Breaking News

আর জি করঃ ডিভিশন বেঞ্চেও পরাজিত রাজ্য সরকার, জয় আন্দোলনকারী ডাক্তারদের

অভয়া আন্দোলনের অন্যতম নেতা ডাঃ অনিকেত মাহাতোর মামলায় রাজ্য সরকারের আবেদনকে সরাসরি বাতিল করে সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আবারও প্রমাণিত হল, অনিকেত মাহাতোকে আর জি কর মেডিকেল কলেজ থেকে সরিয়ে রায়গঞ্জে পোস্টিং দেওয়া ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি ও প্রতিহিংসামূলক। গত ৬ নভেম্বর আদালত তার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, অনিকেতকে আর জি কর মেডিকেল কলেজেই পোস্টিং দিতে হবে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে অভয়া আন্দোলনের অন্যতম নেতা অনিকেত মাহাতো, আশফাকুল্লা নাইয়াদের এমডি/এমএস-এর চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা সমাপ্ত হয়। এ বছরের শুরুতে ফল প্রকাশ হয়। তারপর নিয়ম অনুযায়ী মোট তিন বছর সরকারি হাসপাতালে তাঁদের সিনিয়র রেসিডেন্ট পোস্টে কাজ করার কথা। কোন হাসপাতালে কার পোস্টিং হবে তা নির্ধারিত হয় মেধা তালিকার ভিত্তিতে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়াতেই অনিকেতের পোস্টিং হয়েছিল আর জি কর মেডিকেল কলেজে। অথচ বিজ্ঞপ্তি বেরলে দেখা গেল তার পোস্টিং পরিবর্তন করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে দেওয়া হয়েছে। অনিকেতের সঙ্গে আশফাকুল্লা নাইয়া ও দেবাশীষ হালদারের পোস্টিংও পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছিল। তিনজনেই এর প্রতিবাদে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আশফাকুল্লা ও দেবাশীষ নতুন পোস্টিংয়ের জায়গায় যোগ দিলেও অনিকেত প্রতিবাদ স্বরূপ যোগ না দিয়ে আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রথমে আদালতের সিঙ্গল বেঞ্চ অনিকেতের পক্ষে রায় দেয়। তারপরেও রাজ্য সরকার অনিকেতকে আর জি করে জয়েন করতে দেয়নি। সরকার ডিভিশন বেঞ্চে অনিকেতের বিরুদ্ধে আপিল করে। ডিভিশন বেঞ্চও রাজ্য সরকারের কাজকে বেআইনি বলে অনিকেতের পক্ষে রায় দেয়।

এ কথা আজ মানুষের কাছে স্পষ্ট যে, আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম নেতা অনিকেত মাহাতোদের উপর সরকারের এ হেন আচরণের মূল কারণ হল তাদের প্রতি প্রতিহিংসা। আর জি কর আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে জুনিয়র ডাক্তার নেতাদের উপর সরকার নানা ভাবে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছে ও তাঁদের হেনস্থা করছে। উদ্দেশ্য একটাই– মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে, আন্দোলন করলে তাদেরও অনিকেতদের মতোই অবস্থা হবে।

মানুষকে ভয় দেখানোই সরকারের লক্ষ্য। কিন্তু অত্যাচারী কোনও সরকারই এটা জানে না যে, অত্যাচার যত তীব্র হয়, প্রতিজ্ঞাও তত দৃঢ় হয়। গোটা রাজ্যের প্রতিবাদী মানুষ আর জি কর আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। তাঁদের এই লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ডাঃ অনিকেত মাহাতোরা যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন তা আন্দোলনের সামনে প্রেরণাস্বরূপ। রায়ে খুশি রাজ্যের মানুষ।