
কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার একতরফা ভাবে শ্রমিক-বিরোধী শ্রম কোডের নিয়মগুলি কার্যকর করার আদেশ জারি করেছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এ আই ইউ টি ইউ সি-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড শঙ্কর দাশগুপ্ত ১০ মে একবিবৃতিতে বলেন–
দেশ জুড়ে সমগ্র শ্রমজীবী মানুষের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও, কেন্দ্রীয় সরকার ৮ মে মজুরি কোড (২০১৯), সামাজিক নিরাপত্তা কোড (২০২০), শিল্প সম্পর্ক কোড (২০২০) এবং পেশাগত সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও কাজের শর্তাবলি সংক্রান্ত কোড চালু করার চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিয়েছে। এআইইউটিইউসি এই স্বেচ্ছাচচারী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করছে।
শ্রম কোড চালুর আগে সরকার কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সাথে কোনও কার্যকরী অলোচনা করেনি, ভারতীয় শ্রম সম্মেলনও ডাকেনি। তাদের এই একতরফা পদক্ষেপ একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক নিয়মের ওপর সরাসরি আঘাত, একই সাথে তা আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড চুক্তির চূড়ান্ত লংঘন। প্রসঙ্গত, ভারত এই চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। ব্যবসা-বাণিজ্যের সহজ পরিবেশ তৈরির নামে এই কোডগুলিতে, শ্রমজীবী মানুষের জীবনের চেয়ে একচেটিয়া মালিকদের মুনাফাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
১৫০ বছরের ঐতিহাসিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভারতীয় শ্রমিকরা যে সমস্ত বিধিসম্মত অধিকার অর্জন করেছিলেন এই শ্রমকোড তা বাতিল করে ভারতীয় শ্রমিকদের কার্যত ঔপনিবেশিক শোষণের আমলে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ইউনিয়ন নথিবদ্ধ করারপদ্ধতিকে আরও কঠিন করা, নিয়োগকর্তাদের আইন লংঘনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, ট্রেড ইউনিয়নের কার্যকলাপকে অপরাধ বলে দাগিয়ে দেওয়া এবং ধর্মঘটের অধিকার কার্যত কেড়ে নেওয়ার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা।
এতে সীমিত মেয়াদের কাজ এবং সীমাহীন শ্রম-সময়কেই স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে, যা চাকরি ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার ভিত্তিটিকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। সামগ্রিক হারে ন্যূনতম মজুরির বদলে ‘ফ্লোর লেভেল ন্যূনতম মজুরি’ এবং ক্ষেত্র অনুসারে যে নির্দিষ্ট সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার বাধ্যবাধকতা আজও আছে তা ভেঙে দিয়ে সরকার অসংগঠিত ও সংগঠিত শ্রমিকদের প্রতি নিজের দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলেছে। এতদিন ধরে চালু থাকা নজরদারির ব্যবস্থা এই কোডগুলির মাধ্যমে বাতিল করার মাধ্যমে কর্মচারীদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আইন ভঙ্গকারী মালিকদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক, ব্যাপক সর্বভারতীয় ধর্মঘট সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার এই কোডগুলি প্রত্যাহার না করার একগুঁয়েমি দেখিয়ে যাচ্ছে।
এ আই ইউ টি ইউ সি দৃঢ় ভাবে ঘোষণা করছে যে, সংগ্রাম তীব্রতর করা ছাড়া আর আমাদের সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই। শ্রমিক শ্রেণির কাছে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি এই নির্মম শ্রম কোডগুলি চালু করার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রাচীর গড়ে তুলুন। শ্রমিক-বিরোধী, অসাংবিধানিক এবং অমানবিক এই কোড সম্পূর্ণরূপে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব।