
২০২৪-এ লোকসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়াকে পুষিয়ে নিতে বিজেপি উঠে পড়ে লেগেছে সাংসদ কেনার কাজে। ভারতের সংসদীয় ব্যবস্থা যে রকম খোলাখুলি এমপি-এমএলএ কেনা-বেচার হাটে পরিণত হয়েছে তার উদাহরণ সারা বিশ্বে আর দ্বিতীয়টি মিলবে কি না সন্দেহ আছে। এক দিকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের এমএলএ-এমপি ভাঙানো, অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা, উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী দল, ঝাড়খণ্ডে জেএমম, কংগ্রেস ইত্যাদি ভাঙার কাজ করেই চলেছে কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি। কিছুদিন আগে দুর্নীতির তদন্তের চাপ দিয়ে বিজেপি কিনেছে আপ-এর সাত রাজ্যসভা সাংসদকে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের ৮০ জন এমএলএ-র মধ্যে অন্তত ৬০ জন বিজেপির বদান্যতায় শাসক দল পোষিত বিরোধী হয়ে বসেছেন। অথচ এ রাজ্যে বিজেপিকে মানুষ চেয়েছে বলে তারা জেতেনি। তৃণমূল কংগ্রেসের চুরি দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া তীব্র জনরোষের সামনে অন্য শক্তিশালী বিরোধী না থাকার সুবিধা পেয়েছে বিজেপি। এ ক্ষেত্রে আরও একটা বিষয় স্মরণে রাখতে হবে, নির্বাচন কমিশনের সাহায্যে অ্যাডজুডিকেটেড নাম দিয়ে ২৭ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে ভোট করা, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনকে কব্জা করা ও দলীয় কাজে লাগানো এবং সব শেষে ভোট গণনার দিনে কিছুটা বেলা বাড়তেই বহু গণনা কেন্দ্র থেকে বিরোধী দলের এজেন্টদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় জোর করে বের করে দেওয়াও এই জয়ে বিজেপির অন্যতম হাতিয়ার হয়েছে। তৃণমূল বিরোধী জনরোষের জোরেই যে তাঁরা জিতেছেন, সে কথা মাথায় রেখে বিজেপির রাজ্য সভাপতি প্রথমে বলেছিলেন, তৃণমূলের কোনও নেতাকে এখন তাঁরা দলে নেবেন না। পরে তাঁরা আনলেন ‘ভাল তৃণমূল’ ও ‘খারাপ তৃণমূল’ তত্ত্ব। পরে অবশ্য খারাপ তৃণমূল বেশি মিলছে না! ভাল তৃণমূলরাই বিরোধী আসনে শাসক বিজেপির গা ঘেঁষে বসছেন। অবশ্য মানুষের জানা নেই, ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে গলা ফাটানো এই বিধায়করা ঠিক কবে থেকে অনুভব করা শুরু করলেন যে তাঁদের দলটি বহু দুর্নীতি করেছে এবং গণতান্ত্রিক রীতি নীতি মেনে চলছে না! তাঁরা ভোট গ্রহণের আগে, নিদেনপক্ষে ৪ মে ভোট গণনার আগেও কথাগুলো বোধহয় ভেবে উঠতে পারেননি! দুর্নীতিগ্রস্ত দলের এই ‘স্বচ্ছ’ বিধায়কদের তথাকথিত ‘গঠনমূলক বিরোধিতা’র কথা শুনে বেশ বোঝা যাচ্ছে, এখন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শাসকও বিজেপি, বিরোধীও বিজেপি পোষিত!
