
মেদিনীপুরঃ ‘জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা’র আহ্বান সমাজের জমে থাকা ব্যথা, গুমরে থাকা ক্ষোভ, ঘটে যাওয়া অনাচারের বেদনা থেকে স্বতোৎসারিত। তাই এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই যাত্রাকে সফল করে তুলেছেন রাজ্যের সুদূর পাহাড়, বনাঞ্চল থেকে সমুদ্র পর্যন্ত অসংখ্য নারী। অভয়ার পরও এ রকম জঘন্য ঘটনা একের পর এক ঘটে চলেছে। তাই এ ব্যথা সমাজের।
এ যন্ত্রণা, উদ্বেগ অসংখ্য বাবা-মায়ের। সমাজ অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে, এত আন্দোলন, এত মানুষের প্রতিবাদস্পৃহা, এর কি কোনও মূল্য নেই? একের পর এক ভয়াবহ নারী নির্যাতনের ঘটনা সমাজের গভীর অসুখের মতো কেবল বেড়েই চলবে? এর প্রতিকার কী? এর কি কোনও সুরাহা, সমাধান মিলবে না কোনও দিন? কেবলই হতাশা আর হতাশ্বাস? রাজ্য জুড়ে অঙ্গীকার যাত্রা প্রমাণ করেছে, না, তা নয়।
১২ ডিসেম্বর ঝাড়গ্রাম থেকে কলকাতা অঙ্গীকার যাত্রা শুরু হয়ে ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুর শহরে অঙ্গীকার যাত্রী, সাধারণ মানুষের সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও নানা সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এর প্রস্তুতি পর্বে গত দেড় মাস ধরে ‘জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা’র স্বেচ্ছাসেবকরা পাড়ায় পাড়ায়, এলাকায়, ক্লাবে, স্কুলে, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, অফিসে, অঙ্গীকার যাত্রার আবেদন নিয়ে গিয়েছেন। এই আবেদনে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার যুবক যুবতী, ছাত্রছাত্রী স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে স্বেচ্ছাসেবক হয়েছেন, নিজেদের আত্মীয়-বন্ধুদের স্বেচ্ছাসেবক করিয়েছেন। ছোট ছোট অসংখ্য বৈঠক হয়েছে। যে কোনও মূল্যে নারী নির্যাতন রুখে দিতে শপথবাক্য পাঠ করে শপথ গ্রহণ করেছে অসংখ্য নারী-পুরুষ এবং গঠিত হয়েছে অসংখ্য ছোট বড় সহায়ক কমিটি।
১২ ডিসেম্বর অঙ্গীকার যাত্রা এসে মেদিনীপুর শহরে পৌঁছয়। অভ্যর্থনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত পদযাত্রা ও সাংস্কৃতিক সমাবেশে যোগ দেন অঙ্গীকার যাত্রীরা। তিন শতাধিক অঙ্গীকার যাত্রী সহ অন্যান্য অভিযাত্রীরা শামিল হয়েছিলেন এই যাত্রায়।
মেদিনীপুর শহরে বিশাল সুসজ্জিত মিছিল শুরু হয় বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে। বীর বিপ্লবী ও নবজাগরণের মনীষীদের মূর্তিতে মাল্যদান করতে করতে মিছিল পৌঁছয় সাংস্কৃতিক সমাবেশস্থলে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সহস্রাধিক মানুষ। ছাত্রছাত্রী সহ শিল্পীরা সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নারীর অধিকার রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে অসংখ্য নারী সুরক্ষা কমিটি গড়ে তোলার অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয় সভায়।