলতে চেয়েছেন। সরকার বিপাকে পড়লেই প্রতিবাদীদের গায়ে সন্ত্রাসবাদী তকমা লাগায়। কৃষক বিক্ষোভকে যেমন খালিস্তানি তকমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় বামপন্থী নামধারী রাজ্য সরকারও তাতে মাওবাদের ভূত খুঁজতে নেমেছিল। আজ দেশের মধ্যে নকশালবাদ বাস্তবে বড় কোনও সমস্যা নয়। কিন্তু চিন্তা-ভাবনা করা, প্রশ্ন তোলা হলেইতার গায়ে নকশাল তকমা লাগানো পিছনে আছে সরকারের কুমতলব। তাঁরা জানেন, বেকারত্বে জর্জরিত, ভবিষ্যতের দিশা দেখতে না পাওয়া যুব সমাজ তাঁর বিকশিত ভারতের ফাঁকা বুলিতে ভুলবে না। সাম্প্রতিক ছাত্র-যুব আন্দোলন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কী বিপুল বিক্ষোভের বারুদ আজ যুব সমাজের মনে জমা হয়ে আছে। তাঁরা এর থেকে মুক্তির পথ খুঁজছেন। শাসকদের ভয় হল, এই যুব সমাজ আজ না হয় কাল ঠিক বুঝবেন বিদ্যমান শোষণমূলক সমাজব্যবস্থাটাই সমস্ত সমস্যার মূল কারণ। তাঁরা তা বদলের রাস্তাও খুঁজবেন এটাই স্বাভাবিক। মার্ক্সবাদের প্রকৃত উপলব্ধির ভিত্তিতে লড়াকু বামপন্থাই তাঁদের এই পথ দেখাতে পারে। এর সন্ধান পেলে যুব সমাজ চর্চা করবে বিজ্ঞানসম্মত চিন্তাধারা এবং যুক্তিবাদের। অলৌকিক, নন-বায়োলজিকাল নেতার ভাবমূর্তিকে তারা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে। সাম্প্রদায়িকতা, কূপমণ্ডুকতা, ধর্মীয় অন্ধতা, মৌলবাদের কবর খুঁড়বে তারা। তাই বামপন্থাকেই ভয় শাসক বুর্জোয়া শ্রেণির। মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ ও বামপন্থার অমোঘ শক্তিকে কোনও শাসক অস্বীকার করতে পারে না, তাই তারা চেষ্টা করে বামপন্থাকে বিকৃত মোড়কে তুলে ধরার। এই কারণে বামপন্থার নাম করে মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের প্রকৃত রাস্তা ছেড়ে অর্থহীন উগ্রপন্থার রাস্তা নেয় যে মুষ্টিমেয় জনবিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী, তাদের সবচেয়ে বেশি প্রচার দেয় কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম। সরকারও তাদেরই বামপন্থার প্রধান মুখ বলে তুলে ধরে। এতে একদিকে তাদের দমনের অজুহাতে যে কোনও গণআন্দোলনকে নির্মমভাবে দমন করার সামাজিক ছাড়পত্র শাসকরা আদায় করে নিতে পারে। একই সাথে এই দমন-পীড়নকে দেখিয়ে প্রতিবাদী যুব সমাজকে ভয় দেখাতে পারে শাসক শ্রেণি। এর সাথে শাসকরা প্রচার দিয়ে সামনে আনে সংস্কারবাদী, ভোট সর্বস্ব বামপন্থী নামধারী শক্তিগুলিকে। সংবাদমাধ্যম এবং সরকার এদেরও যথাসাধ্য মানুষের সামনে আনতে চায়, যাতে প্রকৃত লড়াকু বামপন্থাকে মানুষের চোখ থেকে আড়াল করার সুবিধা হয়। উগ্র নকশালবাদ কিংবা ভোট সর্বস্ব সংস্কারবাদ বামপন্থার নাম নিলেও এই দুই দলের কেউই রাষ্ট্রশক্তির কাছে বড় কোনও বিপদ নয়। শাসকের কাছে বিপদ হল, যুব সমাজের মধ্যে যুক্তি বিজ্ঞান ও উন্নত চিন্তার চর্চার প্রসার। যে প্রসার হলে প্রকৃত লড়াকু বামপন্থার জমি তৈরি হয় দেশে। যে কারণে লাল কেল্লা থেকে দিমাগ বা চিন্তা-ভাবনার শক্তিকে, আদর্শবাদ, যুক্তিবাদকে শেষ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘নকশাল’ শব্দটা তিনি ব্যবহার করেছেন তাঁর আসল উদ্দেশ্যকে আড়াল করতে।
অবশ্য এমন চেষ্টা শাসকরা এই প্রথম করছে না, মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের আদর্শকে, যুক্তিবাদী চিন্তাকে মারার চেষ্টা চলছে বহু বছর ধরে। মোদিজি জেনে রাখলে ভাল করবেন, তাঁর থেকে শক্তিশালী শাসক হিটলার পর্যন্ত এ কাজে ব্যর্থ হয়েছে। তিনিও হবেন তা নিশ্চিত বলা যায়।