Breaking News

আমরা বিপ্লবী কর্মী এই জন্যই, যাতে জনতাকে তার দুঃসময়ে সব চেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারি — শিবদাস ঘোষ

বর্তমানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যে হতাশা, সাধারণ মানুষের মধ্যে যে হতাশা, তার একটা প্রভাব কর্মীদের একাংশের, এমনকি ভাল কর্মীদের একাংশের মানসিকতার মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে। মুখে তারা না বললেও, তাদের কাজে-কর্মে এক ধরনের জড়তা দেখা যাচ্ছে। এটা বিপ্লবী কর্মীদের হওয়া ঠিক নয়। আমরা তো বিপ্লবী কর্মী এই জন্যই, যাতে জনতাকে তার দুঃসময়ে সব চেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারি।

জনতা হতাশায় ভুগছে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীরা হতাশায় ভুগছে, এটা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশীদার মানুষগুলোর পক্ষে সবচেয়ে দুঃসময়। এই দুঃসময়ে বিপ্লবী দলের কর্মীদেরই সবচেয়ে বেশি নিরলস ভাবে কাজ করে তাদের সাহায্য করা দরকার, নিজেদের উদ্যোগ বাড়ানো দরকার। গাড়ি যখন খুব স্বাভাবিকভাবেই জোরে চলে, তখন শুধু স্টিয়ারিংটা ধরে রাখলেই হয়। কিন্তু গাড়ি যখন ঠিকমত চলে না, তখনই দরকার হয় পরিশ্রম ও সতর্কতার। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রশ্নে, জনসাধারণের মানসিকতার প্রশ্নেও কথাটা একই। পরিস্থিতি যত প্রতিকূল, বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মীদের পরিশ্রম, সক্রিয়তা, উদ্যোগ হবে তত বেশি। না হলে প্রতিক্রিয়াবাদীদের ষড়যন্ত্রই সফল হবে। যদি আমরা সত্যই বিশ্বাস করি যে, মানুষ মার খেয়েও বারবার লড়াইয়ের ময়দানে আসবে, কিন্তু ততদিন তা বারবার বিফলতায় পর্যবসিত হবে, নানা রাজনৈতিক দল মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে নিজেরা রাজা-উজির হয়ে সাময়িক স্বার্থ গুছিয়ে নেবে, হতাশা মানুষকে গ্রাস করবে, যতদিন পর্যন্ত না মানুষের এই আন্দোলনগুলোকে, লড়াকু মানুষগুলোকে সঠিক পথে চালনা করে সঠিক পরিণতিতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যোগ্য নেতৃত্বদানকারী পার্টি এস ইউ সি আই (সি)-র শক্তিবৃদ্ধি ঘটে। এ যদি আমাদের কর্মীরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, তা হলে আজকের এই হতাশার মুখে তাঁদের আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে কাজ করার কথা। শুধু কর্মীরাই নয়, যাঁরা পার্টির সমর্থক, দরদি, যাঁরা সব সময় সক্রিয় কর্মীদের মতো কাজ করতে পারেন না, তাঁদেরও মানসিকতাটা হবে– আমাদের সংসার ও অন্য পাঁচটা দায়দায়িত্ব পালন করার পরও যতটুকু কাজ আমরা করতে পারি, আর্থিক, কায়িক যে ভাবে যতটুকু মদত পার্টির কর্মকাণ্ডে আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব, তাতে আমরা ‘না’ বলব না, আমরা তা করব। এটা না হয়ে সমাজের মধ্যকার হতাশা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যকার হতাশা যদি কর্মীদের, নেতাদের বা নেতৃস্থানীয় কর্মীদের মানসিকতাকে খানিকটা আচ্ছন্ন করে এবং গতানুগতিকতার রোগে ধরে, তা হলে আমরা কী ভাবে সমস্যার মোকাবিলা করব?

সূত্রঃ বৈজ্ঞানিক দ্বন্দ্বমূলক বিচারপদ্ধতিই মার্ক্সবাদী বিজ্ঞান– কমরেড শিবদাস ঘোষ