
এক বছর পার করে অবশেষে মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইউমনাম খেমচাঁদ সিংকে বসিয়েছে বিজেপি। উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন দুই বিজেপির বিধায়ক নেমচা কিপজেন এবং নাগা পিপলস ফ্রন্টের বিধায়ক এল দিখো। নেমচা কুকি জনজাতির মহিলা এবং দিখো নাগা জনজাতির থেকে এসেছেন। এ দিকে খেমচাঁদ সিং মেইতেই জনগোষ্ঠীর মানুষ। মনে হতে পারে, মণিপুরে মেইতেই এবং কুকিদের মতো বিবদমান দুই গোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় এনে আড়াই বছর ধরে চলা রক্তাক্ত গোষ্ঠী সংঘর্ষের অবসান ঘটাতে চাইছে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকার।
বিক্ষোভ কমেনি
কিন্তু বিক্ষোভের অবসান দূরে থাক, দেখা গেল মন্ত্রিসভা গঠনের পর বিধানসভায় সরকারের আস্থাভোটের দিন কোনও কুকি-জো জনজাতি গোষ্ঠীর বিধায়ক সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারলেন না। সরকারকে সমর্থন করা তিনজন কুকি বিধায়ক ভার্চুয়াল মাধ্যমে তাঁদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। আস্থাভোটের কিছু দিন আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে তাঁদের বিমানে চাপিয়ে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং আস্থা ভোটের ঠিক আগে আবার দিল্লি থেকে সরাসরি বিমানে উড়িয়ে ইম্ফলে হাজির করা হল। উল্লেখ্য, আড়াই বছর পর মণিপুরের কুকি জনজাতির কোনও বিধায়ক ইম্ফলে পা রাখতে পারলেও তাঁদের বিধানসভায় নিয়ে যেতে সরকার ভরসা পায়নি। বিজেপি সরকার বিধানসভায়় এমএলএদের আস্থা ভোট চাইলেও নিজেদের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর যে আস্থা রাখতে পারেনি এটা তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। কুকি-জো এলাকা থেকে নির্বাচিত ১০ বিধায়কের মধ্যে মাত্র তিনজনের উপস্থিতি কিন্তু সরকারের প্রতি জনজাতিদের আস্থার প্রমাণ দিল না। দেখা গেল ওই দিনই চুড়াচাঁদপুর এবং কাংপোকপি সহ একাধিক পাহাড়ি জেলায় প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। কুকি জো উপজাতির সাতটি সংগঠনের মিলিত ফোরাম সরকারকে সমর্থন জানানো তিন বিজেপি এমএলএকে সামাজিক বয়কটের ডাক দিয়েছে। জনজাতি এলাকায় পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবি নিয়ে লড়ছে এই ফোরাম। এই এমএলএদের কাজকে তারা জনজাতিদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলে চিহ্নিত করেছে। তিন এমএলএ-র কুশপুতুল পুড়েছে পাহাড়ি এলাকার নানা জায়গায়। ইতিমধ্যে জানা গেছে নতুন করে নানা জায়গায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও নাগা ও কুকিদের মধ্যে কিছু জায়গায় সংঘর্ষের সংবাদ এসেছে।
গোষ্ঠী সংঘর্ষ অবসানের চেষ্টা সরকার করেনি
মণিপুরের বর্তমান সংঘর্ষ শুরু হয়ছে মেইতেই জনগোষ্ঠীকে ‘সিডিউলড ট্রাইব’ বা ‘এসটি’ হিসাবে গণ্য করার জন্য হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে। এই রায়ের ফলে কুকি নাগা জনজাতিদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দেয় মেইতেইরা এসটি তালিকাভুক্ত হলে এমনিতেই সংকুচিত শিক্ষা, কাজের বাজারে সংরক্ষিত আসনের দাবিদার বেড়ে যাবে। যদিও রায়ের পর সংঘর্ষ শুরুর আগে সরকার এক মাসের বেশি সময় পেয়েছিল জনজাতিদের ক্ষোভ প্রশমনে পদক্ষেপ করার। কিন্তু তারা কিছুই করেনি। সুপ্রিম কোর্টেও প্রশ্ন উঠেছিল, হাইকোর্ট তার এক্তিয়ার বহির্ভুত রায় দিচ্ছে দেখেও রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা তা তুলে ধরলেন না