আশাকর্মীদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি এআইইউটিইউসি-র

আশাকর্মীদের দাবি অবিলম্বে পূরণ করার আবেদন জানিয়ে এআইইউটিইউসি-র রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস ১০ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীকে নিচের চিঠিটি দেনঃ

আপনি জানেন যে, গ্রামীণ ও শহরের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেন যাঁরা, সেই আশাকর্মী ও পৌর স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলি নিয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন। তাঁদের দাবির অন্যতম– মাসিক বেতন ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা, ইনসেনটিভ সহ সকল বকেয়া টাকা অবিলম্বে দেওয়া সহ অন্যান্য দাবিগুলি আপনাকে এবং স্বাস্থ্য দপ্তরে বারবার পেশ করেছেন তাঁরা। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। এই অবস্থায় নিরুপায় হয়ে তাঁরা এই কর্মবিরতির কর্মসূচি নিতে বাধ্য হয়েছে। আজ কর্মবিরতির ১৯ দিন। এই কর্মবিরতির ফলে গ্রাম ও শহরের কোটি কোটি গরিব ও সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আপনার সরকারের পক্ষ থেকে এই স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের বার বার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কাজ করলেও তাঁদের সরকারি কর্মীর স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলি মেনে নেওয়া হয়নি। গত ৭ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ভবনে স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম সহ আধিকারিকরা অন্য দাবি সম্পর্কে সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিলেও বেতন সম্পর্কে কোনও আলোচনা করেননি। তাঁরা বলছেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন একমাত্র আপনি এবং আপনার মন্ত্রিসভা।

আমরা কর্মবিরতি শুরুর আগের দিন ২২ ডিসেম্বর আপনাকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। আবার ৬ জানুয়ারি চিঠি পাঠিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি।

এই অবস্থায় এআইইউটিইউসি রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে কোটি কোটি গরিব ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার স্বার্থে আপনার কাছে অনুরোধ, আশাকর্মী ও পৌর স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন (রাজ্য সরকার প্রদত্ত ফিক্সড অনারারিয়াম) বৃদ্ধির ঘোষণা করে তাঁদের কর্মবিরতির কর্মসূচি থেকে বিরত করার বাস্তব অবস্থা তৈরি করে গ্রাম-শহরের স্বাস্থ্য পরিষেবা স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করবেন।