Breaking News

পাঠকের মতামতঃ নররাক্ষস বনাম সমাজতন্ত্র

Cover of the Russian children’s magazine Muzilka, 1949

পৃথিবীর সব আলো সব গান বুঝি ঢেকে যায় আজ অন্ধকারে। সব শিশুর কলরব যদি থেমে যায় সব কান্না যদি জড়ো হয় একসাথে, কে ঠেকাবে? এপস্টিনের ৩০ লক্ষ পাতার স্তূপ থেকে নারী শিশুদের আর্তনাদ উঠে আসছে। বুদ্ধিজীবীদের বিশেষ একটা অংশের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে খতরনাক ব্যক্তির নাম জিজ্ঞেস করলে চোখ বন্ধ করে তাঁরা স্ট্যালিনের নাম বলেন। তারই সূত্র ধরে তাঁরা বলেন, সমাজতন্ত্র খুবই খারাপ। কী অপরাধ ছিল স্ট্যালিনের? সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য যে প্রতিবিপ্লবী শক্তি সোভিয়েত রাশিয়াকে ঘিরে ধরেছিল, তার ষড়যন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ট্রায়ালের ব্যবস্থা করেছিলেন স্ট্যালিন। সে ট্রায়াল দেখার জন্য বিশ্বের সাংবাদিকদের আহ্বান করা হয়েছিল। আদালত ছিল প্রকাশ্য– সকলের চোখের সামনে। এই বিচারে যত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তার থেকে কয়েকগুণ বেশি মৃত্যু দেখানো হয় বুর্জোয়া সংবাদমাধ্যগুলোতে। সেই সময় জীবিত ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, রমাঁ রলাঁর মতো মানুষরা। তাঁরা কেউই এই ট্রায়াল সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেননি।

এ দিকে পুঁজির দাসত্ব করে চলা অমানুষ রাষ্ট্রপ্রধানরা যুদ্ধের পর যুদ্ধে কত কোটি মানুষের প্রাণ নিয়েছে, কত মানুষকে গৃহহারা করেছে তার ইয়ত্তা নেই। বিশ্ব জুড়ে নির্বিচারে শোষণ-লুণ্ঠন চালাতে চালাতেই তারা শোষিত মানুষের মুক্তির দিশারি মার্ক্স, লেনিন, স্ট্যালিন, মাও সে তুং-এর মতো মহান মানুষের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে চলেছে।

এই শতকে একের পর এক যুদ্ধে শিশুদের কান্না দেখে, রক্ত দেখে দুঃখে, ক্ষোভে ফেটে পড়েছি। ভেবেছি যারা যুদ্ধ করে তাদের কষ্ট হয় না! কিন্তু তখন তো জানা ছিল না যুদ্ধের চেয়েও বীভৎস জিনিসের চর্চা এই ‘গণতন্ত্রে’ হয়।

অবলীলায় লক্ষ লক্ষ শিশু সন্তানকে উদরস্থ করে ফেলে সভ্যতার ভড়ং দেখায় যারা, তাদের কাছে বোমা মেরে শহরের পর শহর উড়িয়ে দেওয়া এমন কী ব্যাপার! শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন নেতামন্ত্রীরাই নয়, বিরোধী দলের কর্তাব্যক্তিরা, কোনও দলের বাইরে থাকা অর্থবান অভিনেতা, খেলোয়াড়দের মতো ভুরি ভুরি সম্মানীয় ব্যক্তি এই ঘৃণ্য ব্যবস্থার অংশীদার, এই অসভ্য সমাজের ধারক। মুখে গণতন্ত্রের কথা, নারীমুক্তির কথা, কিন্তু আসলে তাদের কদর্য রূপ যে দেখে মানুষের অন্তঃস্থল পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। মানুষ অবাক হয়ে দেখছেন– এই বিরাট বৈভব, বিশাল প্রতিপত্তির ভিতরে কী ভয়াল কদর্যতা আর নৃশংসতা!

এদের হাতে আজ পৃথিবীর ভালোমন্দের দায়িত্ব আমরা তুলে দিয়েছি। আর আজও পর্যন্ত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুষ্টি উদ্ধার করে যাচ্ছি। এই সব তথাকথিত লিবারেল প্রোপাগান্ডাকারীরা কেন যে এটা করছেন তা আজ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এপস্টিন ফাইলে ৩০ লক্ষ পাতার মধ্যে একটি মাত্র বাক্যই এর জন্য যথেষ্ট– ‘ফিদেল কাস্ত্রো মারা গেছেন– আমার এখন অনেক সুযোগ’।

এই একটি মাত্র বাক্য এত কিছু কুৎসিত অন্ধকারের মাঝে এক দিগন্ত প্রসারিত আলোর দিশা। ছোট্ট সমাজতান্ত্রিক কিউবা এইসব নররাক্ষসদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। যেমন করে ঘুম কেড়েছিল ছোট্ট ভিয়েতনাম। হাড় হিম করা অন্ধকারের বুকে সেই ছিল আলোর দিশা। মার্ক্স-লেনিন-স্ট্যালিন-মাও সে তুং-ফিদেল কাস্তে্রা নতুন যুগের পৃথিবীর জন্য সেই আলোর গান গেয়েছিলেন, সৃষ্টি করেছিলেন সেই সমাজ।

শর্মিষ্ঠা বর্মন, যাদবপুর