কেন? বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা না চাইলে এ কাজ হতে পারত? তীব্র জাতিগত গোষ্ঠীসংঘর্ষে প্রায় ২৫০ মানুষের প্রাণ গেছে। আহত কয়েক হাজার। ৬০ হাজার মানুষ গৃহহারা হয়ে শরণার্থী শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন। ইম্ফল উপত্যকায় বসবাসকারী মেইতেইদের সাথে পাহাড়ি এলাকার কুকি-জো, জোমি, হমার ইত্যাদি আদিবাসীদের বৈরিতা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, এক গোষ্ঠীর মানুষ অন্য গোষ্ঠীর এলাকাতে গেলেই প্রাণ হারানোর আশঙ্কা থাকে। ইম্ফলে অবস্থিত সরকারকে পাহাড়ের আদিবাসী জনগণ মেইতেইদের সরকার বলে মনে করে। অন্য দিকে বিজেপি সরকারের মন্ত্রীরাও অধিকাংশই তাই মনে করেন। সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংও নিজেকে মেইতেইদের মুখ্যমন্ত্রী বলতে ভালবাসতেন। প্রশাসন ও সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট এই আচরণ সমস্যাকে জটিল করছে। মণিপুরের মতো রাজ্যে যেখানে দীর্ঘকাল ধরে জাতি-গোষ্ঠীগত বৈরিতার ইতিহাস আছে, সেখানে যে উদারতা, বিচক্ষণতা ধর্ম ও জাতি-গোষ্ঠীগত বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে গোটা বিষয়টাকে বিচার করা দরকার তা স্বাধীনতার পর থেকে কেন্দ্রের এবং রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেস ও পরবর্তীকালে বিজেপি কেউই করেনি। ইম্ফল উপত্যকায় বসবাসকারী মেইতেই জনগোষ্ঠী মণিপুরের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫৩ শতাংশ। ৬০ আসনের বিধানসভায় তারাই ৪০ জন। কংগ্রেস এক সময় সরকারি ক্ষমতার গদি দখল করতে ভোটের জন্য এদের ত্রাতা সাজতে চেয়েছে। ব্রিটিশ শাসনের অধীনে রাজন্য শাসিত রাজ্য হিসাবে মণিপুর ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল স্রোতের বাইরে ছিল। ১৯৪৯-এ তার ভারতভুক্তি ঘটে। মণিপুরের মানুষের আত্মপরিচয়ের প্রশ্নকে সামনে রেখে স্বাধীন ভারতের সংবিধানে ৩৭১-সি ধারা যোগ করা হয়। এই ধারায় রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলের বিষয়ে বিশেষ কমিটি গঠনের কথা এবং ওই রাজ্যের মানুষের জন্য বিশেষ কিছু অধিকার ছিল। এই ধারাকে যথাযথ প্রয়োগ করে মণিপুরের সব অংশের মানুষের আস্থা অর্জন করা ছিল জরুরি। পাহাড় এবং উপত্যকা উভয় এলাকাতেই অনুন্নয়ন থাকলেও পাহাড়ে স্বাভাবিক ভাবেই সমস্যা বেশি, কৃষিকাজ, রোজগারের সুযোগও উপত্যকার তুলনায় পাহাড়ে কম। ফলে সব অংশের মানুষের কর্মসংস্থান, রাজ্যে শিল্প গড়ার চেষ্টা, কৃষিকে লাভজনক করা, মানুষের রোজগার বাড়ানো, দারিদ্র দূর করা ইত্যাদির জন্য জনমুখী দৃষ্টি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এর কোনও চেষ্টাই কংগ্রেস সরকার করেনি। বরং যখনই রাজ্যের জনগণ মুখ খুলেছে তাদের ওপর নামিয়ে এনেছে চরম দমন-পীড়ন। পাহাড় এবং উপত্যকার উভয় অংশের শোষিত মানুষকে তারা বুঝিয়েছে– অপর অংশের মানুষই তাদের সমস্যার জন্য দায়ী। এই ভাবে তারা দুই জনগোষ্ঠীকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিয়েছে।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভকে সম্বল করে এবং কংগ্রেস ভাঙিয়েই বিজেপি ২০১৭-তে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করে। বিজেপি সরকারের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী উভয়েই ছিলেন কংগ্রেস নেতা। খেমচাঁদ সিং আবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে ২০২২-এ বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ক্ষমতার জন্য তিনি বিজেপিতে এসেছেন। বিজেপি ক্ষমতায় বসার জন্য নির্বাচনে পাহাড়ি জনজাতির মানুষের সমর্থন নিয়েছে। তাদের থেকে এমএলএ পেয়েছে, অথচ এই সমস্ত মানুষের দাবির সুষ্ঠু সমাধান, জনজাতিগত বিরোধ সমাধানে আলাপ আলোচনার রাস্তা খোলা, এর কোনওটি তারা করেনি। বরং তাদের আচরণে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত শক্তিশালী হয়েছে।
