
(বিপ্লবী আন্দোলনের প্রয়োজনে সোস্যাল মিডিয়া মঞ্চগুলিকে কী উপায়ে ব্যবহার করা দরকার, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় একটি কর্মশালা ৯-১০ নভেম্বর ২০২৫ কলকাতায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের প্রায় সমস্ত রাজ্য থেকে কমরেডরা এই কর্মশালায় যোগ দিয়েছিলেন। দু-দিন আলোচনার শেষে সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ এ সম্পর্কে তাঁর সুচিন্তিত বক্তব্য রাখেন যা আমরা প্রকাশ করলাম।)
প্রিয় কমরেডস,
আমার বৈপ্লবিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন।
ভারতের সর্বহারা শ্রেণির বিপ্লবী দলের পক্ষ থেকে সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কী ভাবে ব্যবহার করা উচিত সে বিষয়ে আপনাদের এই ওয়ার্কশপ সংগঠিত করার উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এ বিষয়ে আলোচনা করতে আমি বাধ্য হচ্ছি, যদিও এ সম্পর্কে আমি কোনও দিনই ইতিপূর্বে কোথাও কিছু বলিনি। এই ক্ষেত্রটি সম্পর্কে আমার ধ্যানধারণা কার্যত নেই। কোনও আলোচনার শেষে উপসংহারে বক্তব্য রাখার অর্থ হচ্ছে, আলোচনায় যত পয়েন্ট এসেছে, সেগুলিকে এক সূত্রে গেঁথে আপনাদের কর্তব্যকর্ম সম্পর্কে গাইডলাইন দেওয়া। অথচ এখানে আপনারা দু’দিন ধরে যে আলোচনা করেছেন, আমি তাতে কোনও ভাবেই অংশ নিতে পারিনি। তবুও কিছু কথা আমি আপনাদের সামনে বলব।
এ কথা সত্য যে, সোস্যাল মিডিয়া একটা শক্তিশালী প্রোপাগান্ডার হাতিয়ার হিসাবে বিকশিত হয়েছে। এটাও সত্য যে, বুর্জোয়া শ্রেণিস্বার্থ এবং সেই শ্রেণিস্বার্থের প্রতিনিধিরা ও তার সঙ্গে বুর্জোয়া দলগুলো এই সোস্যাল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের নিজস্ব শ্রেণিস্বার্থেই এটাকে তারা ব্যবহার করে। এর বিরুদ্ধতা করা, এর চরিত্র উদঘাটিত করা এবং সর্বহারা বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা পরিচালিত হয়ে জনগণের মন এবং ভাবনার জগতকে এই সব ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত করাও প্রয়োজন। সুতরাং, এ ক্ষেত্রে এটাও একটা শ্রেণিসংগ্রাম।
এখানে উপস্থিত কমরেডরা টেকনিক্যাল দিক দিয়ে পারদর্শী। দলের সিনিয়র নেতারা আমাকে বলেছেন, তাঁদের অনেকেই এই ফিল্ডে বিকশিত হচ্ছেন, এগোচ্ছেন। কিন্তু আমি মনে করি, কারিগরি জ্ঞানটাই যথেষ্ট নয়। ভাল প্রচারক হতে হলে একজনকে অবশ্যই তত্ত্বগত ভাবে রাজনৈতিক এবং সংগঠনগত ভাবে ও সংস্কৃতিগত ভাবে উপযুক্ত হতে হবে। এটা অপরিহার্য প্রয়োজন। সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটা অন্যতম পূর্বশর্ত। সেই জন্যই যে কমরেডরা শ্রেণিসংগ্রামের মধ্যে যুক্ত হয়ে আছে নিপীড়িত মানুষের প্রতি যথার্থ আবেগ ও দায়বদ্ধতা নিয়ে চলেন, তাঁরাই ভাল প্রচারক হতে পারেন। এই মনোভাব ভাসাভাসা হলে চলবে না। তা সুনির্দিষ্ট হতে হবে। আমার হৃদয়, আমার বিবেক সর্বদা ফুটপাতে, রাস্তায় যে মানুষরা বাস করে তাদের জন্য ব্যথা অনুভব করে। যারা ভিক্ষুক, যারা রাস্তায় বসে কাঁদছে দু’মুঠো খাদ্যের জন্য, আমার হৃদয় তাদের জন্য কাঁদে। আমি তাদের জন্য ভাবি। আমার হৃদয় সর্বদা এই ভাবনাতেই ছটফট করে। এই জন্যই আমি শোষণমুক্তির রাস্তা খুঁজছি। এই মানসিকতাই একজনকে বিপ্লবী হিসাবে, একজন কমিউনিস্ট হিসাবে তৈরি করে। এ জন্য মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ শিবদাস ঘোষের চিন্তাধারা থেকে বিপ্লবী-জ্ঞান আমার অর্জন করা প্রয়োজন। এটা সব সময়ের সংগ্রাম। কোনও