
বামপন্থী দলগুলি এখন বিজেপির আক্রমণের নিশানা হয়ে উঠেছে। ২৯ জুলাই ভোর ৩টায় জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে দিতে একদল বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতী লোহার রড ও শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর কোচবিহার জেলা দফতরে ঢুকে আলমারি, চেয়ার, টেবিল, পাখা, মনীষীদের ছবি ভাঙচুর করে, বই সহ কাগজপত্র ছিঁড়ে তছনছ করে এবং আলমারি থেকে দলের বই বিক্রির প্রায় ১০ হাজার টাকা লুঠ করে। এর আগে ২৫ জুলাই দুপুরে ৪০-৫০ জন দুষ্কৃতী বিজেপি নেতা শিবশংকর সাহার নেতৃত্বে দলের মাথাভাঙা অফিস ভাঙচুর করে এবং ২৪ জুলাই কোচবিহার স্টেশনের কাছে এআইডিএসও-র বুকস্টল ভেঙে দেয়। একই দিনে তারা অন্য বামপন্থী দলের অফিসেও আক্রমণ চালায়। দলের পক্ষ থেকে থানায় এফআইআর করা হয় এবং জেলার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়।
রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য এবং জেলা সম্পাদক শিশির সরকার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। ২৯ জুলাই এক বিবৃতিতে রাজ্য সম্পাদক বলেন, ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি দুষ্কৃতীরা জেলা জুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে এবং পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা নিচ্ছে। সরকার ঘোষিত আইনের শাসন এবং গুন্ডা দমনের ঘোষণা প্রহসন মাত্র। বাস্তবে বিজেপির বিভিন্ন জনবিরোধী নীতি ও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন গড়ে তুলছি এবং আদর্শগতভাবে তাদের হিন্দুত্ববাদী এবং সাম্প্রদায়িক নীতির বিরোধিতা করছি বলেই এই আক্রমণ।
ডিজিপি-কে ডেপুটেশন
৩০ জুলাই প্রাক্তন সাংসদ ও রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ডাঃ তরুণ মণ্ডল, প্রাক্তন বিধায়ক ও রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ডঃ তরুণকান্তি নস্কর, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ডাঃ মৃদুল সরকার, রাজ্য কমিটির সদস্য অজয় চ্যাটার্জী ভবানী ভবনে ডিজিপি (আইন শৃঙ্খলা) অজয় রানাডের সঙ্গে দেখা করে হামলা বন্ধের দাবি জানান। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তাদের দুষ্কৃতীরা যে ভাবে হাওড়া ও কোচবিহার এই দুই জেলায় পার্টি অফিস ভাঙচুর করল, ছাত্র সংগঠনের বুকস্টল ভাঙল– সেই× সব ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করা হয়।
নাগরিক কনভেনশন
কোচবিহারের সাহিত্য সভা হলে ৩ আগস্ট এক নাগরিক কনভেনশনে জেলা জুড়ে বামপন্থী দলের কার্যালয় ভাঙচুর, ছাত্রাবাসে আক্রমণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান আঘাতের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। জেলার বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ নাগরিকরা সোচ্চার হন।

সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক নীহার কুমার হোড়। মূল প্রস্তাব পাঠ করেন বিশিষ্ট আইনজীবী দিলীপ চন্দ্র বর্মন। কনভেনশনে এসইউসিআই(সি), সিপিএম ও ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা ও মহকুমা দপ্তরে সশস্ত্র হামলা, আসবাবপত্র ভাঙচুর ও নথিপত্র তছনছ করার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। এআইডিএসও-র বুকস্টল ভাঙচুর ও ‘যুবশক্তি’ পত্রিকার কর্মসূচিতে বাধার ঘটনাকে ফ্যাসিস্ট আচরণ বলে অভিহিত করা হয়। আক্রমণের ছবি নিয়ে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। আচার্য বি এন শীল কলেজ হোস্টেলে হামলা এবং ছাত্র মিছিলে বাধা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়। বিধানসভার স্পিকারের নিজের জেলায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করায় বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অধ্যাপক তমোজিৎ রায়, অসিত দে (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক), পার্থ সরকার-সিপিআই, যশোদা রঞ্জন সরকার (ফরোয়ার্ড ব্লক), মুকুল বর্মন সিপিআই(এমএল) লিবারেশন, ইউসুফ আলি (যুবনেতা), সৌম্যদীপ সরকার (ছাত্রনেতা), আব্দুর রউফ আমেদ (জেলা সম্পাদক, মানবাধিকার সংগঠন সিপিডিআরএস), অরিজিৎ কুমার মজুমদার (কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশনের বিশিষ্ট আইনজীবী) প্রমুখ।
কনভেনশনে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।