Breaking News

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বাজেটঃ শুধুই সংখ্যাতত্ত্বের কারসাজি

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়বরাদ্দ গতবারের থেকেও ১০ শতাংশ বাড়ানোর যে কথা বলেছেন, তা সর্বৈব অসত্য। কেন্দ্রীয় বাজেট সম্পর্কে ২ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সজল বিশ্বাস। তিনি বলেন, বাস্তবে এ বছর আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ অর্থকে স্বাস্থ্য বাজেটের মধ্যে যুক্ত করে ধরা হয়েছে। তা বাদ দিলে সর্বসাকুল্যে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়বরাদ্দ দাঁড়ায় ৯৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। যা গতবারের প্রাথমিক অর্থ বরাদ্দের চেয়ে ৩.৬৯ শতাংশ কম। যদিও প্রতি বছরই প্রাথমিক ভাবে বরাদ্দকৃত অর্থ পরবর্তী কালে ১০ থেকে ১২ শতাংশ কমে যায়। এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না সেটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। ফলে প্রাথমিক ভাবে বরাদ্দকৃত এই অর্থ আরও কমবে। ইতিমধ্যেই টাকার যা অবমূল্যায়ন হয়েছে, তা ধরলে স্বাস্থ্যখাতের এই বরাদ্দ কার্যত বহুগুণ কমানো হল। জনস্বাস্থ্যের উপর যার প্রভাব মারাত্মক ভাবে পড়বে।

উপরন্তু এই বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে বায়োফার্মা প্রস্তুতকারক সংস্থার জন্য যা আগামী ৫ বছর ধরে খরচ করা হবে। অত্যাবশ্যকীয় ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বিপুল ঘাটতি পূরণ দূরের কথা, চলমান স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলি পরিচালনার ক্ষেত্রেও এই বাজেট কোনও দিশা দেখাতে পারেনি।

কেন্দ্রীয় সরকারের তৃতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে বলা হয়েছিল, ২০২৫-এর মধ্যে স্বাস্থ্য বাজেটে জিডিপি-র ২.৫ শতাংশ বরাদ্দ করা হবে। ভোর কমিটির সুপারিশে রয়েছে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপি-র ন্যূনতম ৫ শতাংশ খরচ করতে হবে। কিন্তু এ বছর বরাদ্দ করা হয়েছে জিডিপি-র মাত্র ০.২২ শতাংশ। যা গতবারের থেকেও অনেক কম।

এই বাজেটে জেলা স্তরে ক্যান্সার চিকিৎসার পরিকাঠামো, ট্রমা কেয়ার সেন্টার, রোবোটিক সার্জারি, ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট, এআই বেসড ট্রিটমেন্ট, ব্লক স্তরে সুপার স্পেশালিটি চিকিৎসার পরিকাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে। গত বছর বাজেটেও এর বেশিরভাগ প্রতিশ্রুতিই ছিল। কিন্তু টাকার অভাবে কোথাও কোনও প্রতিশ্রুতিই পূরণ হয়নি। ক্যান্সারের বেশ কিছু ওষুধের উপর গত বছরও কাস্টমস ডিউটি ছাড় দেওয়া হয়েছিল। দাম কমেছে কতটা? আসলে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাই সরকারের হাতে এখন আর নেই। এই বাজেটে নতুন নতুন পরিকাঠামোর কথা ঘোষণা হলেও, তার জন্য প্রয়োজনীয় কোনও বাজেটই বরাদ্দ করা হয়নি।

এই বাজেটে ১ লক্ষ অ্যালায়েড হেলথ পার্সোনাল (এএইচপি) তৈরির কথা বলা হলেও তা কার্যত বেসরকারি প্রতিষ্ঠাননির্ভর করা হয়েছে। বুনিয়াদি স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলো ইতিমধ্যেই জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মাধ্যমে বহুলাংশে বেসরকারিকরণ করা হয়েছে। বাজেটে এই সব খাতে বরাদ্দ না বাড়ানোর ফলে, বিগত বছরগুলির ঋণ মেটানোই দুষ্কর হয়ে পড়ছে। ফলে টাকার অভাবে এই সব অত্যন্ত জরুরি পরিষেবা যেমন মুখ থুবড়ে পড়ছে, সেই সুযোগে এই সব পরিষেবায় ব্যবসায়ীদের অনুপ্রবেশের রাস্তা প্রশস্ত করা হল।

সার্বিক ভাবে এই বাজেট এক দিকে যেমন মিথ্যা সংখ্যাতত্তে্বর ভারে জর্জরিত, যা মানুষের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। তেমনই অপ্রতুল অর্থবরাদ্দের ফলে সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের আরও বেশি করে ঢোকার সুযোগ করে দিয়েছে।