
রাজনীতি বিমুখতা আজকের সমাজ পরিবেশে প্রবল ভাবে আছে এবং নবীন প্রজন্মও তার দ্বারা প্রভাবিত, এ কথা অস্বীকার করা চলে না। কিন্তু অন্ধকারের বুকে জেগে থাকা আলোর রেখার মতো এর বিপরীত ছবিও যে এই সমাজেই আছে, তার সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল ৮ মার্চ মালদা শহরের প্রাণকেন্দ্র রথবাড়ি মোড়।
এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) দলের নবনির্মিত মালদা জেলা অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে এ দিন আয়োজিত সমাবেশে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের থেকে আঠারো থেকে আশি প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছিল। কেউ কেউ বেশ কিছুদিন আছেন এই দলের সাথে, কেউ কেউ অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দলীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে, আবার অনেকেই প্রথম বারের মতো পরিচিত হচ্ছেন মার্ক্সবাদী চিন্তানায়ক শিবদাস ঘোষের চিন্তা ও দলের আদর্শের সাথে।
সমাবেশে উপস্থিত আমার পাশে বসা এক ভদ্রলোককে জিজ্ঞাসা করলাম, কাকু কেমন লাগল এঁদের বক্তব্য? উনি উত্তর দিলেন, একটা এমএলএ-এমপি নেই, কিন্তু পার্টিটার তেজ আছে। আজকের ভোটসর্বস্ব রাজনীতিতে নিজেদের সুবিধা-অসুবিধার কথা না ভেবে নিঃস্বার্থভাবে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর কথা এরা ভাবে, যেটা আমি অন্য দলগুলোকে এমন ভাবে ভাবতে দেখিনি। দেখো, গরিব-দুঃখী মানুষকে সাহায্য করা তো নিশ্চয়ই দরকার। সেটা অনেক দলই করে, কিন্তু এই দলের কর্মসূচি ও বক্তব্যে সমাজের বঞ্চিত মানুষগুলোকে সচেতন করা এবং যাতে তারা তাদের দুঃখ-কষ্টের প্রকৃত কারণটা বুঝতে পারে এবং সেই অবস্থাটা পাল্টানোর জন্য লড়তে পারে সেই চেষ্টা আমি দেখতে পায় যা আজ অব্দি অন্য কোনও দলের মধ্যে দেখিনি। এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক দলের বত্তৃতায় শুনলাম, আন্দোলনই পাখির চোখ, পাল্টাতে হবে গোটা সিস্টেমকে। এটাই তো প্রকৃত বামপন্থা– যারা বিপ্লব করে এই শোষিত সমাজ ব্যবস্থাকে আমূল পাল্টে ফেলতে চায়। সে কাজ কতদিনে সাধন হবে জানি না, তবে আজ রথবাড়ি মোড়ের সমাবেশ দেখে মনে হল বিপ্লবের এই স্বপ্নটা আজ খুবই জরুরি।
বিট্টু দেবনাথ, ইংলিশবাজার, মালদা