এ দিকে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন প্রতিনিধির ২০ জনই বিজেপির হাত ধরে এনডিএ জোটের যে দলে যোগ দিয়েছেন তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে তাঁরা একদিন আগেও কিছুই জানতেন না। এমনকি সেই এনসিপিআই দলের প্রতিষ্ঠাতাই জানতেন না এত সাংসদ তাঁদের দলের ‘নীতি আদর্শে’ একেবারে সম্পৃক্ত হয়ে বসেই আছেন, শুধু ঢুকে পড়ার অপেক্ষা! তৃণমূল কংগ্রেস দলটির যা সংস্কৃতি তাতে সরকারি ক্ষমতার স্বাদ-বঞ্চিত কাউকে এখন সে দলে ধরে রাখা মুশকিল। সরকারে বসার আগে তাঁরা যখন কিছুটা হলেও আন্দোলনে ছিলেন তখন তাদের জনগণের সমস্যা নিয়ে, কিছু নীতি-আদর্শের বিষয়ে মাথা ঘামাতে হত। কিন্তু পুঁজিপতি শ্রেণির সেবাদাস হিসাবে সরকারে বসলে যে কোনও দলই নীতি-আদর্শ, জনমুখী দৃষ্টি হারাতে বাধ্য। তখন দুর্নীতি ও স্বৈরাচারই তাদের বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। যে কারণে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা মাত্রই দিশাহারা এই দলের কাছে এখন রাজনৈতিক লক্ষ্য বা কোনও নীতি-আদর্শ নয়, টাকা ও সুযোগ সুবিধার ভাগ-বাঁটোয়ারাই মূল মাথাব্যথার বিষয়। কাজেই এই দলের সাংসদ-বিধায়কদের কিনতে বিজেপির বিশেষ অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এ জন্য টাকা, নাকি দুর্নীতির তদন্ত থেকে মুক্তি, কিংবা মন্ত্রিত্ব বা সুযোগ-সুবিধা, কার ক্ষেত্রে কোন মন্ত্র কাজে লেগেছে তা বিজেপির শীর্ষ নেতারা এবং এই সব সাংসদ-বিধায়করাই ভাল জানেন। কিন্তু এদের সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন বিজেপির যে সব সমর্থক এবং বহু সাধারণ মানুষ, তাদের সামনে দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসনের কোন উদাহরণ তৈরি করছেন বিজেপির কর্তারা?
রাজ্য জুড়ে এখন তৃণমূল নেতাদের দেখলেই ডিম ছোঁড়ার পালা সংগঠিত করছে বিজেপি। প্রচার করছে ‘জনরোষ’ হিসাবে। কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হল তৃণমূলের নেতারা বিজেপির শরণ নিলেই তাঁদের প্রতি আর তথাকথিত জনরোষ দেখা যাচ্ছে না! বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিন’ পরিচয়টা আরও একবার সামনে আসছে। যে কোনও দলের দুর্নীতিগ্রস্তরা বিজেপিতে ভিড়ে গেলেই ‘শুদ্ধ’ হয়ে যায়! অমিত ক্ষমতাশালী সিবিআই, ইডি ইত্যাদি এজেন্সি তখন আর তাদের দেখতেই পায় না! পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি মন্ত্রিসভার একেবারে শীর্ষ থেকে নানা স্তরে তার নমুনা আছে। প্রাক্তন তৃণমূল নেতারা যেমন ক্যামেরার সামনে টাকা নিয়েও বিজেপির সম্পদ বনে যেতে পারেন, তেমনই চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে জেল খাটা সাংসদও ভাল তৃণমূল হয়ে বিজেপির সঙ্গী হয়ে যেতে পারেন অক্লেশে। প্রশ্ন হচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রস আদর্শগতভাবে দেউলিয়া ও দুন¹তিগ্রস্ত দল নিঃসন্দেহে কিন্তু বিজেপি কী? সারা ভারতেই কংগ্রেস, আপ, এনসিপি ইত্যাদি দলের চরম দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতা-মন্ত্রী-সাংসদদের আশ্রয়স্থল হয়েছে বিজেপি। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর এক নেতার অভিযোগ– সাংসদ পিছু ৫০ কোটি টাকা ঢালছে বিজেপি। তৃণমূলের এক সাংসদ আবার তাদের দলের সাংসদদের বিক্রি হওয়ার দাম আরও বেশি বলেছেন। কেন্দ্রে ক্ষমতায় বসার আগে বিজেপি নিজেদের সম্বন্ধে বলত ‘পার্টি উইথ এ ডিফারেন্স’। এখন তাদের কী বলা হবে– ‘পার্টি টু অ্যাকমোডেট অল করাপ্টস’, অর্থাৎ সব দলের দুর্নীতিগ্রস্তদের নিশ্চিত আশ্রয়স্থল? বিজেপির অভিভাবক আরএসএস, যারা নিজেদের হিন্দু ধর্মের রক্ষক বলে দাবি করে এবং ‘ভারতীয় নীতি-নৈতিকতা’ নিয়ে অনেক বাণী দেয়, তারাও বিজেপির এই ‘ওয়াশিং মেশিন’ ভূমিকায় কোনও আপত্তি করেনি। সরকারি ক্ষমতা, পুঁজিপতিদের আশীর্বাদী টাকার থলি যেখানে প্রবল শক্তিতে দণ্ডায়মান সেখানে অন্য বিগ্রহের চেয়ে তার আকর্ষণই বেশি, এটাই তাদের আসল ধর্ম, এটাই তাদের নৈতিকতা!