মায়ানমারে অশান্তির অছিলায় রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার মণিপুরে পাহাড়ে এবং বনাঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদেরও অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দিয়ে তাদের স্বাভাবিক অধিকার দিতে অস্বীকার করছে। আদিবাসী অধিকার সংক্রান্ত আইনগুলি অকেজো করে রেখে অধিকাংশ বনাঞ্চলকে ‘রিজার্ভ ফরেস্ট’ ঘোষণা করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করতে অভিযান চালিয়েছে। এ সবের ফলে পাহাড়ি জনজাতিদের মধ্যে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আশঙ্কা, উদ্বেগ ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
শাসকরা বিরোধ জিইয়ে রাখতে চায়
মণিপুর সহ দেশের নানা জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে নানা গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে তাদের আত্মপরিচয়ের প্রশ্নটাকে খুঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করছে শাসক বুর্জোয়া শ্রেণি ও তাদের তাঁবেদার শাসক দলগুলি। যেন এই জাতিগোষ্ঠীগত পরিচয়তেই আছে মানুষের সমস্ত সমস্যার সমাধান! কখনও জনজাতিগত পরিচয়, কখনও ভাষা, কখনও ধর্ম ইত্যাদি নানা বিষয়কে কাজে লাগিয়ে শাসকশ্রেণি বিরোধ তৈরি করে। ধর্ম-বর্ণ-জনজাতি-উপজাতি নির্বিশেষে সমস্ত শোষিত মানুষের মূল সমস্যা যে একই রকম তা মানুষকে ভুলিয়ে দিয়ে শাসকরা শোষিত মানুষকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দেয়। শাসক পুঁজিপতি শ্রেণির সেবাদাস হিসাবে অতীতে কংগ্রেস এই কাজ করেছে, বিজেপিও এখন সেটাই করছে। উত্তরপূর্বের নানা রাজ্যে তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গেও এখন এই কাজ বিজেপি, তৃণমূলের মতো দলগুলি করছে।
এই কারণেই মণিপুরে গোষ্ঠী সংঘর্ষ অবসানের চেষ্টায় হস্তক্ষেপ করার আবেদন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে কুকি, মেইতেই সহ নানা জনগোষ্ঠীর মানুষ কথা বলতে চাইলেও তিনি মণিপুরের প্রায় কোনও প্রতিনিধি দলের সাথেই দিল্লিতে বসেও দেখা করেননি। তিনি গত আড়াই বছরে মাত্র একবার কিছুক্ষণের জন্য মণিপুরে যাওয়ার সময় পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর গদি থেকে কাউকে সরানো বা বসানোর ক্ষেত্রে মণিপুরের মানুষের মতামত থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে নিজের দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দেওয়া। তাই খেমচাঁদ সিংকে মুখ্যমন্ত্রী করার সময় অনেকটা যেন গোপন ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ক্যু-দেতার মতো করে সরকার গড়েছে তারা। দিল্লিতে সব ঠিক করে মন্ত্রীদের বিমানে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে ইম্ফলে শপথ হয়েছে। যে কুকি-জো, বিধায়কদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নতুন অশান্তি হচ্ছে তাঁদের বিষয়ে পাহাড়ের জনজাতিদের কোনও মত নেওয়ার চেষ্টাও বিজেপি করেনি। জনজাতিদের যে সমস্ত সংগঠন আন্দোলন করছে তাদের সাথে সরকার আলোচনার দরজা খোলার চেষ্টাও করেনি। বিজেপি চাইলে রাষ্ট্রপতি শাসনের মধ্যে বিজেপির একান্ত অনুগত রাজ্যপাল এই চেষ্টা অবশ্যই করতেন!
