Breaking News

গোয়ালপাড়ায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে ধুবুড়িতে বিক্ষোভ

আসামে ‘ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙন স্থায়ী প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি’র আহ্বানে নদীর দক্ষিণ পাড়ের গোয়ালপাড়া, ধুবুড়ি এবং দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর জেলার সহস্রাধিক ভুক্তভোগী জনগণ প্রভাত চন্দ্র বড়ূয়া ময়দানে ১৮ জুন সমবেত হয়ে স্থায়ী ভাবে নদী ভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) দলের আসাম রাজ্য কমিটির প্রবীণ সদস্য কমরেড আজহার হুসেন, দক্ষিণ শালমারা বিধানসভা কেন্দে্রর এসইউসিআই(কমিউনিস্ট)-এর প্রাক্তন বিধায়ক কমরেড দেওয়ান জয়নাল আবেদিন প্রমুখ আন্দোলনকারী জনগণের সামনে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বলেন স্বাধীনতার পর থেকেই কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের চরম অবহেলা ও বঞ্চনার ফল ভুগছেন ব্রহ্মপুত্র নদীর দক্ষিণ পাড়ের হাজার হাজার মানুষ।

দশকের পর দশক ধরে স্থায়ী প্রতিরোধের অভাবে নদীর দক্ষিণ পাড়ের ঐতিহ্যমণ্ডিত শহর যথাক্রমে জলেশ্বর, পোরাভিটা, ফকিরগঞ্জ, দক্ষিণ শালমারা, সুখচর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দক্ষিণ পাড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের ঘর-বাড়ি, চাষের জমি, অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে। এই বাস্তুচ্যুত মানুষগুলি আশ্রয়ের সন্ধানে আসামের বিভিন্ন জেলায় সরকারি খাস জমিতে বসবাসের চেষ্টা করলে, তাঁদের বাংলাদেশি হিসেবে দাগিয়ে দিয়ে নানা ধরনের অত্যাচার করা হয়েছে। বর্তমান বিজেপি সরকারের শাসনে এই অত্যাচারের মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি এই সব সর্বহারা মানুষগুলিকে ধরে নিয়ে গিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে পুশব্যাক করে দেওয়া হচ্ছে।

বিজেপি সরকার নদীর ভাঙন প্রতিরোধে কোনও ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি। বিজেপি যেহেতু ধর্মীয় সংখ্যালঘু অঞ্চলে ভোট পায় না তাই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এই অঞ্চলের নদী ভাঙন প্রতিরোধের কোনও ব্যবস্থা করছে না। কংগ্রেস ও অন্যান্য দলের সরকারের আমলেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে স্থায়ী প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করে অস্থায়ী ভাবে কিছু কাজ করায় এক দিকে সরকারি টাকার অপচয় হয়েছে, অন্য দিকে ঠিকাদার এবং বিভাগীয় কর্মকর্তাদের পকেট ভারি হয়েছে।

বর্তমান জলেশ্বর থেকে আইরকাটা, বোচাইমারি, ফকিরগঞ্জ, হাজিরহাট, কোকরাডাঙা অঞ্চলের জনগণ ভাঙনের আশঙ্কা নিয়ে দিন গুনছেন। তাই এই অঞ্চলের আপামর জনসাধারণ অন্য উপায় না পেয়ে সংগ্রামী সংগঠন ‘ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি’ গড়ে তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনের পথেই যে দাবি আদায় সম্ভব এই কথা তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে পেরেছেন।

কমরেড দেওয়ান জয়নাল আবেদিন সহ নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ কমরেড লোকমান হোসেন, কমরেড কাজি জমির উদ্দিন আহমেদ, রৌশন আলম এবং সাজাহান শিকদারের নেতৃত্বে সংগ্রামী জনসাধারণ মিছিল করে পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায়। মিছিল জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ধুবুড়ি জেলা আয়ুক্ত মারফত একটি স্মারকপত্র দেয়।