
মধ্যপ্রদেশের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অন্যতম বরকতউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে বাগদেবী ভোজপাল বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন শিক্ষা আন্দোলনের নেতা অল ইন্ডিয়া সেভ এডুকেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তরুণকান্তি নস্কর। তিনি বলেন, নাম বদলের এই সিদ্ধান্ত দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের শহিদ বিপ্লবীদের এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে ম্লান করার একটি ষড়যন্ত্র।
তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিশিষ্ট বিপ্লবী বরকতউল্লা ভোপালীর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। গদর আন্দোলনে যুক্ত হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম তীব্রতর করার জন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। ১৯১৫ সালে আফগানিস্তানে পরাধীন ভারতের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হলে তাঁকে সেই সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়। এই সরকারই প্রথম দেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন ও রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরেছিল।
সরকারের অন্যতম কর্তব্য হলো শহিদ ও বিপ্লবীদের এই স্মৃতিগুলিকে আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা, যাতে তারা তাঁদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে আরও উন্নত পথে পরিচালিত করতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আজ কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারগুলো সেই ঐতিহাসিক চরিত্রগুলিকেই সমাজের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-তে বর্ণিত ‘রাষ্ট্র নির্মাণ’-এর অর্থ কি এটাই? সরকারের যদি বাগদেবী বা রাজা ভোজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগ্রহ থাকে, তা হলে তারা তাঁদের নামে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলুক। তাতে শিক্ষা জগৎ এবং ছাত্রসমাজ উভয়েরই উপকার হবে।