Breaking News

আলুর সহায়ক মূল্য ১২ টাকা কেজি করার দাবি কৃষকদের

১২ টাকা কেজি দরে আলুর সহায়ক মূল্য ঘোষণা করে সরকারকে চাষিদের কাছ থেকে উৎপাদিত সমস্ত আলু কেনার দাবিতে ৫ মার্চ বর্ধমানের কার্জন গেটে আলু ফেলে বিক্ষোভ দেখায় কৃষি ও কৃষক বাঁচাও কমিটি, কৃষক ঐক্য মঞ্চ, কৃষক কল্যাণ সমিতি, অল ইন্ডিয়া কিসান খেতমজদুর সংগঠন। কৃষি ও কৃষক বাঁচাও কমিটির জেলা সম্পাদক অনিরুদ্ধ কুণ্ডু বলেন, এই সময় আলু ওঠা শুরু হয়েছে। চাষিরা আলুর দাম না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। সরকার ৯.৫০ টাকা কেজি দরে আলু কেনার কথা ঘোষণা করলেও সরকারি উদ্যোগে এখনও কেনা শুরু করেনি। মাঠ থেকে ৫০ কেজির আলুর বস্তা ২০০-২৩০ টাকায় ফড়েদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। আলু চাষে খরচ হয় বিঘা প্রতি কম-বেশি ৩৬ হাজার টাকা। কিন্তু সরকার যা দাম ঘোষণা করেছে তাতে বিঘা প্রতি ২৬-২৭ হাজার টাকা পাবেন চাষিরা। ফলে চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। চাষিরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। তার ওপর বস্তার দাম প্রায় ১৫-১৭ টাকা হয়ে গেছে। হিমঘরে সংরক্ষণ করার খরচ বেড়েছে। সব মিলিয়ে সরকার যা আলুর সহায়ক মূল্য ঘোষণা করেছে চাষিদের বিঘা প্রতি প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। আবার সার, বীজ, কীটনাশকের দাম যত দিন যাচ্ছে বাড়ছে। তার উপর চাষের শুরুতে বীজ ও সার নিয়ে চলেছে কালোবাজারি, যা এখনও চলছে। ফলে চাষের খরচ এমনিতেই বহুগুণ বেড়ে গেছে। তার ওপর প্রতি বছরেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে চাষে ক্ষতি হচ্ছে। ঠিকমতো বিমার টাকা পান না চাষিরা। তাই প্রায় প্রতি বছরই আলু চাষিরা আত্মহত্যা করছেন।

এ ছাড়াও বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন অল ইন্ডিয়া কিসান খেতমজদুর সংগঠনের জেলা সম্পাদক মোজাম্মেল হক, কৃষক ঐক্য মঞ্চের সভাপতি উৎপল রায়, কৃষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি সদানন্দ মণ্ডল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। আলু চাষিদের দাবি সম্বলিত দাবিপত্র গণস্বাক্ষর করে কৃষিমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হচ্ছে বলে সংগঠকরা জানান। চাষিদের দাবি, সরকারকে ১২ টাকা কেজি দরে আলু কিনতে হবে এবং বস্তার দাম বৃদ্ধি করা চলবে না।