
অল ইন্ডিয়া জন অধিকার সুরক্ষা কমিটির আহ্বানে ৯ জুন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে গভীর শ্রদ্ধার সাথে ছোটনাগপুরের ব্রিটিশবিরোধী আদিবাসী কৃষক বিদ্রোহ উলগুলানের অবিসংবাদী নেতা বিরসা মুণ্ডার ১২৭তম শহিদ দিবস পালিত হয়। পূর্বে ত্রিপুরা থেকে পশ্চিমে গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্যে গভীর শ্রদ্ধার সাথে দিনটি পালিত হয়। সাধারণ সম্পাদক বিসম্বর মুড়া ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে বিরসা মুণ্ডা পার্কে বিরসা মুণ্ডার মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। সাথে সাথে ওই পার্কে অবস্থিত রাঁচির পুরনো জেল, বর্তমানে যেটা বিরসা মুণ্ডা সংগ্রহালয়, সেখানে যে ঘরে বিরসা মুণ্ডা শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন, সেখানে অবস্থিত মূর্তিতেও মাল্যদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।
উপস্থিত ছিলেন শহিদ বিরসা মুণ্ডা ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা প্রাক্তন ভিসি ডঃ সত্যনারায়ণ মুণ্ডা, ডঃ এস পি এম এবং নয়ন গোপাল সিং। ছিলেন কমিটির অফিস সম্পাদক প্রকাশ মাহাতো এবং সদস্য বৈদ্যনাথ হেমব্রম ও ডঃ অজিত মুণ্ডা। অল ইন্ডিয়া জন অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি শম্ভুনাথ নায়েক ওড়িশার যোশিপুরে এক অনুষ্ঠানে বিরসা মুণ্ডার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন।
সংগঠনের ঝাড়খণ্ড রাজ্য কমিটির সভাপতি পালমনি সিং মুণ্ডা ঘাটশিলার মৌভাণ্ডারে শহিদ বিরসা মুণ্ডার মূর্তিতে মাল্যদান করেন। ত্রিপুরার আগরতলাতে বিরসা মুণ্ডার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করার মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাটনায় শহিদ বিরসা মুণ্ডার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানী শহরে, জেলা শহরে এবং বহু গ্রামে-গঞ্জে শহিদ দিবস পালিত হয়। মধ্যপ্রদেশ রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে এক অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বক্তব্য রাখেন ডঃ সত্যনারায়ণ মুণ্ডা, প্রদীপ আর. বি. প্রমুখ। পশ্চিমবঙ্গে অনলাইন সেমিনারে বক্তব্য রাখেন যাদবপুর ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডঃ বুদ্ধদেব ওরাওঁ এবং কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিসম্বর মুড়া, ভানুমতী সিং প্রমুখ সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সান্তালি সাহিত্যিক সারদা প্রসাদ কিস্কু। বক্তারা বলেন, বর্তমানে লক্ষ লক্ষ গাছ কেটে জঙ্গল ধ্বংস করা হচ্ছে। যার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। আরাবল্লী পর্বতের মতো দীর্ঘ এক পর্বত শ্রেণি যেটা মরুভূমিকে পূর্ব দিকে এগিয়ে আসার বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, তাকেও ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চলছে। এই সমস্ত ধ্বংসের বিরুদ্ধে সর্বত্র আন্দোলন গড়ে উঠছে। আদিবাসী, চিরাচরিত বনবাসী এবং জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল গরিব শোষিত মানুষ জীবন দিয়ে যেমন লড়াই করছেন, সাথে সাথে পরিবেশ সচেতন নাগরিক, পরিবেশবিদ, পরিবেশ বিজ্ঞানীরাও এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। আমাদের এই সমস্ত লড়াইকে এক সূত্রে গেঁথে একটি সংগঠিত শক্তিশালী প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আন্দোলনের পথেই বিরসা মুণ্ডার যথার্থ উত্তরসূরি হতে হবে।
দাবি ওঠে– উন্নয়নের নামে হাজার হাজার হেক্টর জঙ্গল ধ্বংস করে কল কারখানা নির্মাণ, খোলামুখ খনি, বৃহদায়তন ড্যাম, যোগাযোগের করিডোর, পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রভৃতি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টকারী প্রকল্প রূপায়ণ বন্ধ করতে হবে। অরণ্যের রক্ষক আদিবাসীদের জঙ্গল ধবংসকারী তকমা দিয়ে উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে। অরণ্যের অধিকার আইন-২০০৬ সম্পূর্ণ রূপে কার্যকর করতে হবে। পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প তৈরি ও রূপায়ণ করতে হবে। বন সংরক্ষণ বিধি-২০২২ প্রত্যাহার করতে হবে। বন (সংরক্ষণ) সংশোধিত আইন-২০২৩ বাতিল করতে হবে।