Breaking News

পাঠকের মতামতঃ নেতাজিকে আক্রমণ নীরব প্রশাসন

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজির অবদান বিরাট। এ কথা ভারত তথা সারা বিশ্বের মানুষ জানে। কিন্তু সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ বা সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরে সোস্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করে চলেছে। নেতাজিকে ছোট করে দেখানো জাতীয় লজ্জা। সঠিক ইতিহাস না জেনেই তাঁরা বিচারক হয়ে উঠেছেন এবং জাতীয় ইতিহাসকে বিকৃত করছেন। নেতাজি দেশের তরুণ সমাজের স্বপ্ন, তাঁকে ‘দেশনায়ক’ বলেছিলেন স্বয়ং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অথচ আজ তাঁকে নিয়ে শাসকদলের কিছু মানুষ কদর্য ভাষায় সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ করছেন এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব।

মুদ্রার উল্টো পিঠে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে প্রশাসনের তরফে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গণতান্ত্রিক সমাজে ব্যক্তির বাকস্বাধীনতা যেমন একটি মৌলিক অধিকার, তেমনই অন্যকে সম্মান করার দায়িত্বও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রধানমন্ত্রী হোক কিংবা মুখ্যমন্ত্রী, কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপমানজনক মন্তব্য কখনওই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। কেউ এই কাজ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

পাশাপাশি প্রশাসনের বোঝা উচিত নেতাজি সহ জাতীয় মনীষীরা কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নন, তাঁরা সমগ্র জাতির গর্ব। তাই তাঁদের কেউ অসম্মান করলে দোষীর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু নেতাজির মতো মনীষীদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের এই তৎপরতা নেই কেন?

বিট্টু দেবনাথ

মালদা