
রাজ্যের কলেজগুলির গভর্নিং বডির সভাপতি পদে দলের বিধায়ক ও সাংসদদের বসিয়ে উচ্চশিক্ষায় দলীয় নিয়ন্ত্রণ কায়েমের প্রতিবাদ করল এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)। রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য ২৩ আগস্ট এক বিবৃতিতে বলেন, গতকাল পশ্চিমবঙ্গের ২৪৭টি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে দলের বিধায়ক ও সাংসদদের বসিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ কায়েমের হীন পদক্ষেপ নিল রাজ্যের বিজেপি সরকার। এই পদক্ষেপ কলেজগুলির স্বাধিকার, গণতান্ত্রিক ও সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মস্ত বাধা হিসেবে দেখা দেবে। জ্ঞান-বিজ্ঞান মনুষ্যত্বের উপর সর্বাত্মক আক্রমণের পরিকল্পনা সর্বনাশা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০কে জবরদস্তি চালু করার পথে এটি একটি স্বৈরাচারী পদক্ষেপ।
এর মাধ্যমে রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল ও সিপিএম ফ্রন্ট সরকারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলবাজির অগণতান্ত্রিক পদাঙ্ক অনুসরণ করল বিজেপি সরকার। শুধু তাই নয়, সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গেল তারা। দেখা যাচ্ছে কোনও দলের সরকারই দলীয় আনুগত্য ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি বা সদস্য হিসাবে কোনও ব্যক্তিকে বিবেচনা করে না। তৃণমূল তো স্কুলের গণ্ডি না পেরোনো দলীয় বিধায়কদেরও বসিয়েছিল কলেজ গভর্নিং বডিতে। এমনকি তারা রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হিসাবে মুখ্যমন্ত্রীকে বসানোর জন্য বিধানসভায় আইন পাশ করিয়েছিল। ফলে সরকারে যে শাসকই আসুক না কেন শিক্ষার উপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ কায়েমের অপচেষ্টা চলছেই। এতে শিক্ষার পরিবেশ ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে, স্বাধিকারের উপর হস্তক্ষেপ চলছেই। শিক্ষাদরদি জনগণ ও ছাত্রছাত্রী-শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি– কলেজগুলির শিক্ষার পরিবেশ ও মান বজায় রাখতে অবিলম্বে দলীয় বিধায়ক ও সাংসদদের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষাবিদদের সভাপতি পদে বহালের ব্যবস্থা হোক। আমরা এই কালা নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানাই।