Breaking News

ক্ষমতায় বসেই স্মার্ট মিটার ও মাশুল বৃদ্ধির কোপ বসাতে চলেছে বিজেপি সরকার

ফাইল ফটো

পালা বদলের পর এক মাসও কাটেনি, শুরু হয়ে গেছে ডাবল ইঞ্জিনের নিষ্পেষণ। ৩০ মে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর রাজারহাটের একটি পাঁচতারা হোটেলে রাজ্যের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে ঘোষণা করলেন, দু-মাসের মধ্যেই স্মার্ট মিটার বসবে এবং বিদ্যুতের দাম বাড়বে।

এই ঘোষণায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংগঠন অ্যাবেকার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস ৩১ মে এক বিবৃতিতে বলেন, স্মার্ট মিটার হল গ্রাহকদের টাকা লুটের যন্ত্র। তিনি বলেন, তৃণমূল আমলে আমরা আন্দোলন করে স্মার্ট মিটার রুখেছি, এ বারও রুখব। তিনি বলেন, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে গৃহস্থে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। গত ২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, ‘স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক নয়, বলপূর্বক কোথাও স্মার্ট মিটার লাগানো হবে না।’

তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত নব নির্বাচিত রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেননি। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী রাজ্যে স্মার্ট মিটার বসানোর কথা বলছেন। গ্রাহকদের মাসে মাসে ১০০ টাকা দিয়ে স্মার্ট মিটারের দাম মেটাতে হবে এবং বিদ্যুতের মাশুল বাড়বে!

সুব্রত বিশ্বাস জোরের সাথে বলেন, বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলির লোকসানের গল্প সম্পূর্ণ মিথ্যা। মাশুল নির্ধারিত হয় ১৬.৫ শতাংশ লাভ রেখেই। তা ছাড়া গত ২০১৬-’১৭ থেকেই কয়লার দাম ৪০ শতাংশ কম, কয়লার উপর জিএসটি ৭ শতাংশ কম এবং বণ্টন কোম্পানির ক্ষতি ২ শতাংশ কম হওয়ার কারণে বিদ্যুতের মাশুল ৫০ শতাংশ কমানো উচিত ছিল। সেটা না কমানোয় প্রতি বছর বণ্টন কোম্পানির শত শত কোটি টাকা মুনাফা হচ্ছে। লোকসানের কথা ওঁরা বললেই মানুষ বিশ্বাস করবে কেন? দ্বিতীয়ত, রাজ্যের গ্রাহকরা এই বিপুল মুনাফা থেকে কোনও সুরাহা পাননি। এখন সংস্কার করার নাম করে আরও মাশুল বাড়ানোর কথা বললেন বিজেপি মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ছিল এক সময় পরিষেবার ক্ষেত্র। একের পর এক কেন্দ্রীয় সরকার একে মুনাফার পণ্যে পরিণত করছে। এই অন্যায় জনসাধারণ মেনে নেবে না। আশ্চর্যের বিষয়, রাজ্যে একটা নির্বাচিত সরকার থাকা সত্ত্বেও এই ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী! প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গ কি একটা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল? সুব্রত বিশ্বাস গ্রাহক কমিটি গড়ে তুলে স্মার্ট মিটার এবং মাশুল বৃদ্ধি আটকানোর জন্য রাজ্যের মানুষের কাছে আহ্বান জানান।