
কারখানা বন্ধের জন্য ট্রেড ইউনিয়নগুলিকে দায়ী করে ভারতের প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এআইইউটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর দাশগুপ্ত ৩১ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেন,
২৯ জানুয়ারি একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিকালে প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য স্পষ্টতই একচেটিয়া পুঁজি-মালিকদের নির্দেশে পরিচালিত সরকারি মনোভাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। একজন প্রধান বিচারপতির পদমর্যাদার সাথে এটা বেমানান। ভারতের মতো পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে বিচারবিভাগের চরিত্র যে মালিক শ্রেণিরই স্বার্থবাহী, সেটাই স্পষ্ট করে এ হেন মন্তব্য। আমাদের দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন পুঁজিপতি শ্রেণির সেবাদাস শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে শ্রমজীবী জনগণকে এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত তথ্যের সাথেও প্রধান বিচারপতির মন্তব্য সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ভারত সরকারের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ৫ বছরে মালিক ও শ্রমিকের বিরোধের সংখ্যা একশোরও কম, যেখানে একই সময়ে মালিকদের কারণে কারখানা বন্ধের সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি। প্রধান বিচারপতি আরও বলেছেন যে, পরিচারিকাদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের কোনও প্রয়োজন নেই, যদিও কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যেই এটি নির্ধারণ করেছে এবং এটি একটি ন্যায়সঙ্গত বিষয় যা কেন্দ্রীয় সরকার বছরের পর বছর ধরে অস্বীকার করে আসছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য পরিচারিকাদের প্রতি নিতান্তই অপমানজনক।
শ্রমিকবিরোধী, জনবিরোধী এবং একচেটিয়া পুঁজির স্বার্থবাহী ৪টি শ্রম কোড বাতিল করে বহু সংগ্রামে অর্জিত ২৯টি শ্রম আইন পুনরায় চালুর দাবিতে এআইইউটিইউসি সহ ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যুক্তমঞ্চ ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য স্পষ্টতই কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ন্যায়সঙ্গত ধর্মঘটের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতাকে সমর্থন করে। আমরা দেশের শ্রমজীবী মানুষ এবং সাধারণ জনগণকে আবেদন করছি, প্রধান বিচারপতির এ হেন শ্রমিকবিরোধী, ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী, সরকারপন্থী এবং মালিকি স্বার্থবাহী মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করুন এবং ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটকে সম্পূর্ণ সফল করার জন্য প্রস্তুতি জোরদার করুন।