
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনন্যসাধারণ চরিত্র, প্রবাদপ্রতিম ব্যারিস্টার, বরেণ্য জননায়ক দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ১৯২৫-এর ১৬ জুন। এই মহান মানুষটির জীবনসংগ্রাম চর্চার লক্ষ্যে গত বছরের জুনে কলকাতা হাইকোর্ট ও মুম্বই হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা হাইকোর্টের তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম, বিচারপতি শ্যামল কুমার সেন, বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলী, বিচারপতি শৈলেন্দ্র প্রসাদ তালুকদার, বিচারপতি শংকর আচার্য, বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু প্রমুখ বিশিষ্টজনদের নিয়ে তৈরি হয় সারা বাংলা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুশতবর্ষ উদযাপন কমিটি। কমিটির উদ্যোগে রাজ্য জুড়ে বর্ষব্যাপী নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের বিভিন্ন কোর্ট ও জেলাগুলিতে কমিটি গঠিত হয়। প্রকাশিত হয় দেশবন্ধুর উদ্ধৃতি সংকলন ‘মননে দেশবন্ধু’।

চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুশতবর্ষের সমাপ্তি উপলক্ষে কমিটির উদ্যোগে ৯ মে দার্জিলিংয়ের যে বাড়িতে দেশবন্ধু শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, সেখানে স্মরণ অনুষ্ঠানে মাল্যদান করে বক্তব্য রাখেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, দার্জিলিং জেলা আদালতের মুখ্য বিচারক আশুতোষ কুমার সিং, কমিটির সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত বিচারক অনন্ত কুমার বর্ধন সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, কোচবিহার জেলা আদালতের আইনজীবী দিলীপ কুমার বর্মন। ওই দিন দার্জিলিংয়ে কবি ভানুভক্ত ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের প্রবীণ আইনজীবী শুভ্রাংশু চাকি। বক্তব্য রাখেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, আশুতোষ কুমার সিং। ভারচুয়াল বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চিত্ততোষ মুখার্জী, কমিটির কার্যকরী সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবী পার্থসারথি সেনগুপ্ত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী কার্তিক কুমার রায়। রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে তিন শতাধিক আইনজীবী, শিক্ষক ও সমাজের নানা অংশের নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী মূল অনুষ্ঠানটি হয় গত ১৬ জুন, কলকাতা হাইকোর্টের সেসকুই সেনটিনারি অডিটোরিয়ামে। সভাপতিত্ব করেন পার্থসারথি সেনগুপ্ত। বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু প্রমুখ। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তনপ্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম লিখিত বক্তব্য পাঠান। কমিটির পক্ষ থেকে দেশবন্ধুর নামে কলকাতা হাইকোর্টের হলের নামকরণ ও হাইকোর্টে তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তি প্রতিষ্ঠার দাবি তোলা হয়।