
অল ইন্ডিয়া কিসান-খেতমজদুর সংগঠনের ডাকে ২৮ জানুয়ারি কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হল সমাবেশ। উপস্থিত ছিলেন দু’হাজারেরও বেশি কৃষক ও খেতমজুর। উৎপাদন খরচের দেড়গুণ হারে ফসলের এমএসপি আইনসঙ্গত করা, কৃষিতে বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ সরবরাহ, নয়া বীজ বিল ২০২৫ বাতিল, বিদ্যুৎ বিল ২০২৩ প্রত্যাহার, ভিবিজি-রামজি নামে গ্রামীণ মজুরদের, বিশেষ করে জব কার্ডধারী মজুরদের কাজের অধিকার হরণকারী আইন প্রত্যাহার, জব কার্ডধারী মজুরদের বছরে কমপক্ষে ২০০ দিনের কাজ ও ৬০০ টাকা মজুরি, মধ্য-নিম্ন কৃষকের খেতে জবকার্ডধারীদের ১০০ দিন কাজ করানো, ষাটোর্ধ্ব গরিব কৃষক ও খেতমজুরদের মাসিক ১০ হাজার টাকা পেনশন, সারের ব্যাপক কালো বাজারির বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া, পাট্টাপ্রাপ্ত জমির দ্রুত রেকর্ড করা এবং পাট্টা বাতিল করে জমির মালিকের হাতে ওই জমি ফিরিয়ে না দেওয়া, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত রুখে দেওয়া ইত্যাদি দাবি নিয়ে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশের শুরুতে ২১ জানুয়ারি আশাকর্মীদের উপর যে বর্বর পুলিশে জুলুম চালানো হয়েছে তার নিন্দা করে প্রস্তাব উত্থাপিত হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। তা ছাড়া ২৭ জানুয়ারি রাত্রে নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদে মোমো কারখানায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে মৃত শ্রমিকদের প্রতি শোক জ্ঞাপন করে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং নিহত ও আহত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।
প্রধান বক্তা এআইকেকেএমএস-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড শঙ্কর ঘোষ বলেন, শ্রেণি চেতনার ভিত্তিতে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে এই সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে মানুষকে মুক্ত করা যায়। এটাই মহান নেতা কমরেড শিবদাস ঘোষের শিক্ষা। দিল্লির ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের দৃষ্টান্ত তিনি উল্লেখ করেন। বলেন, নির্বাচন আসবে, সরকার পরিবর্তন হবে কিন্তু মূল সমস্যা সমাধান হবে না। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার অতীতের কংগ্রেস সরকারের মতো চাষিদের প্রতিশ্রুতি দিয়েও দাবি মানেনি, এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বর্তমান রাজ্য সরকার ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সারের কালোবাজারি চলতে দিচ্ছে। চাষিরা দ্বিগুণ দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছে। রাজ্য সরকার ধান চাষিদের কাছ থেকে নামেমাত্র পাঁচ কুইন্টাল ধান কিনছে অথচ প্রত্যেক ধান চাষির কাছ থেকে কেনার কথা কমপক্ষে ৩০ কুইন্টাল। রাজ্যে রাজ্যে কৃষকদের উচ্ছেদ করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কৃষি জমি দখল করে কর্পোরেট কোম্পানির হাতে তুলে দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে কৃষকরা লড়াই গড়ে তুলছে। তাই চাই শ্রমিক কৃষকের ঐক্যবদ্ধ লড়াই। সমাবেশে আন্দোলন সংক্রান্ত এক প্রস্তাব উত্থাপন করে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক গোপাল বিশ্বাস সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। সভায় সংগঠনের ঝাড়খণ্ড রাজ্য সম্পাদক কমরেড কুমুদ মাহাতো বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি কমরেড পঞ্চানন প্রধান।