একটা বিশেষ পর্যায়ের, একটা মুহূর্তের সংগ্রাম নয়। এটা সর্বক্ষণের সংগ্রাম। আমার মন এই চিন্তাতেই সর্বক্ষণ মগ্ন হয়ে আছে। একজন কমরেড কারিগরি দিক থেকে অনেক দক্ষ হতে পারেন। কিন্তু শুধু তার দ্বারা কাজ হবে না। যা আমি প্রচার করব তাকে জীবন্ত ও সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যা জনগণকে শিক্ষিত, আলোকিত ও অনুপ্রাণিত করবে। তাদের ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত হতে সাহায্য করবে। সুতরাং যাঁরা এই ক্ষেত্রে সংগ্রাম করবেন তাঁদের একটা ঘরে আবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাদের সর্বদা অবশ্যই শ্রেণিসংগ্রাম, রাস্তার সংগ্রামে ব্যাপৃত থাকতে হবে।
এখন গোটা বিশ্বে কী ঘটছে? আপনারা যে কমরেডরা এখানে আছেন তাঁরা এগুলো জানেন। ফলে আমার তত্ত্বগত ভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। বিশ্বে এখন এক দিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ অন্য দিকে চিনা সাম্রাজ্যবাদ, এই দুই শক্তি একে অপরের সঙ্গে প্রবল সংঘর্ষে লিপ্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিও আছে। তৃতীয় পর্যায়ের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিও আছে। ভারত হচ্ছে এই তৃতীয় স্তরের একটি শক্তি। দ্বিতীয় স্তরের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি হচ্ছে ইউরোপের রাষ্ট্রগুলি এবং জাপান। বাণিজ্য যুদ্ধ আদতে একটি প্রক্সি যুদ্ধ। বস্তুত এটাও যুদ্ধ। পাশাপাশি সশস্ত্র যুদ্ধও চলছে।
আঞ্চলিক বা রিজিওনাল যুদ্ধ এখন আর নিছক আঞ্চলিক নয়। সমস্ত বৃহৎ শক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এর সঙ্গে যুক্ত। চিনা সাম্রাজ্যবাদ এর সঙ্গে যুক্ত নেই, এ কথা ভাববেন না। তারাও এর সঙ্গে যুক্ত। আরব দুনিয়া এবং আফ্রিকার দুনিয়া থেকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ পা তুলে নিলেই সেই সুযোগে চিনা সাম্রাজ্যবাদ সেখানে ঢুকে পড়তে পারে। এটাই তাদের প্রকৃত স্বার্থ। সাহায্য (এইড) দেওয়ার নামে তারা এই সমস্ত রাষ্ট্রগুলোকে বেঁধে ফেলছে। সাম্রাজ্যবাদ পুঁজিবাদ সংকটে এবং কার্যত মৃত্যুশয্যায় শায়িত। ঢেউয়ের পর যেমন ঢেউ আসে আবার মিলিয়ে যায়, সকল পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী দেশে গণবিক্ষোভের ঢেউ সে ভাবে আসছে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপের বহু দেশেই এখন বিক্ষোভ, আন্দোলন, ধর্মঘট প্রায় নিত্যকার ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আমেরিকাতেও অবস্থা অন্য রকম নয়। আপনারা দেখলেন আমেরিকার রাস্তায় রাস্তায় মানুষ স্লোগান দিচ্ছে, ‘নো কিংস’, রাজা চাই না। কিন্তু এই জনগণের শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গি নেই, প্রকৃত বিপ্লবী পার্টি নেই। বিপ্লবী পার্টির চাহিদাটাই এখন সর্বত্র পরিষ্কার ভাবে দেখা যাচ্ছে।
সুতরাং আমাদের পার্টির দ্রুত বিকাশ ও বৃদ্ধি– পরিমাণগত ও গুণগত উভয় দিক থেকেই এখন জরুরি প্রয়োজন। ভারতের পরিস্থিতি আপনাদের জানা। জনগণ সকল বুর্জোয়া ও পেটি বুর্জোয়া পার্টি সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এই দলগুলির রাজনৈতিক ও আদর্শগত চরিত্র জনগণের কাছে পরিষ্কার। এই হচ্ছে পরিস্থিতি। এই অবস্থায় আমাদের প্রচারমাধ্যমের কর্তব্য বা কাজ কী হবে সেটা আপনাদের বুঝতে হবে।
