Breaking News

পাঠকের মতামতঃ যুব সাথী প্রকল্প কতটা স্বস্তি দেবে যুবকদের?

মুখ্যমন্ত্রী ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিপুল চাকরির আশ্বাস দেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের যুবকরা দেখেছেন সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রেও চাকরির চরম অনিশ্চয়তা। স্থায়ী কাজের আশা ছেড়ে স্বল্প বেতনের কোন অস্থায়ী বা ঠিকা কাজেই যোগ দিতে হচ্ছে যুবকদের। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ ভোটের আগে, ২১ বছর থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবকদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করলেন যার মাধ্যমে বেকার যুবকরা মাসিক ১৫০০ টাকা করে বেকার ভাতা পাবেন। বেকার ভাতা বলা হলেও বিভিন্ন অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক, ঠিকা শ্রমিকদেরও এই ভাতা পাওয়ার বাধা নেই। মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় পাস করা এই ভাতার আবেদনের জন্য বাধ্যতামূলক হওয়ায় একে শিক্ষিত যুবকদের বেকার ভাতা হিসাবেই দেখছে মানুষ।

সারা দেশ জুড়েই যুবকদের পরিস্থিতি সঙ্গিন। কিছুদিন আগেই অগ্নিপথ প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে স্থায়ীপদকে অস্থায়ী পদে পরিণত করার সরকারের যে প্রচেষ্টা তার বিরুদ্ধে বিহারের যুবকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গেও সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন যুবকরা। কোনও ক্ষেত্রেই চাকরি পাওয়ার আশা দেখতে পাচ্ছেন না যুবকরা, বেসরকারি সংস্থায় সম্মানজনক বেতনে স্থায়ী চাকরির সুযোগও কমছে। চাকরি না পেয়ে শিক্ষিত যুবকরা কেউ পাড়ি দিচ্ছে দূর দেশে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে, কেউ বা দিন গুজরান করছে স্বল্প বেতনে কোনও ঠিকা কাজের ভরসায়।

এর আগেও যুবশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হত। কিন্তু বলা হয়েছিল, ওই টাকা যুবকদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সহায়ক ভাতা। কিন্তু সেই মোড়ক তুলে দিয়ে সরাসরি বেকারভাতা হিসাবেই এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হবে।

এই প্রকল্প দ্বারা তাৎক্ষণিকভাবে অর্থনৈতিক কিছুটা সাহায্য এলেও সামগ্রিকতায় যুব-জীবনে কোনও পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন না যুবকরা। সরকারি দল এই ধরনের ভাতা নিয়ে নিজেদের প্রচার করলেও আজ প্রান্তিক মানুষের মুখেও এ কথা শোনা যাচ্ছে যে, আমাদের টাকা আমাদেরই দিচ্ছে।

দুর্দশাগ্রস্ত যুবকদের জন্য ১৫০০ টাকা পর্যাপ্ত নয়। যুব সংগঠন এআইডিওয়াইও দাবি করেছে সম্মানজনক চাকরি দিতে না পারা পর্যন্ত প্রত্যেক বেকারকে মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতা দিতে হবে। যুবকদের দাবি, মালিক শ্রেণির কাছে আত্মসমর্পণ নয়, সরকারকে চাকরির ক্ষেত্র সৃষ্টির জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

সৌম্য ভট্টাচার্য, কলকাতা ২২

গণদাবী ৭৮ বর্ষ ৩০ সংখ্যা ৬ মার্চ ২০২৬