
‘ইনকিলাব মঞ্চের’ মুখপাত্র ও জুলাই-যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বাসদ (মার্ক্সবাদী)-র সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা ১৯ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে বলেন, আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত শরিফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। জুলাই অভ্যুত্থানের একজন যোদ্ধার এমন মৃত্যু কোনও ভাবেই কাম্য নয়। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর আপামর জনগণের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর। অথচ গত দেড় বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি হয়েছে। তার ফলে নির্বাচনী প্রচারকালে ওসমান হাদির মতো জুলাই-যোদ্ধাকে গুলি করা হল। সব চেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে না পারা। অন্তবর্তীকালীন সরকার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে না পারার দায় কোনও ভাবেই এড়াতে পারে না। এ রকম স্পর্শকাতর বিষয়ে ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ করা উচিত। অবিলম্বে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা সহ সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ হচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগ ও দুঃখের সাথে লক্ষ করা যাচ্ছে যে, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করেছে। ছায়ানটে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের আপসহীন যোদ্ধা নুরুল কবীরের উপর হামলা করেছে। একই ভাবে সারা দেশে বিভিন্ন নৈরাজ্যকারী ঘটনা ঘটাতে দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ধর্ম অবমাননার দায়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে তার লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা দেশকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে, সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করবে। এ সকল নৈরাজ্যকর ঘটনা আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করছে। অথচ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সহ সার্বিক স্থিতিশীলতার জন্য এ মুহূর্তে নির্বাচন জরুরি।
নির্বাচন বানচাল করে নিজেদের স্বার্থসুবিধা বজায় রাখতে এ ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই। দেশবাসীর কাছে আহTান জানাই হাদির হত্যাকারীদের বিচার করতে সরকারকে বাধ্য করুন এবং অপশক্তির প্ররোচনা পরিহার করে শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাব।