
এমন দৃশ্য শেষ কবে দেখেছে ভারত! দেশজোড়া তীব্র প্রতিবাদের ঝড়ের সামনে নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের নৈতিক দায় মেনে নিয়ে পদত্যাগ করতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে! যে ফ্যাসিস্ট বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রতিবাদীদের আন্দোলনজীবী বলে ব্যঙ্গ করেন, যে সরকার সমস্ত প্রতিবাদকে দাগিয়ে দেয় ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ বলে, তাকেও অবশেষে মাথা নোয়াতে হল দেশ জোড়া প্রতিবাদের সামনে।
ভারতের প্রতিবাদী ছাত্র-যুবকরা ২৫ জুলাই এমনই এক নতুন ইতিহাস রচনার গৌরব অর্জন করলেন। ছাত্র যুবকরা শুধু নয়, সব স্তরের সব পেশার অসংখ্য মানুষের, বলতে গেলে প্রায় গোটা দেশের দেহ-মন মিশে গিয়েছিল প্রতিবাদের এই জোয়ারে। নিপীড়িত মানুষের মাথা তোলার ইতিহাসে এ এক সন্ধিক্ষণ। স্বৈরাচারী বিজেপি সরকারের এমন শক্তি ছিল না যে অস্বীকার করে। প্রতিবাদের আগুনের এই উত্তাপ বহু দিন ধরে জেগে থাকবে মানুষের বিবেকে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তোলার শক্তি জোগাবে। মনে পড়ে, পাঁচ বছর আগে ৭০০ শহিদের আত্মদানের বিনিময়ে এক বছরের বেশি ধর্না চালিয়ে বিজেপি সরকারকে মাথা নত করিয়েছিলেন কৃষক সমাজ। আজ আবার আন্দোলনের শক্তি দেখল ভারত।
দু’বছর আগের জুলাইতে প্রতিবেশী বাংলাদেশের ছাত্ররা স্বৈরাচারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দু’হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দিয়েছিল পুলিশের গুলির সামনে। আর এক জুলাইতে ভারতের ছাত্ররা দিল্লি পুলিশের চোখে চোখ রেখে লাঠি, টিয়ার গ্যাসের সামনে অবিচল হয়ে দাঁড়াল। পুলিশের সাথে মিশে থাকা আরএসএস-বিজেপি কর্মীদের মারও সহ্য করল। দিল্লিতে পুলিশের পেলেট গানের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত মুখগুলো, দেহের সর্বত্র পেরেক লাগানো লাঠির আঘাতের জয়তিলক বরণ করে নিয়ে অদম্য জীবনীশক্তিতে অবিচল থাকা তরুণ-তরুণীরা এই আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। একই সাথে বলতে হয় মুম্বাইয়ের রাজপথে একা একটি পুলিশের গাড়ি রুখে দেওয়া তরুণী, পাটনায় জলকামানকে ব্যঙ্গ করে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠা ছাত্র-যুবদের কথা, বলতে হয় কলকাতার রাজপথে ঢেউ তোলা ছাত্র-যুব-নাগরিক সমাজের কথা। সকলেই শামিল এই প্রতিবাদী জোয়ারে। নিরস্ত্র, শান্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভকারীদের তেজের সামনে তাদের দিকে তাক করা সংসদ ভবনে মোতায়েন আধাসামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক অস্ত্রকেও তাই নিতান্ত মামুলি দেখায়। দেশের সর্বত্রই যৌবনের উত্তাল তরঙ্গের সামনে পুলিশ, র্যাফ, আধা সামরিক বাহিনীর ব্যারিকেড ভেসে যায় বালির বাঁধের মতো। শুরু হয়েছিল নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের বিরোধিতা দিয়ে। যত দিন গেছে বিজেপি সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে দেশবাসীর বুকে জমে থাকা তীব্র ক্ষোভ-বিক্ষোভ বিস্ফোরণের আকারে বেরিয়ে আসার পথ করে নিয়েছে আন্দোলনে। মূল্যবৃদ্ধিতে জেরবার মানুষ, ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেও ডেলিভারি বয়ের কাজ নিতে বাধ্য হওয়া যুবসমাজ, কেন্দ্রের এবং রাজ্যে রাজ্যে সরকারগুলোর দুর্নীতি, শিক্ষার বেসরকারিকরণের ফলে বিপুল ফি-র ফাঁসে জর্জরিত ছাত্রসমাজ এই আন্দোলনের সাথে একাত্ম হয়েছেন। উন্নয়নের নামে যথেচ্ছ উচ্ছেদ, সংখ্যালঘু-দলিত-প্রান্তিক মানুষের প্রতি ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করা, এসআইআর-এর নামে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে বেনাগরিক করে দেওয়ার চক্রান্ত – এমন বহু বিষয়ের ক্ষোভও এক যোগে বেরিয়ে আসতে চেয়েছে এই আন্দোলনের পথ বেয়ে। বিজেপির জাতীয় শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, ছাত্রদের প্রতিবাদও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। সেই কারণেই আন্দোলন ছাড়িয়েছে রাজ্যে রাজ্যে। দিল্লি থেকে শুরু করে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট সহ রাজ্যে রাজ্যে পুলিশের লাঠি, কাঁদানে গ্যাসের তোয়াক্কা না করা তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে দেখে শেষ পর্যন্ত সরকার মাথা নিচু করতে বাধ্য হল।
বুক পেতে পুলিশের মার নিতে নিতে হাজার হাজার ছাত্র-যুবক দেখিয়ে দিলেন, স্বৈরাচারী শাসকের আসল বিরোধীপক্ষ হল জনগণ। গণতন্ত্রের আসলনির্মাণ হয় আন্দোলনের রাস্তাতেই। বুকের রক্ত দিয়ে শোষিত মানুষ তার মূল্য চোকায়। সংসদের ঠাণ্ডা ঘরের কূটকচালিতে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব নেই। আজ ভোটে নির্বাচিত শাসকরা ব্যস্ত বিরোধী দলের প্রতিনিধি কেনায়, বিরোধীরা ব্যস্ত অন্তর্দলীয় কোন্দলে আর কোন দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা কী কৌশলে বাঁচতে পারে তার সন্ধানে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদী ছাত্র-যুবদের সংগ্রাম দেখাল আন্দোলনই গণতন্তে্রর রাজপথ, আন্দোলনই পারে দাবি আদায় করতে, আন্দোলন নব নব ইতিহাস রচনা করে।
মাত্র কয়েকদিন আগেও প্রধানমন্ত্রী ভান করছিলেন, তিনি যেন সব কিছুর ঊর্ধ্বে! সেই তাঁকেই মধ্যরাতে প্রশ্ন ফাঁস বিরোধী বিল পাশের ঘোষণা করতে হয়েছে। বলতে হয়েছে– প্রশ্ন ফাঁস পাপ। বলতে হয়েছে, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরি করে নিট কেলঙ্কারির তদন্ত হবে। কিন্তু তিনি বলেননি, নিট-ইউজি পরীক্ষা, সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পরীক্ষা সিইউইটি সহ ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) এবং কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত প্রায় সমস্ত পরীক্ষাতেই দুর্নীতি ও অব্যবস্থা ‘স্বাভাবিক’হয়ে উঠেছে কেন? নিট কেলেঙ্কারির কারণে ২০ জন ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেননি এ পাপ কার? অথচ পাপের বোঝা সমস্ত দেশবাসীকে বইতে বলেছেন। প্রতিবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল এ পাপ আসলে আরএসএস-বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের। আন্দোলনের সামনে দাঁড়িয়ে তড়িঘড়ি ‘ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্ট’ গঠন করে বিচারের কথা বলেছে সরকার। নৈতিক দায় স্বীকারেই যে সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর লাগে ৬৪ দিন, তারা করবে ফাস্ট ট্র্যাক বিচার! প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নতুন আইন ছিল না বলেই কি ৯ বছরে এনটিএ পরিচালিত ৮৯টি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে? যে আইন আছে তাতেই সরকার বিচার করতে চাইলে ২০২৪-এ নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের তদন্ত দু’বছরেও শেষ করল না কেন? এ জন্য সিবিআইয়ের কাছে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কৈফিয়ত চায়নি কেন? কেন প্রধান অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণই পেশ করেনি সিবিআই? এ তো গভীর পাপের ইঙ্গিত! সিবিআই বলেছিল এনটিএ-র অভ্যন্তরের কেউ প্রশ্ন ফাঁসে দায়ী নয়। অথচ আন্দোলনের ধাক্কায় এনটিএ-র ৪৭ জন আধিকারিককে প্রশ্ন ফাঁসের জন্য দায়ী করেছে কেন্দ্রীয় সরকার! কে কার পাপ ঢাকছে?
দুন¹তির পাপ তো শুধু নিট প্রশ্ন ফাঁসেই নেই, এই পাপ এখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। বর্তমান বিজেপি এবং অতীতের কংগ্রেস সরকারের শিক্ষানীতির মধ্যেই আছে দুর্নীতির বীজ। ২০১৩-তে কংগ্রেস সরকার মেডিকেল ও অন্যান্য ক্ষেত্রে রাজ্য ভিত্তিক প্রবেশিকা পরীক্ষার বদলে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা চালুর চেষ্টা করে। তখনই প্রতিবাদ করে এসইউসিআই(সি) বলেছিল, এ ব্যবস্থা দুর্নীতি দূর করার বদলে তার কেন্দ্রীভবন ঘটাবে। ২০১৭-তে বিজেপি সরকার চালু করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ। মেডিকেল শিক্ষার নির্বাচিত কাউন্সিল ভেঙে দিয়ে আমলা ও সরকারের পেটোয়া মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি করে ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন। অতীতে কংগ্রেসের ও বর্তমান বিজেপির জাতীয় শিক্ষানীতি একই পথে হেঁটে শিক্ষাকে পুরোপুরি বেসরকারি হাতে বেচে দিয়ে তার বাণিজ্যিকীকরণ করছে। জাতীয় শিক্ষানীতির ছকে ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানেজমেন্ট ও মেডিকেল শিক্ষাই হয়ে উঠেছে ছাত্রছাত্রীদের প্রায় একমাত্র গন্তব্য। বিপুল মুনাফার সুযোগ থাকায় এই ক্ষেত্রগুলিতেই পুঁজি ঢালছে বৃহৎ পুঁজিপতি গোষ্ঠী। শিক্ষা হয়ে উঠছে কোচিং নির্ভর। ভারতে এই মুহূর্তে ৬০ হাজার কোটি টাকার কোচিং ব্যবসা চলছে। যারই বহিঃপ্রকাশ এই নিট দুর্নীতি। কোচিং ব্যবসায় লগ্নি করা বহুজাতিক পুঁজিপতিরা বিজেপির তহবিলে ইলেকশন বন্ড এবং অন্য পথে শত সহস্র কোটি কোটি টাকা ঢেলেছে। এই মাফিয়া চক্রই প্রশ্ন ফাঁসের হোতা। তারা কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও অন্যান্য কিছু দলের তহবিলেও টাকা ঢেলেছে।
সংসদীয় বিরোধী দলগুলির আন্দোলন বিমুখতা ও নিতান্ত পঙ্গু দশা সাধারণ মানুষকে বিকল্পের খোঁজ করতে বাধ্য করেছে। অসহায়ভাবে নেতৃত্ব খুঁজে বেড়িয়েছে মানুষ। এই বিপুল জনপ্লাবনের সামনে কার্যত কোনও নেতৃত্ব ছিল না। সংসদীয় বিরোধী দলগুলি, যারা বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে কিছুদিন আগেই ভোট চেয়েছে, তারা নিট দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যত কিছু করেনি। একমাত্র ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও রাজ্যে রাজ্যে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলেছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের প্রচারে যাদের রোজ দেখা যায় সেই সব দল ও ছাত্রসংগঠনগুলির নীরবতা ছাত্র-যুবদের ঠেলে দিয়েছে এক অসহায় পরিস্থিতিতে। ডুবন্ত মানুষের খড়কুটো ধরে বাঁচার চেষ্টার মতো তাঁরা আঁকড়ে ধরেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র মতো নিতান্তই সমাজমাধ্যম নির্ভর একটি গোষ্ঠীকে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির যুব সমাজ সম্পর্কে কিছুটা বিদ্রুপাত্মক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় হঠাৎ করে যা গড়ে উঠেছে। তারা ধরনা শুরু করার পর বিজেপি ভেবেছিল খুব সহজেই এর মোকাবিলা করা যাবে। এর সাথে যুক্ত হয় লাদাখে বিজেপি সরকারের অত্যাচারের শিকার সমাজকর্মী ও বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুকের অনশন। কিন্তু দেখা গেল মানুষের জীবনের বহু জ্বলন্ত দাবি জুড়ে গিয়ে আন্দোলন এক জনপ্লাবনের রূপ নিয়ে নিল। কোনও বিশেষ নেতার ভূমিকা ছাড়াই আন্দোলন এগিয়ে গেল জয়ের পথে। অবশ্য পরে বৃহৎ পুঁজিপতিদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম আপ্রাণ চেষ্টা করছে কংগ্রেস নেতৃত্বকে আন্দোলনের মুখ হিসাবে তুলে আনতে। কারণ বিজেপি বিরোধী বিক্ষোভকে ভোটের বাক্সে পুরে মালিক শ্রেণিরই আর এক দলের পক্ষে নিয়ে যাওয়া তাদের প্রয়োজন।
ফ্যাসিস্ট বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এই বিপুল জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সংগ্রামী ছাত্র-যুব সমাজের কাছে আবেদন, এ দেশে বিক্ষোভ, আন্দোলন, ছাত্র-যুবদের অসীম আত্মদানের ইতিহাস কিছু কম নয়। কিন্তু যে লড়াই আপনারা লড়লেন তা এক মন্ত্রীর পদত্যাগেই শেষ হয়ে যেতে পারে না। এক মন্ত্রী গেলে আর এক মন্ত্রী এসে আরএসএস-বিজেপির এই শিক্ষানীতিই প্রয়োগ করবেন। যুক্তিহীন মন তৈরি করবে। এই নীতি শিক্ষাকে বেচাকেনার সামগ্রী করে দেওয়ায় পরীক্ষা ও নিয়োগে দুর্নীতি আরও লাগামছাড়া হবে। বিজেপি সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে তাই লড়তে হবে। একই সাথে, যে শোষণমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার কারণে শিক্ষা বিপন্ন, ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যৎ জীবন অনিশ্চিত, তা জগদ্দল পাথরের মতো সমাজের বুকে চেপে বসে থাকলে এ জিনিস বারবার ঘটতে থাকবে। এই সমাজব্যবস্থাকে হটিয়ে শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লড়াইয়ের রাস্তা এবং তার পরিপূরক রাজনীতিকে চিনতে না পারলে, তাকে শক্তিশালী করার পথে না গেলে এই জয় যত বড়ই হোক না কেন, তা সম্পূর্ণ জয় এনে দিতে পারে না। ছাত্র-যুবদের রক্ত-ঘাম ঝরানো লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে এই সত্য ভেবে দেখার অনুরোধ রইল।