Breaking News

মালিকী শোষণ আরও নির্মম করতেই শ্রম কোড

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সর্বনাশা শ্রম কোড চালুর প্রতিবাদে এসপ্ল্যানেডে লেনিন মূর্তি মোড়ে এআইইউটিইউসি-র বিক্ষোভ। ২২ নভেম্বর

সমস্ত গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং আইনকে অস্বীকার করে অগণতান্ত্রিক উপায়ে কেন্দ্রীয় সরকার গত ২১ নভেম্বর মালিক শ্রেণির স্বার্থে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ৪টি শ্রমকোড চালু করেছে। এআইইউটিইউসি সহ বেশিরভাগ ট্রেড ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে এর বিরোধিতা করা সত্ত্বেও সরকার সমস্ত পক্ষকে নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। কোনও কোনও রাজ্য সরকারও এর বিরোধিতা করছে। কেন্দ্র আইএলও-র পরামর্শ মেনে শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সহমতের ভিত্তিতে শ্রম আইন পরিবর্তনের নিয়মকে মানেনি। ভারতীয় শ্রম সম্মেলন (আইএলসি)-এর আয়োজন করছে না কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতীয় শ্রম সম্মেলনকে পর্যন্ত এড়িয়ে শ্রমকোড চালু করা হয়েছে। এর তীব্র বিরোধিতা করে শ্রমিক সংগঠন এ আই ইউ টি ইউ সি-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর দাশগুপ্ত ২২ নভেম্বর এক বিবৃতিতে বলেন, এই শ্রমকোড চালুর ফলে স্থায়ী চাকরি ব্যাপকভাবে কমবে। একচেটিয়া পুঁজির মালিকদের ব্যবসার সহজ পরিবেশের নামে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি সাধারণ মানুষের ওপর যে ফ্যাসিস্ট আক্রমণ নামিয়ে আনছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য শ্রমিক সংগঠনগুলির দীর্ঘ সংগ্রামে অর্জিত বহু অধিকার এই শ্রমকোডের মধ্য দিয়ে ব্যাপকভাবে হরণ করা হবে। শ্রমিক শোষণ, বঞ্চনা আরও মারাত্মক হবে। চাকরি প্রত্যাশী বিরাট অংশের মানুষের দুর্দশা বাড়বে। বেকারত্বের হার ভয়াবহ ভাবে বাড়বে। এর বিরুদ্ধে তিনি দেশব্যাপী প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন।

শ্রমকোড চালুর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবিতে এআইইউটিইউসি-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল, শ্রমকোডের প্রতিলিপি পোড়ানো ও রাজ্যপালের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি এ এল গুপ্তা, রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এসপ্ল্যানেডে লেনিন মূর্তির মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। শ্রমকোডের প্রতিলিপিতে অগ্নিসংযোগ করেন রাজ্য সভাপতি কমরেড এ এল গুপ্তা। রাজ্যপালের কাছে রাজ্য সম্পাদক অশোক দাসের নেতৃত্বে কমরেড গৌরীশঙ্কর দাস, কমরেড দীপক চৌধুরী, কমরেড প্রবীর দে স্মারকলিপি দেন। দাবি করা হয় অবিলম্বে শ্রম কোড চালুর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে এবং অবিলম্বে শ্রম সম্মেলন ডেকে শ্রমিকদের বক্তব্যকে গ্রহণ করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন যুগ্ম ভাবে ২৬ নভেম্বর প্রতিবাদ দিবস পালনের ডাক দেয়। কর্মক্ষেত্রে প্রতিবাদী ব্যাজ পরা, গেটমিটিং, পথসভা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি সর্বত্র পালিত হয়। ২২ নভেম্বর এআইইউটিইউসি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে এসপ্ল্যানেডে শ্রমিক বিক্ষোভ হয় এবং কালা শ্রম কোড বাতিলের দাবিতে শ্রমিকরা সোচ্চার হন।