কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিলে পরীক্ষা নেওয়া যেত(পাঠকের মতামত)

প্রতিকী ছবি

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সকল ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের অন্যতম বড় পরীক্ষা । রাজ্য সরকার দীর্ঘ টালবাহানার পর ঘোষণা করেছে করোনা মহামারিতে এবারে পরীক্ষা হবে না। কিন্তু যে সমস্ত পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল তাদের কী হবে? পরীক্ষার মাধ্যমেই একজন ছাত্র ছাত্রীর যথার্থ মূল্যায়ন সম্ভব । মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে স্কুলগুলো নির্ধারণ করে উক্ত ছাত্র-ছাত্রী পরবর্তী ক্লাসে কি বিষয় নিয়ে পড়বে বিজ্ঞান ,কলা না বাণিজ্য । পরীক্ষা ছাড়া অন্যকোন পদ্ধতিতে তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় । ঠিক একইভাবে উচ্চমাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের উপর ভিত্তি করে স্নাতক স্তরে অনার্স পড়ার বিষয় নির্ভর করে।

মহামারি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে, বিজ্ঞানীদের পরামর্শ নিয়ে, সমস্ত শিক্ষক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, ও ডাক্তারদের পরামর্শের ভিত্তিতে কী উপায়ে পরীক্ষা পরিচালনা করা যায়, তা ঠিক করা কি যেত না? করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ভ্যাকসিন দেওয়া হলে তাদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরা যেত। পরীক্ষা নেওয়ারক্ষেত্রে আরও একধাপ এগোতে পারত সরকার। করোনা মহামারির এই সংক্রমণের মুহূর্তে পরীক্ষার সিলেবাস সংকুচিত করে একই দিনে বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন করে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারত। কোনও কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে হোম অ্যসাইনমেন্ট,  টেলি কলিং ভাইভার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারত। ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের হোমসেন্টারগুলিতে পরীক্ষানেওয়ার ব্যবস্থা করাযেত। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য ভিন্ন স্কুলের শিক্ষক এমনকি পরীক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যাপারে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদেরও কাজে লাগানো যেত। সরকারিভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিকে স্যানিটাইজেশন এবং পরীক্ষার্থীদের মাস্ক, স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভসের ব্যবস্থা করাযেত। পরীক্ষার দিনগুলোতে যথাযথ পরিবহণের ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করা যেতে পারত। পরীক্ষার দিন সেন্টারগুলোতে অযথা ভিড় প্রতিরোধে সরকারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত। এই বিকল্প ভাবনা গুলোর মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হলে ছাত্রদের যথার্থ মূল্যায়ন সম্ভব হত। কিন্তু সরকার তা করল না। এগুলি করা অসম্ভবও ছিল না। গভীর পরিতাপের বিষয় আমরা দেখলাম রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার বিষয়ে ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষক অভিভাবক, বিভিন্ন সংগঠনের মতামত একদিনের মধ্যে ইমেল মারফত জানাবার কথা বলেছিল। যেখানে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক মোট পরীক্ষার্থী কুড়ি লক্ষেরও বেশি, সেখানে মাত্র ৩৪ হাজার মতামত এসেছে। একে কি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত হিসাবে মেনেনেওয়া যায়? আসলে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে পরীক্ষা নেবে না, মতামত নেওয়াটা জনগণেরচোখে ধুলো দেওয়া ছাড়া আর কিছুই না। ইতিমধ্যে পরীক্ষা না হওয়ার মানসিক যন্ত্রণায় এক ছাত্রী আত্মহত্যার পথবেছে নিয়েছে। এই মৃত্যুর দায় কি এড়াতে পারে সরকার?

শ্যামল দত্ত, উত্তর দিনাজপুর

গণদাবী ৭৩ বর্ষ ৩৬ সংখ্যা