এগিয়ে আসতে হবে গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকেই
মণিপুরের মানুষ দেখছেন– ক্ষমতালোভী ধুরন্ধর গোষ্ঠীগুলির হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করে সমস্ত জনজাতির ঐক্যের স্বার্থে সরাসরি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সরকার কিছুই করছে না। এই আস্থা অর্জন সামরিক বাহিনী বা পুলিশ দিয়ে হবে না। মানুষকে বুঝতে হবে, কোন গোষ্ঠী কোন ধরনের সংরক্ষণ পেল, কোন গোষ্ঠী তা পেল না তার জন্য পরস্পর লড়ে নিজেদের রক্তপাত করলে শোষিত মানুষেরই ক্ষতি। এতে সকলের জন্য কাজ, সকলের জন্য রোজগারের দাবিটাই পিছনে চলে যায়। সমস্ত শোষিত মানুষের একতার ভিত্তিতে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জনস্বার্থে প্রশাসন পরিচালনা ইত্যাদি জনজীবনের মূল দাবি আদায়ে গণতান্ত্রিক লড়াইটাই রক্তাক্ত গোষ্ঠী সংঘর্ষ সমাধানের রাস্তা। কিন্তু শাসকদের জনমুখী এবং সম্পূর্ণ গোষ্ঠী-নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি যে আজ একেবারেই অনুপস্থিত, এই সত্যটা বহু রক্ত দিয়ে মণিপুরের মানুষকে বুঝতে হচ্ছে।
আজকের দিনে কোনও বুর্জোয়া রাজনীতির কারবারি তো বটেই এমনকি বামপন্থী নামধারী পেটিবুর্জোয়া রাজনীতির কারবারিদের মধ্যেও এই দৃষ্টিভঙ্গি নেই। আজ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মঞ্চ থেকে দাবি তুলতে হবে– সরকারকে নিশ্চিত ভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হবে শুধু নয়, তা মানুষের সামনে সুস্পষ্ট ভাবে তুলে ধরতে হবে। পুলিশ, আধা সেনা, সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের জোরেই শান্তি বজায় রাখার ভ্রান্ত পথ ছেড়ে সরকারকে গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিতে হবে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিরস্ত্র করার ক্ষেত্রে সরকারের তরফে সমস্ত পক্ষপাতিত্ব বন্ধ করা সহ মিথ্যা অভিযোগে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করলে পুলিশ, সেনা সহ সরকারি অফিসারদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আর প্রয়োজন মণিপুরের মানুষের জীবনের জ্বলন্ত দাবিগুলির সমাধানে সরকারের পদক্ষেপ এবং সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিকে এর জন্য কাজে লাগানো।
কিন্তু আজকের দিনের বুর্জোয়া রাজনীতির বৈশিষ্ট্যই হল তারা মানুষকে নানা ভাগে ভাগ করে রেখে, পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিয়ে মানুষকে ব্যস্ত রাখে। যাতে সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবনের প্রকৃত সমস্যা ও তার কারণ নিয়ে ভাবতেই না পারে। তাই বিজেপি জলটা ঘোলা করেই রাখতে চাইছে, যাতে তার আখের গোছানোর, ক্ষমতা ধরে রাখার সুবিধা হয়। কোনও বুর্জোয়া রাজনীতির সুযোগসন্ধানী দল এই সমস্যার সমাধান করবে না। এগিয়ে আসতে হবে মণিপুর সহ সারা ভারতের গণতন্ত্রপ্রিয় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকেই, যাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ওপর সমস্যা সমাধানে চাপ সৃষ্টি করা যায়।