কিন্তু বিজেপির এত সাংসদ কেনার প্রয়োজন পড়ছে কেন? গত লোকসভা নির্বাচনে অনেক কায়দা কসরত করেও বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। কিন্তু সংবিধান সংশোধন করে এক দেশ এক ভোট চালু করা, লোকসভা আসনের পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন করে হিন্দি বলয়ে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে নিজেদের ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করতে হলে সংসদে তাদের এখন এই গরিষ্ঠতা দরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে অধিকাংশ ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করে একচেটিয়া কর্পোরেট পুঁজি মালিকদের স্বার্থে যথেচ্ছ আইন চালু করার জন্যও তাদের শক্তি বাড়ানো প্রয়োজন। ধনকুবেরদের বিপুল মুনাফার ব্যবস্থা করে দেওয়া, শ্রমিকের সমস্ত অর্জিত অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের মালিকের গোলামে পরিণত করা, কৃষকদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কর্পোরেটদের স্বার্থে কৃষিকে বৃহৎ পুঁজির হাতে তুলে দেওয়া তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন। এই কাজটা করার শর্তেই বিজেপির পিছনে টাকা ঢালছে টাটা, আম্বানি, আদানিদের মতো একচেটিয়া পুঁজিমালিক ধনকুবের গোষ্ঠীরা। কিন্তু ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে সাংসদ কিনে তা পুষিয়ে নেওয়াটাই যদি গণতন্ত্র হয় তাহলে আর ভোটের কী দরকার? সংবিধান সংশোধন নিয়েই বা মাথা ঘামিয়ে কী হবে? টাকার জোর থাকলেই যখন সাংসদ-বিধায়ক কিনে সংবিধান পাল্টে ফেলা এত সহজ– গণতন্ত্রের ভড়ংটা আর রেখে লাভ কী?
আজকের দুনিয়ায় পুঁজিবাদের তীব্র বাজার সংকটের মধ্যে ঘটে চলেছে পুঁজির বিপুল কেন্দ্রীভবন। একচেটিয়া পুঁজির দাপটের সামনে মাঝারি এবং ছোট পুঁজি প্রতিযোগিতায় দাঁড়াতে না পেরে আত্মসমর্পণ করছে সর্বত্র। হয় তারা সর্বস্ব হারাচ্ছে, না হয় বড় পুঁজির এজেন্টে পরিণত হচ্ছে। পুঁজিবাদের মধ্যে এই যে দ্বন্দ্ব নিরন্তর চলছে, তার রাজনৈতিক প্রতিফলন ভারতে দেখা যায় বিজেপি, কংগ্রেসের মতো সর্বভারতীয় দলের সাথে আঞ্চলিক দলগুলির দ্বন্দে্বর মধ্যে। সর্বভারতীয় একচেটিয়া পুঁজির দল হিসাবে আছে বিজেপি এবং কংগ্রেস। আঞ্চলিক দলগুলি মূলত আঞ্চলিক পুঁজির প্রতিনিধিত্ব করে। বৃহৎ ধনকুবেরদের পছন্দের দল হওয়ার প্রতিযোগিতায় এখন কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে দিয়েছে বিজেপি। একচেটিয়া পুঁজির দাপট যত বাড়ছে, আঞ্চলিক পুঁজির জোর তত কমছে। তৃণমূল কংগ্রেস, সপা, ডিএমকে, এডিএমকে ইত্যাদি আঞ্চলিক দলগুলির শক্তিও চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়াচ্ছে। ফলে রাজ্যে রাজ্যে শক্তি বাড়ছে বিজেপির মতো বৃহৎ পুঁজির স্বার্থরক্ষকারী দলের।
