
ন্যায়সঙ্গত দাবিতে ২৩ ডিসেম্বর থেকে আশাকর্মী ও পৌর স্বাস্থ্যকর্মীরা লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। এই কর্মীরা কোটি কোটি গরিব মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে যুক্ত। এই অবস্থায় আশা ও পৌর স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি আহ্বানকারী সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে এআইইউটিইউসি-র রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস মুখ্যমন্ত্রীকে ২২ ডিসেম্বর এক চিঠিতে বলেন,
আশাকর্মী ও পৌর স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবির অন্যতম হল– মাসিক বেতন ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা করা, ইনসেনটিভ সহ সকল বকেয়া টাকা অবিলম্বে দেওয়া, কর্মরত অবস্থায় কোনও কর্মীর মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, করোনা আক্রান্ত কর্মীদের প্রতিশ্রুত ১ লক্ষ টাকা অবিলম্বে দেওয়া সহ অন্যান্য যুক্তিসঙ্গত দাবি। এই দাবিগুলি তারা আপনার কাছে এবং স্বাস্থ্য দপ্তরে বার বার পেশ করেছে।
কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। এমতাবস্থায় তাঁরা নিরুপায় হয়ে কর্মবিরতির কর্মসূচি নিতে বাধ্য হয়েছে। কমরেড অশোক দাস ওই চিঠিতে বলেন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই স্বাস্থ্য কর্মীদের কাজের বার বার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কাজ করলেও তাঁদের সরকারি কর্মীর স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো মেনে নেওয়া হয়নি। বরং আন্দোলনরত কর্মীদের বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে ও আন্দোলন তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় এআইইউটিইউসি-র রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে কোটি কোটি গরিব মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার স্বার্থে আপনার কাছে অনুরোধ করছি, এই কর্মবিরতি আহ্বানকারী সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গে আজই আলোচনায় বসার ব্যবস্থা করুন এবং তাঁদের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো মেনে নিয়ে তাঁদের কর্মবিরতি কর্মসূচি থেকে বিরত করুন।
কর্মবিরতি শুরু হলে এবং এর ফলে গরিব মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা বন্ধ হলে, তার দায় আপনার সরকারকেই নিতে হবে।