Breaking News

এসএসকেএম-এ কেবিন ভাড়া দৈনিক ১৫ হাজার! তীব্র প্রতিবাদে মেডিকেল সার্ভিস সেন্টার

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নতুন উডবার্ন-২ ব্লক উদ্বোধন করেছেন। সেখানে থাকবে দৈনিক পাঁচ হাজার, আট হাজার, বারো হাজার, ১৫ হাজার টাকার কেবিন এবং স্যুট। তাতে কোনও গরিব খেটে খাওয়া নিম্নবিত্ত মানুষ তো দূরের কথা, মধ্যবিত্তরাও ঢোকবার সাহস করবে না! যে এসএসকেএম হাসপাতালে একটা বেডের জন্য মানুষ দিনের পর দিন হত্যে দিয়ে পড়ে থাকে, দালাল ধরতে বাধ্য হয়, সেখানে সরকারি কোষাগারে টাকা রোজগারের জন্য এমন ফাইভ স্টার হাসপাতাল বানাতে মুখ্যমন্ত্রীর এত উৎসাহ কেন? আসলে অন্য শাসক দলগুলোর মতোই তৃণমূল কংগ্রেসও স্বাস্থ্যকে কেনাবেচার পণ্য হিসেবেই দেখে। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত রোজগার থেকে যে ট্যাক্স সরকার পায় সেই টাকা কি শুধু নেতা-মন্ত্রীদের বিলাস-ব্যসন ও দুর্নীতির খাতে ব্যয় হবে বলেই মুখ্যমন্ত্রী পণ করেছেন! পূর্বতন সিপিএম ফ্রন্ট সরকার পিপিপি মডেল চালু করে এবং সরকারি হাসপাতালে চার্জ ধার্য করার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের বেসরকারিকরণের দরজা খুলে দিয়েছিল। সেই সময় এস ইউ সি আই (সি) দল এবং বিভিন্ন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। আন্দোলনের চাপে কোথাও কোথাও কর্তৃপক্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্যও হয়েছিল।

এখন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার এসএসকেএম-এর মতো সরকারি হাসপাতালে দু-ধরনের চিকিৎসাব্যবস্থা চালু করছে।

এটা ‘ফেল কড়ি মাখো তেল’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ। টাকার জোর থাকলে তবেই উন্নত ফাইভস্টার চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। সাধারণ মানুষের টাকায় তৈরি স্বাস্থ্যপরিকাঠামোতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সুযোগ থাকবে না। তা ধনীদের কাছে বেচতে সরকার সুকৌশলে ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।প্রশ্ন হল, এটা কী করে সম্ভব যে, একই ডাক্তার সকালে আউটডোরে শত শত রোগীকে এক-দু মিনিটে দেখবেন, আবার তিনিই ওই হাসপাতালে বসেই বেলা তিনটের পর ৩৫০ টাকা ভিজিটে বেশি সময় ধরে রোগী দেখবেন? এই ভাবে কি একজন ডাক্তারের পক্ষে দুই ক্ষেত্রে একই মানের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব? পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যেটুকু গরিব ও সাধারণ মানুষের পরিসর ছিল তাও এ ভাবে ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাবে। এমনিতেই বর্তমানে চিকিৎসায় এত বিপুল খরচ যে, বহু মধ্যবিত্ত মানুষ ঘটি বাটি বেচেও চিকিৎসা চালাতে পারছেন না। তাদের কী হবে? সরকারি কর্তারা বলছেন সরকারের টাকা কোথায়? কিন্তু টাকা যদি নাই থাকে তবে হরেক মেলা, ক্লাবের অনুদান, পুজোর অনুদানের মতো খাতে অপ্রয়োজনে কোটি কোটি টাকা কিংবা দুর্নীতিতে কোটি কোটি টাকা চলে যায় কীভাবে? আসল কথা, স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বেচাকেনার পণ্যে পরিণত করার জন্য কর্পোরেট মালিকদের থেকে ঠিকা নিয়েছে সরকার এবং শাসক দল।

গভীর উদ্বেগের বিষয় এই উডবার্ন ২ যে বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে, সেই সংস্থার ফেসিলিটি ম্যানেজার পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে দীর্ঘদিন মহিলা এমনকি পুরুষ কর্মীদেরও যৌন নির্যাতনের জন্য অভিযুক্ত। যেখানে এই কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করা জরুরি ছিল, তাকেই আবার বরাত দেওয়া হল! কার স্বার্থ এখানে জড়িত?

এর তীব্র প্রতিবাদ করেছেন মেডিকেল সার্ভিস সেন্টারের রাজ্য সম্পাদক ডাঃ বিপ্লব চন্দ্র। তিনি বলেন, রাজ্য জুড়ে এবং দেশের সর্বত্র স্বাস্থে্যর উপরে কর্পোরেটদের মুনাফার দৃষ্টি। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সমস্ত মানুষকে আহ্বান, এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলুন এবং ‘স্বাস্থ্য আপনার অধিকার’– এই দাবিকে প্রতিষ্ঠা করুন।