পুঁজির কেন্দ্রীভবন যত বাড়ে, তত বাড়ে রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা। কমে গণতন্ত্রের পরিসর। তাই দেখা যাচ্ছে একচেটিয়া মলিকদের প্রয়োজনে বিজেপি কোনও গণতান্ত্রিক রীতির তোয়াক্কা করছে না। প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে নরেন্দ্র মোদি যে সংসদ ভবনকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে গণতন্ত্রের মন্দির বলেছিলেন, এখন সেই মন্দির থেকে গণতন্ত্রের সমস্ত চিহ্ন মুছে ফেলছেন তিনি এবং তাঁর দল। এখন সংসদে এবং রাজ্যে রাজ্যে বিধানসভায় জনস্বার্থে কোনও আলোচনা, বিতর্ক ইত্যাদি নিতান্তই বিরল। সাম্প্রদায়িক ধর্মীয় স্লোগান, চিৎকার চেঁচামেচি, একে অপরকে টিপ্পনি, গালাগালি, কুকথা ইত্যাদিই এখন সংসদীয় রীতিতে পরিণত। সাংসদ-বিধায়করা অধিকাংশই বহু কোটি টাকা ও সম্পত্তির মালিক, তাদের বড় অংশের বিরুদ্ধেই খুন, ধর্ষণ, চুরি, জালিয়াতি থেকে শুরু করে কোনও অভিযোগই বাকি নেই। ফলে ক্ষমতা ও টাকার লোভের কাছে তারা বিক্রি হয়ে যাবে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আজ বিজেপির মাথায় আদানি-আম্বানিদের আশীর্বাদ বেশি বলে তারা বেশি টাকা ঢালতে পারছে। কাল বা পরশুর পরের দিন কংগ্রেস সেই জায়গায় এলে তারাও একই ভূমিকা নেবে। অতীতে সাংসদ কেনা, ঘুষ দিয়ে সংসদে সমর্থন আদায়ে অভিযুক্ত হয়েছে কংগ্রেসও। এটাই আজ ভারতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের চিত্র। আজও যে সমস্ত সৎ মানুষ পাঁচ বছর পর পর ভোট দিয়ে সরকার বদল করে অত্যাচার-অবিচার, দুর্নীতি দূর করার স্বপ্ন দেখেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের পবিত্রতার বাণীতে আস্থা রাখেন, তাঁদের চোখে আঙুল দিয়ে বিজেপির এই বেআব্রু সাংসদ-বিধায়ক কেনা-বেচা দেখিয়ে দিচ্ছে বুর্জোয়া গণতন্ত্রের ভেতরটা আজ কত ফাঁপা, কত ভঙ্গুর! ভারতীয় বুর্জোয়া শ্রেণি অনেক দিন ধরেই গণতন্ত্রের আলখাল্লাটার আড়ালে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সেবাদাস হিসাবে বিজেপি এখন সেই দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাদী অর্থনীতির এতটাই বেহাল দশা, সমগ্র বুর্জোয়া ব্যবস্থাটা আজ এতটাই সংকটগ্রস্ত যে, সেই আলখাল্লাটাকেও আর অটুট রাখতে পারছে না তারা। গণতান্ত্রিক রীতিনীতিটুকু বজায় রাখাও তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠছে। যদিও ভারতীয় পুঁজিপতি শ্রেণি তথা তাদের সেবাদাস বিজেপির স্বাস্থে্যর এবং শক্তির লক্ষণ এটা নয়। এটা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার চরম ক্ষয় ও আয়ু ফুরিয়ে আসারই লক্ষণ।
এই দেশ তথা দুনিয়া এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে সেই শক্তির দ্রুত বেড়ে ওঠার পথ চেয়ে– যারা সমাজের অধিকাংশ মানুষের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হিসাবে সমাজতন্ত্র আনার লড়াইকে জয়ের রাস্তায় নিয়ে গিয়ে পচে যাওয়া এই ব্যবস্থাটাকে বদলে দিতে পারে।