
পশ্চিমবঙ্গে সরকার পাল্টেছে। মানুষ নতুন আশা, ভরসায় ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন। সে স্বপ্ন কতটা পূরণ বা বাস্তবায়িত হবে সেটা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন সরকারি বাসে মেয়েরা বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবেন। এ কথা অনস্বীকার্য যে, অফিসে, আদালতে, খুচরো ব্যবসায়, স্কুলে-কলেজে সর্বত্র মহিলাদের যাতায়াত অনিবার্য ভাবে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বেড়েছে।
সেই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর এমন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। তিনি নিশ্চয়ই আগামী দিনে মহিলাদের সুরক্ষা, শিক্ষা, শিক্ষান্তে কাজ ইত্যাদির দিকে নজর দেবেন। সে ক্ষেত্রে অবাধে যাতায়াতের সুবিধা সমাজের স্বার্থে তাদের শ্রমকে আরও কার্যকরী করে তুলতে পারে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের রাজ্যে সরকারি বাস প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। যেটুকু চলাচল করে, তা মূলত দূরপাল্লার। কলকাতা শহরে নানা কাজে বিপুল সংখ্যক মেয়েদের যাতায়াত করতে হয়। অথচ শহরে চলাচলের কোনও সরকারি বাস ব্যবস্থা নেই।
রাষ্ট্রায়ত্ত বেশ কিছু সংস্থার বাস একসময়ে যেমন মহানগরীর মানুষকে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাতায়াতের নিশ্চয়তা দিত, তেমনই মফঃস্বল এলাকাতেও বহু সরকারি বাস চলত। সিপিএম শাসনে সেগুলিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হয়েছিল। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে সরকারি পরিবহণের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছে। উল্লেখ্য, সে সময় পরিবহণমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।
পরিবহণের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে বাস্তবে বেসরকারি মালিকদের মর্জির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যদি তাঁর সদুদ্দেশ্য পালনে আন্তরিক হন, তা হলে অবিলম্বে সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে ফিরিয়ে আনবেন। হয়ত শুভেন্দুবাবুদের এমন পরিকল্পনাই রয়েছে। না হলে তাঁর এই ঘোষণাটি দাঁড়াবে সোনার পাথরবাটির সমতুল্য। ঘোষণাই সার হবে। কাজের কাজ বা সুফল কিছু আসবে না।