Breaking News

খ্রিস্টানদের উপর একের পর এক হামলা, ‘ভয় আউট ভরসা ইন’?

পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিনটি হামলা হল খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের উপর। ২৮ জুন খড়গপুরে বেথেল চার্চের উপর হামলা হয়। খ্রিস্টানরা একটি হ্যান্ডবিল বিতরণ করছিলেন। তা নাকি হিন্দু ধর্মে আঘাত করেছে। এ নিয়ে চার্চে হামলা চালানো হয়।

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার ফরিদপুর কলোনিতে গ্রেস চার্চে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। তারা প্রার্থনা চলাকালে আক্রমণ করে হল ভেঙে তছনছ করে দেয়। যাজকদের কোয়ার্টারে ঢুকে টাকা, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ট্রফি এবং গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সহ নানা জিনিস লুট করে। ঘটনার একদিন আগে দু’লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চার্চ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করা হয়েছিল। কাটোয়া থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ৫ জুলাই দক্ষিণ ২৪ পরগণার রাজপুর-সোনারপুর পৌর এলাকায় নির্মীয়মান একটি চার্চের উপর হামলা হয়। ছাদ ভাঙা হয়। গির্জার মাথায় উঠে ক্রুশ ভাঙা হয়। সংবাদপত্রের রিপোর্ট ও পুলিশের বক্তব্য, আক্রমণকারীরা আরএসএস অনুমোদিত হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্য। মঞ্চের বক্তব্য, খ্রিস্টানরা নাকি কিছু হিন্দুকে ধর্মান্তরিত করছিল এবং বেআইনি ভাবে চার্চ তৈরি করেছিল।

বেআইনি ভাবে চার্চ তৈরি হলে উপযুক্ত জায়গায় অভিযোগ দায়ের না করে কেন আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া? তা ছাড়া কেউ স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হলে বাধা দেওয়ার অধিকার তাদের কে দিয়েছে? জোর করে ধর্মান্তরিত করলে অভিযোগ তো করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ কেন? ধর্মান্তরকরণের জবাবে বঙ্গীয় খ্রিস্টান পরিষেবার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হেরোদ মল্লিক বলেন, ১৯৬১ সালে খ্রিস্টানরা ছিল বাংলার জনসংখ্যার ২.৪ শতাংশ। আজও তাই আছে। ধর্মান্তরকরণের ঘটনা প্রকৃতই ঘটলে খ্রিস্টান জনসংখ্যা এত কম হবে কেন? (সূত্রঃ টেলিগ্রাফ ১১ জুলাই ২০২৬)।

প্রত্যেক ব্যক্তিরই নিজ নিজ ধর্মপালনের অধিকার ভারতীয় সংবিধান দিয়েছে। আবার কেউ চাইলে অন্য ধর্ম গ্রহণ করতে পারে। এমনকি কোনও ধর্ম পালন না করার অধিকারও মানুষের রয়েছে। ক্ষমতার দম্ভে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা একে অস্বীকার করতে পারেন, কিন্তু তাতে সত্য পাল্টে যায় না। ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ ছিল বিজেপির নির্বাচনী স্লোগান। কিন্তু ভোটের পর সংখ্যালঘু মানুষদের নানা ভাবে হেনস্থা করা চলছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের উপর নানা ভাবে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। কোনও ধর্ম কি এমন শিক্ষা দিতে পারে? বাস্তবে ধর্মের নামে রাজনৈতিক আধিপত্য দেখানোর মহড়া চলছে। সংবিধানের নামে শপথ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সংবিধান মানলে তাঁকে সংখ্যালঘু এই ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও ধর্মাচরণের সাংবিধানিক অধিকারের উপর হামলা বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। রঙ না দেখে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং বিচার করে শাস্তি দিতে হবে। ‘আইনের শাসন’ কথাটিকে মুখের কথায় বন্দি না রেখে বাস্তবে কার্যকর করতে হবে।