বিপ্লবী সেনানী হিসাবে এই প্রচারমাধ্যমের ক্ষেত্রে নিজেদের নিযুক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে আমার অভিমত হল, সোস্যাল মিডিয়া প্রিন্ট মিডিয়ার বিকল্প হতে পারে না। প্রিন্ট মিডিয়া যে ভাবে কোনও বিষয় সম্পর্কে একটা সামগ্রিক ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে সোস্যাল মিডিয়া তা পারে না। প্রিন্ট মিডিয়া হবে আমাদের প্রাথমিক হাতিয়ার। সোস্যাল মিডিয়া সেখানে সাহায্যকারী ভূমিকা নিতে পারে। যেমন, একটা দেওয়াল লিখনে একটি উদ্ধৃতি দেওয়া আছে, যার মধ্যে খুব সংক্ষেপে কিছু পয়েন্ট বলা আছে। এর দ্বারা সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি আসতে পারে না। কিন্তু কেউ যদি একটা বই পড়েন, ছাপা নিবন্ধ বার বার পড়েন তবে বিষয় সম্পর্কে তাঁর একটা ধারণা জন্মাতে পারে। আমি যা বলতে চাইছি তা হল, কোনও নিবন্ধ আপনি প্রিন্ট মিডিয়া বা ডিজিটাল মিডিয়া যেখানেই পান না কেন, তা গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়বেন, উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন। এটাই কোনও বিষয়কে সামগ্রিক ভাবে বুঝবার একমাত্র উপায়। এই হচ্ছে আমার অভিমত। কারও আমার এই মতের সঙ্গে পার্থক্য থাকতে পারে।
এখন অনেকেই সংবাদপত্র পাঠকে এড়িয়ে চলছে। সমাজে এটা একটা ক্রমবর্ধমান সমস্যা। আমাদের মধ্যেও এটা আছে। সমগ্র বিশ্বেই মানুষের মধ্যে একটা অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। একজন মানুষ একটা সংবাদপত্র বা একটা নিবন্ধ পড়ার জন্য এক ঘণ্টা বা দু ঘণ্টা সময় দিতে রাজি নন। তাই একটা মন তৈরি হয়েছে যা সংক্ষিপ্ত আকারে সব কিছু জানতে চায়। আমি কোনও কিছু কয়েক মিনিটের মধ্যে জেনে নিতে চাই। আমি যে অন্য কোনও কাজে ব্যস্ত আছি, তা নয়। আমার মন-মানসিকতাই এই রকম তৈরি হয়েছে। চঞ্চলতা, অস্থিরতাই এর প্রথম কারণ। ফলে পড়ার অভ্যাস, পাঠের অভ্যাস ধ্বংস হচ্ছে। পুঁজিবাদী আক্রমণই এর কারণ। সমাজ ভেঙে যাচ্ছে, নৈতিকতার কাঠামো ধসে পড়ছে। চঞ্চলতা অস্থিরতা বাড়ছে। এই অবস্থায় সোস্যাল মিডিয়াকে প্রিন্ট মিডিয়ার বিকল্প হিসাবে দেখলে একে উৎসাহিত করা হয়। প্রিন্ট মিডিয়ার উপর আমাদের জোর দিতেই হবে। বই পড়া, ছাপা নিবন্ধ, প্রবন্ধ পড়া, সামগ্রিক ভাবে জ্ঞান অর্জন করা– এগুলির প্রতি কমরেডদের উৎসাহ দিতে হবে। এর পাশাপাশি সোস্যাল মিডিয়াকে সাহায্যকারী মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। এই হচ্ছে আমার অভিমত।
আপনারা ঝকঝকে উপস্থাপনা, জৌলুস দেখানোর পিছনে ছুটবেন না। অন্যেরা জৌলুসে জোর দেয়। আপনারা জোর দেবেন সঠিক জিনিস সঠিক ভাবে উপস্থাপনায় এবং কী ভাবে ক্রমাগত তাকে আরও উদ্দেশ্যমুখী করা যায়, এটা নিয়ে গভীর ভাবে ভাববেন। কোনও বিষয়কে বিপ্লবী উদ্দেশ্য থেকে কত সুন্দর ভাবে উপস্থিত করা যায়। আপনারা অন্যদের থেকে অবশ্যই শিখবেন, কিন্তু নকল করবেন না। শেখা মানে হল অপরের কাছ থেকে কোনটা নেব, আর কোনটা নেব না তা বিচার করতে পারা। নকল করা মানে অপরকে অন্ধ ভাবে অনুকরণ করা। এটাকে আপনারা এড়িয়ে চলবেন। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হল টিম হিসাবে কাজ করা। কেউ এই ক্ষেত্রে অনেকটা যুক্ত আছেন, কেউ আবার রাজনৈতিক ভাবে অন্য ক্ষেত্রে যুক্ত আছেন। আমাদের জন্য টিম ফাংশনিং এর অর্থ হল, আমাদের একই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যৌথ কর্ম প্রক্রিয়া, যৌথ কার্যক্রম নিয়ে চলা। এখানে কোনও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নেই। