
ভারত-মার্কিন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এফটিএ বাতিল, উৎপাদন খরচের দেড়গুণ হারে এমএসপি আইনসঙ্গত করা সহ কৃষক ও খেতমজুরদের জীবনের একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে ২৮ জুলাই দিল্লির মিন্টো রোডের সিভিক সেন্টার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হল সংযুক্ত কিসান মোর্চার (এস কে এম) জাতীয় কনভেনশন। এতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে সহস্রাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। বিভিন্ন রাজ্যের এসকেএম-এর গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিয়ে গঠিত হয় কনভেনশনের সভাপতিমণ্ডলী। এ আই কে কে এম এস-এর সর্বভারতীয় সভাপতি কমরেড সত্যবান সভাপতিমণ্ডলীতে নির্বাচিত হন এবং সমগ্র কনভেনশনটি পরিচালনা করেন। এ আই কে কে এম এস-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড শংকর ঘোষ সহ বিভিন্ন সংগঠনের ২৫ জন বক্তা বক্তব্য রাখেন।
কমরেড শংকর ঘোষ বলেন, কেন্দ্রের ফ্যাসিস্ট বিজেপি সরকার ৫ বছর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েও কৃষকদের কোনও দাবি পূরণ করেনি। উৎপাদন খরচের দেড়গুণ হারে এমএসপি আইনসঙ্গত করেনি, গ্রাহকবিরোধী বিদ্যুৎ বিল বাতিল করেনি শুধু নয়, কর্পোরেট স্বার্থে নতুন করে বিদ্যুৎ বিল ২০২৫ কার্যকর করে প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসাচ্ছে। বীজ বিল-২০২৫ চালু করে কৃষকদের কর্পোরেট পুঁজির আক্রমণের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ভারত-মার্কিন মুক্ত বাণিজ্য এফটিএ-র মাধ্যমে কৃষি ও ডেয়ারি শিল্পে যুক্ত কৃষক সহ আম জনতাকে ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কৃষিপণ্যের নয়া বিপণন নীতি চালু করে ঘুরপথে পাঁচ বছর আগে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হওয়া কালা কৃষি আইন আবার চালু করতে চাইছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কৃষক মজুরদের ঋণ মকুব না করে কর্পোরেট সেক্টরকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ মকুব করে দিচ্ছে। এই সরকার কর্পোরেটের স্বার্থে কৃষক-মজুরদের উপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাঁচ বছর হয়ে গেল এই ফ্যাসিস্ট কর্পোরেট সরকারের বিরুদ্ধে আমরা নানা ধরনের আন্দোলনের কর্মসূচি করছি। দাবি আদায়ের জন্য আমরা জেলায় জেলায় বিক্ষোভ-ডেপুটেশন-ধরনা কর্মসূচি করেছি, সারা দেশে মহাপঞ্চায়েত বা মহাসমাবেশ সংগঠিত করেছি, জাতীয় সড়ক এবং রেল সড়ক অবরোধ করেছি, রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি সনদ পেশ করেছি, কিন্তু সরকার সেই সব দাবিতে কান দিচ্ছে না। তাই আজ আমাদের এমন কর্মসূচি নিতে হবে যাতে সরকার দাবি মানতে বাধ্য হয়। এআইকেকেএমএস-এর প্রস্তাব ১৯ নভেম্বর দিল্লিতে কিসান-খেতমজুরদের লাগাতার ধরনা কর্মসূচি ঘোষণা করা হোক। কৃষকরা আগেই প্রমাণ করেছেন তাঁরা লড়তে পারেন, দাবি আদায় করতে পারেন। তাই গ্রামে গ্রামে আওয়াজ তুলুন ১৯ নভেম্বর দিল্লি চলুন। ফ্যাসিস্ট বিজেপি সরকারের কাছে আমরা মাথা নত করবে না। আমরা লড়ব, আমরা জিতব।’
সম্প্রতি গোটা দেশ জুড়ে ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনের কাছে ফ্যাসিস্ট মোদি সরকার মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে। এই ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা কনভেনশনে উপস্থিত হয়ে সংহতি জ্ঞাপন করে শ্রমিক-কৃষক- ছাত্র-যুবকদের যুক্ত আন্দোলনের আহ্বান জানান।
কনভেনশন থেকে দেশজোড়া আন্দোলনের সাতটি দাবি গৃহীত হয়। দাবিগুলি হল– ভারত-মার্কিন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং সমস্ত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করা, উৎপাদন খরচের দেড়গুণ হারে এমএসপি আইনসঙ্গত করা, চারটি শ্রমকোড বাতিল করা এবং সমস্ত শ্রমিকের ন্যূনতম মাসিক ২৬ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ করা, এমজিএনআরইজিএ পুনরুজ্জীবিত করে জব কার্ডে বছরে ২০০ দিনের কাজ ও দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি দেওয়া ইত্যাদি।
সিদ্ধান্ত হয় ১০ আগস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৮০তম বার্ষিকীতে দেশের ১০০০টি স্থানে জেল ভরো, রেল রোকো, রাস্তা রোকো ইত্যাদি আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করা হবে।
সিঙ্ঘু বর্ডারে দিল্লির ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনে ৭৩৬ জন শহিদ কৃষকের স্মরণে শহিদ স্মারক গড়ে তোলার প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তীব্র খরা-বন্যা-ভাঙন ইত্যাদি পরিবেশগত কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবও গৃহীত হয়।