
এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর পলিটবুরো সদস্য এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্য সাংগঠনিক কমিটির সম্পাদক কমরেড রবীন সমাজপতি ২৬ জুন কলকাতার ন্যাশনাল নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে ২৪ জুন ক্যালকাটা হার্ট ক্লিনিক অ্যান্ড হসপিটালে ভর্তি করা হয়। পর দিন অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ন্যাশনাল নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে ২৬ জুন দুপুরে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তাঁর বিপ্লবী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিন দিন কেন্দ্রীয় অফিস সহ দলের সমস্ত অফিসে রক্ত পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং সমস্ত কমরেড কালো ব্যাজ ধারণ করেন। কমরেড রবীন সমাজপতি এক সময় এআইডিএসও-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী ছাত্র তথা গণআন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিশেষ করে এ রাজ্যে প্রাথমিক স্তর থেকে ইংরেজি ও পাশ-ফেল তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে এবং কংগ্রেস সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি১৯৮৬-র প্রতিবাদে দেশব্যাপী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা খুবই উল্লেখযোগ্য ছিল।

ঝাড়খণ্ড সহ অন্যান্য রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গের নানা জেলা থেকে দলের কর্মী সমর্থকদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়। ২৮ জুন বেলা ১১টা নাগাদ রক্তপতাকায় মোড়া তাঁর মরদেহ দলের কেন্দ্রীয় অফিস ৪৮ লেনিন সরণিতে পৌঁছলে দলের নেতা-কর্মী-দরদিরা মাল্যদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। মাল্যদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ, পলিটবুরোর প্রবীণ সদস্য কমরেড অসিত ভট্টাচার্য, পলিটবুরোর অন্যান্য সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, জেলা ও আঞ্চলিক কমিটির সদস্যরাও মাল্যদান করেন। ঝাড়খণ্ড রাজ্য কমিটির নেতৃবৃন্দ ও এআইডিওয়াইও-র ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজ্যের নেতা-কর্মীরা মাল্যদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।
এর পর শুরু হয় শোকমিছিল। মিছিলের শুরুতে দলের পলিটবুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং কমসোমল বাহিনীর অর্ধনমিত রক্তপতাকা সহ দীর্ঘ মিছিল কেওড়াতলা শ্মশানে পৌঁছলে সেখানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
কমরেড রবীন সমাজপতি লাল সেলাম