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্খা, ব্যক্তিগত নামযশের জন্য চেষ্টা করা, এ সব নেই। এ ক্ষেত্রেও আমাদের সংগ্রাম করতে হবে। শত্রু আমাদের মধ্যেই রয়েছে, তা হল ব্যক্তিবাদ। পুঁজিবাদের মধ্যে থেকেই আমাদের জন্ম, পুঁজিবাদী ব্যক্তিবাদ নিয়েই আমরা জন্মেছি। আমাদের পার্টির অভ্যন্তরে এবং বাইরে সর্বত্রই আমাদের এই ব্যক্তিবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। বহু কমরেড কোনও একটা বিশেষ রাজ্যে কাজ করছেন, কেউ কেউ বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করছেন অথবা কেন্দ্রীয় স্তরে কাজ করছেন, কিন্তু সকলেরই বিপ্লবী উদ্দেশ্য এক। একে অপরকে সেই উদ্দেশ্য সাধনে সাহায্য করবেন। নিজেদের মধ্যে কো-অর্ডিনেশন মানে যান্ত্রিক আদান-প্রদান নয়, কো-অর্ডিনেশন মানে একে অপরকে সাহায্য করা। কাজটাকে কী ভাবে আরও উন্নত করা যায়, কী ভাবে আরও নিখুঁত করা যায়, এই হবে আমাদের ভাবনা।
মনে রাখবেন, এইটা এমন একটা ক্ষেত্র যা আপনাদের বিপ্লবী আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। আমি আবার বলছি, আমাদের শোষিত নিপীড়িত মানুষের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলতে হবে। তাদের ব্যথা-বেদনা অনুভব করতে হবে। বিপ্লবী আন্দোলনে, গণসংগ্রামে এবং সংশ্লিষ্ট পার্টি বডির সঙ্গে সর্বদা সংযোগ রাখতে হবে। জ্ঞান অর্জনের দুটি পথ আছে। একটি হচ্ছে প্রত্যক্ষ। আমি জনগণের সঙ্গে আছি। তাদের জানি, তাদের সমস্যা, প্রশ্ন, বিভ্রান্তি, হতাশা এগুলোও জানি। বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে এগুলো বিভিন্ন রকম। এগুলো প্রত্যক্ষ সংযোগের দ্বারা আমি অনুভব করি। আর একটা পদ্ধতি হচ্ছে পরোক্ষ।
অন্যান্য কমরেডদের মাধ্যমে আমি জানি। আমি তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করি। তাদের আমি সাহায্য পাই। সুতরাং এটাও প্রয়োজন। অন্যান্য টেকনিক্যাল বিষয়ে নেতারা আছেন তাঁরা আপনাদের গাইড করবেন, সাহায্য করবেন। আপনারা সব সময় যে রাজ্যে বা যেখানেই কাজ করুন না কেন, সব সময় পার্টির কাছ থেকে গাইডেন্স চাইবেন।
আর একটা কথা– ঘটনা মানেই সত্য নয়। বুর্জোয়া মিডিয়াও ঘটনা উপস্থিত করে। এই সব ঘটনা আপনারাও জানেন। অত্যাচার, ধর্ষণ, দুর্নীতি এ নিয়ে সব সময় কথা চলছে, বুর্জোয়া মিডিয়াও এ সব পরিবেশন করছে, আপনারাও পরিবেশন করছেন।
নিছক একটি ঘটনা পরিবেশন করা আমাদের উদ্দেশ্য হতে পারে না। কী ভাবে একে সত্য হিসাবে উপস্থিত করতে হয় আপনাদের সেই আর্ট জানতে হবে। আমি এখানে বিপ্লবী আর্ট বলতে চাইছি। একটি ঘটনাকে পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে আপনারা যেন কিছু রাজনৈতিক শিক্ষাও পরিবেশন করতে পারেন। সোস্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে এটা কী ভাবে করবেন সেটা আপনাদের শিখতে হবে। এ ব্যাপারে রাজ্য স্তরে আপনাদের রাজ্য পার্টির গাইডেন্স নিতে হবে। কেন্দ্রীয় স্তরেও আপনাদের সর্বদা কেন্দ্রীয় পার্টির সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে সেই নেতাদের সঙ্গে বিশেষ করে যাঁরা এই ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত। শুধুমাত্র সিদ্ধান্ত জানার জন্য নয়, পরিবেশনা সম্পর্কেও মতামত নিতে হবে। কিন্তু ছোটখাটো বা তুচ্ছ বিষয়ে নয়। অর্থাৎ, আপনাদের সর্বদা পার্টির গাইডেন্স নিয়ে চলতে হবে। বিষয়টা পরিষ্কার হল তো?
আমার মতামত আমি এখানে রাখলাম এবং আশা করি আমার সংক্ষিপ্ত আলোচনা আপনাদের কিছু কাজে লাগবে।