
অল ইন্ডিয়া সেভ এডুকেশন কমিটির উদ্যোগে ২০ জুলাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন মেমোরিয়াল হলে জাতীয় শিক্ষানীতির সর্বনাশা রূপ এবং শিক্ষার কেন্দ্রীয়করণের ফলে নিট, সিইউইটি প্রবেশিকা পরীক্ষায় দুর্নীতি বিষয়ক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহ উপাচার্য সিদ্ধার্থ দত্ত বলেন, কোনও পরিকাঠামো না তৈরি করে চার বছরে ডিগ্রি কোর্স চালু করার ফলে উচ্চশিক্ষা বিপর্যস্ত হয়েছে। ইউজিসি, এআইসিটিই, এনসিটিই একীভূত করার ফলে পেশাগত শিক্ষা সমস্যার সম্মুখীন।
এআইফুকটো-র সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি শিক্ষার বেসরকারিকরণ ও ব্যবসায়ীকরণের দরজা খুলে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে শিক্ষার স্বাধিকার বিপন্ন হয়েছে।
ভাটনগর পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী অধ্যাপক সৌমিত্র ব্যানার্জী বলেন, ভারতীয় জ্ঞানপরম্পরার নামে ইতিহাস বিকৃত করা ও বৈদিক অঙ্কশাস্ত্রের নামে অবৈজ্ঞানিক সিলেবাস চালু করা হচ্ছে।
অধ্যাপক রতন খাসনবিশ বলেন, বিগত সরকার চার বছরের ডিগ্রি কোর্স চালু করে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে।
তামিলনাড়ুর আন্না ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এস এইচ থিলাগড় বলেন, ত্রিভাষা নীতিতে দুটো বাধ্যতামূলক ভারতীয় ভাষা শেখানো আসলে হিন্দি চাপানোর অপকৌশল মাত্র।
ইনসা বিজ্ঞানী ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় ‘অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ তৈরি করে গবেষণার উপর সরকারি হস্তক্ষেপের নিন্দা করেন।
অধ্যাপক তরুণকান্তি নস্কর বলেন, প্রতিযোগিতামূলক ও প্রবেশিকা পরীক্ষা কেন্দ্রীকরণের ফলে সমগ্র ভর্তি প্রক্রিয়া কোচিং মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়েছে। এতে মেধাসম্পন্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা বঞ্চিত হচ্ছে। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণের দাবি করেন তিনি।
সভার সভাপতি অধ্যাপক চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বাতিল করে সারা ভারত সেভ এডুকেশন কমিটি প্রণীত বিকল্প শিক্ষানীতি ২০২৬ চালু করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভার শুরুতে সারা বাংলা সেভ এডুকেশন কমিটির সম্পাদক ডঃ মৃদুল দাস ২০ জুলাই যন্তর-মন্তরে নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদের উপর পুলিশি নির্যাতন ও অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে জবরদস্তি তুলে নিয়ে যাওয়ার নিন্দা করেন।
সভার শেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল ৮বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যায়।