
রাজ্যে উচ্চমাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হওয়ার পর তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে অথচ এখনও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে ভর্তি শুরুই হয়নি। বেশির ভাগ বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ও অন্য রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ইতিমধ্যে ভর্তি শেষ হয়ে প্রথম সেমেস্টারের ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে স্নাতকে আবেদন করা ছাত্র-ছাত্রীদের মেরিট লিস্ট প্রকাশ করে কলেজে ভর্তি শুরু এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফল দ্রুত প্রকাশ করার দাবিতে ১৪ আগস্ট কলকাতা ও শিলিগুড়িতে পথ অবরোধ এবং রাজ্যের সমস্ত জেলায় বিক্ষোভ দেখায় এবং অবস্থান করে এআইডিএসও।
কলকাতার কলেজ স্ট্রিট মোড়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এআইডিএসও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন– উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের ১০০ দিনের বেশি অতিক্রান্ত। এখনও স্নাতকে ভর্তির মেরিট লিস্ট প্রকাশ করতে পারল না রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর। কেন মেরিট লিস্ট প্রকাশ হচ্ছে না, তার যথাযথ উত্তরও উচ্চশিক্ষা দপ্তর বা শিক্ষামন্ত্রী দেননি। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে বেসরকারি ও অটোনমাস কলেজগুলিকে লক্ষ লক্ষ টাকা মুনাফা লোটার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই সরকারি কলেজগুলোতে ভর্তি বন্ধ রেখেছে। সরকার চাইলে ওবিসি সংরক্ষিত ৭ শতাংশ আসন ফাঁকা রেখে কলেজগুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করে ক্লাস শুরু করে দিতে পারত। রাজ্যের কলেজগুলিতে ৬ লক্ষের বেশি আসনে আবেদন করেনি ছাত্র-ছাত্রীরা। ফলে সংরক্ষিত অসংরক্ষিত কোনও আসনই সম্পূর্ণ ভর্তি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই রাজ্য সরকার চাইলেই আবেদনকারী সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে কলেজগুলিতে ভর্তি নিতে পারে। কোনও সংরক্ষিত তালিকাভুক্ত ছাত্র-ছাত্রীর বঞ্চিত হওয়ার কারণই নেই। এআইডিএসও-র আশঙ্কা, যে ভাবে স্নাতক স্তরে ভর্তি নিয়ে টালবাহানা করছে রাজ্য সরকার তার ফলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা উচ্চশিক্ষা থেকে আরও মুখ ফেরাবে এবং বহু আসন ফাঁকা পড়ে থাকবে। শিক্ষকরা বলছেন, সিবিসিএস ব্যবস্থায় প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা হওয়ার কথা ডিসেম্বরে। যে ছাত্রছাত্রীরা আজও ভর্তিই হতে পারল না, তারা কী পড়ে কেমন পরীক্ষা দেবে? এই পরিস্থিতিতে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকদের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এগিয়ে আসতে হবে।
ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা অবিলম্বে ভর্তি সহ বিভিন্ন দাবিতে ১ সেপ্টেম্বর কলকাতায় মহামিছিলে সামিল হবেন।