
বিহার ভোটের ফল বেরনোর পর মনে পড়ছিল এক নিতান্ত সাধারণ বিজেপি কর্মীর কথা–‘আমরা গরিব মানুষ, কোনও কিছু পাই না। কোনও বিষয়েই নিশ্চয়তা নেই। তাই যে যা সামান্য কিছু দেয় তা ছাড়তে পারি না, সে দিকেই আমাদের পরিশ্রম সমর্থন সব উজাড় করে দিই। এর পরে যদি আর কিছু না পাই! সেই ভয় থাকে বলেই অতি সামান্য কিছু দিয়েই আমাদের কেনা যায়।’ পাটনার এক দরিদ্র মহল্লার মলিন ঘরে বসে বিজেপি প্রার্থীর রঙীন উজ্জ্বল ফটোওয়ালা খামে ভোটের প্রচারপত্র ভরতে ভরতে কথাগুলো বলেছিলেন মানুষটি। এস ইউ সি আই (সি)-র বক্তব্য শুনে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল– ‘কথাগুলো আপনাদের একদম ঠিক, এগুলোই গরিব মানুষের জীবনের কথা। কিন্তু সহজে পাওয়ার সুযোগটাও যে ছাড়তে পারি না’! বিহার নির্বাচনে সাধারণ মানুষের প্রাপ্তি কী, প্রশ্নটার একেবারে চুম্বকে দেওয়া উত্তর বোধহয় এটাই হতে পারে।
তবে যে বড় বড় সংবাদমাধ্যম বলছে, শুধু জাতপাতের সমীকরণ, প্রতিশ্রুতির ফোয়ারা আর বৈধ-অবৈধ উভয় প্রক্রিয়ায় ছড়ানো টাকাই এখানে আসল চালিকাশক্তি!এতেই যদি সব হয়ে যেত, তা হলে কেন্দ্রীয় শাসক দলের নির্দেশে খোদ নির্বাচন কমিশনকে কোমর বেঁধে নেমে ভোট ম্যানেজ করতে হল কেন? এটাই দেখিয়ে দিচ্ছে, সারা ভারতের সাধারণ মানুষের মতোই বিহারের সাধারণ মানুষ যেমন তথাকথিত গ্ল্যামারওয়ালা ভোটবাজ সংসদীয় দলগুলির কোনওটিকে আসলে বিশ্বাস করে না, সেই সব দলের নেতারাও মানুষকে বিশ্বাস করেন না। সারা ভারতেই এখন সংসদীয় গণতন্ত্রের চরিত্র যা দাঁড়িয়েছে বিহারও তার ব্যতিক্রম নয়। জনমানসের আশা-আকাঙক্ষা, প্রকৃত জনমতের সাথে নির্বাচনী ফলাফলের কোনও সম্পর্ক খুঁজে পাওয়াই মুশকিল।
গ্রামে গঞ্জে মানুষের জটলায় একটু কান পাতলেই বোঝা যায় দেশের অন্য যে কোনও জায়গার মতো বিহারের মানুষের মনেও যে আকাঙক্ষা নীরবে অদৃশ্য ফল্গুধারার মতো বয়ে চলেছে তা হল খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলার মতো একটা দল এবং নেতা। আর এই তথ্যটা খুব ভাল করে জানে আমির-পুঁজিপতিদের কেনা গোলাম বড় বড় দলের নেতারা। তাই ঠিক এই জায়গাটাতেই কৌশল করে তাঁরা ঠকান মানুষকে। রাজনীতি নিয়ে গভীরে মাথা না-ঘামানোর দীর্ঘ বদঅভ্যাসে মানুষ ঠকে বারবার। তাঁদের এই গোলকধাঁধা থেকে বার করে এনে রাস্তা চেনানো এবং প্রকৃত আশা পূরণের জন্য লড়তে শেখানোর কাজটা করার কথা ছিল বামপন্থীদের, তাঁরাও কি তা করলেন? বিহার নির্বাচনের বিশ্লেষণে এই কথাটি খুব ভাল করে বুঝে নেওয়া দরকার।
সদ্যসমাপ্ত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে দুটি পক্ষ সবচেয়ে বেশি প্রচারে এসেছে। প্রথমত, বিজেপি-জেডিইউ সহ এনডিএ জোট এবং দ্বিতীয়ত, আরজেডি-কংগ্রেস ও সিপিএম-সিপিআইএমএল লিবারেশন ইত্যাদিদের মহাজোট। এ ছাড়া আলাদা লড়েছে ভোটকুশলী বলে খ্যাত প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি, আসাদুদ্দিন ওয়েইসির মিম। এস ইউ সি আই (সি) এই সমস্ত জোট-অজোট থেকে দূরে থেকে সংগ্রামী বামপন্থার ভিত্তিতে লড়াইয়ের আহ্বান নিয়ে ৪০টি আসনে লড়েছে।
কিন্তু, বিজেপি-জেডিইউ জোটের বিরুদ্ধে সারা বিহার জুড়ে যে তীব্র ক্ষোভ মানুষের আছে, তা ছাপিয়ে এত বেশি আসনে তাদের জয় প্রশ্ন জাগিয়েছে। বলা হচ্ছে শেষ মুহূর্তে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে এক লপ্তে ১০ হাজার টাকা দিয়ে নীতীশ কুমার একেবারে মাস্টার স্টে্রাক দিয়েছেন। অথচ বিহারে সীমাহীন বেকারত্ব, লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকের বিহার ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিতে বাধ্য হওয়া, বাহুবলী মস্তানদের অবাধ বিচরণ, স্তরে স্তরে ব্যাপক দুর্নীতি, বেআইনি মদে রাজ্য ভরে যাওয়া, মহিলাদের নিরাপত্তার চরম অবনতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ সর্বত্র। এইবার ভোট চলাকালীন বাহুবলীদের প্রকাশ্যে দাপট এমনকি খুনও মানুষ দেখেছে। বাহুবলীরা অনেকেই এ বারও জিতেছে, এমনকি জেলে বসেও তারা দাপট চালাচ্ছে। আদানিদের হাতে কার্যত বিনামূল্যে হাজার হাজার একর উর্বর জমি তুলে দিয়ে চাষিকে পথে বসানো হয়েছে, সরকারি স্কুল সরকারি হাসপাতাল কার্যত উঠে গেছে। শিক্ষা-স্বাস্থ্যকে পুরোপুরি বেসরকারিকরণের মাধ্যমে বৃহৎ পুঁজির হাতে তুলে দিয়েছে এনডিএ সরকার। এর বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ নিয়ে মানুষ চাইছিল এই সরকার যাক। সেই মানুষকে মাত্র ১০ হাজার টাকায় ভুলিয়ে দিতে চাইলেন শাসকরা? কতটা অসহায় পরিস্থিতি হলে মানুষ তার জীবনের এত দুঃখ ভুলে এদের ভোট দিতে পারে! সীমাহীন অন্ধকারে এই জনগণের বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই, তাই যা পাই তাই আঁকড়ে ধরতে গিয়ে তাঁরা সব হারাচ্ছেন। এই নাকি গণতন্ত্র!
জেডিইউ-এর প্রাক্তন নেতা প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি সম্বন্ধে প্রথম থেকেই প্রচার ছিল যে, বিজেপি ও নীতীশ কুমারের শাসনের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ যাতে একজোট হয়ে বিরোধীদের দিকে ঘুরে না যায় এই দায়িত্ব পালনেই তাঁর উত্থান। তাঁর আর্থিক দায়িত্বও এ জন্য বহুলাংশে বিজেপি ঘানিষ্ঠ শিল্পপতিরা কাঁধে নিয়েছেন বলেই শোনা গেছে। তারা মানুষের ক্ষোভকে বিরোধী জোটের দিকে যেতে না দিয়ে বিজেপিকে কার্যত সাহায্যই করেছে। কোনও আসনে না জিতেও ১১৫টি আসনে তৃতীয় এবং একটিতে দ্বিতীয় হয়েছে এই দল। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের মতোই মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে লড়া আসাদুদ্দিন ওয়েইসির মিম কার্যত এ বারও বিজেপির ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কার কাছে যাবে মানুষ? প্রধান বিরোধী জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক আরজেডি-র ‘জঙ্গলরাজের’ আতঙ্ক, সীমাহীন দুর্নীতির কথা মানুষের মন থেকে মোছেনি। তারাও ক্ষমতায় এলে নতুন কিছু করবে সে আশাও মানুষের নেই। মূলত জাতপাত আর বিজেপি-নীতীশকুমার বিরোধী হাওয়া ছাড়া বলবারও কিছু নেই। কংগ্রেস এমনিতেই ভাঙাচোরা। তার ওপর তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বুথ স্তর পর্যন্ত একেবারে মাটি কামড়ে পড়ে থাকার মতো লোক নেই বললেই চলে। তাই এসআইআর করে ভোটারদের বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের প্রচার, মিছিল ইত্যাদি মানুষের মনে দাগ কাটতে না কাটতেই কংগ্রেসের প্রধান নেতা রাহুল গান্ধী দুই মাসের জন্য দক্ষিণ আমেরিকা ঘুরতে চলে গেলেন। তলার স্তরের নেতা-কর্মীরাও ঢিলে দিয়ে বসে রইলেন সোসাল মিডিয়া আর কাগুজে প্রচারের ভরসায়। তাদের জোটের আসন বণ্টন নিয়ে যে খেয়োখেয়ির লড়াই ভোটের আগেই মানুষ দেখল, তাতে ভরসা জাগলেই বরং প্রশ্ন উঠত। আর জোটসঙ্গী বামেরা? তাদের প্রসঙ্গে পরে আসছি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা বিহারে প্রথম থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রথমত, তাড়াহুড়ো করে এবং সমস্ত বৈধ ভোটারকে তালিকাভুক্ত করার বদলে ভোটার বাদ দেওয়ার ঘোষিত লক্ষ্য নিয়ে এসআইআর করা কমিশনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রথমত, এসআইআর-এ বিহারে প্রথমে ৬৫ লক্ষ নাম বাদ যায়, এর মধ্যে ২২ লক্ষ মৃত ও ৭ লক্ষ ভোটারের নাম একাধিক জায়গায় ছিল। বাকি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নাম কেন বাদ তার বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা নেই। দ্বিতীয়ত, চূড়ান্ত এসআইআর তালিকায় আরও ৩.৬৬ লক্ষ নাম বাদ গেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্টও। তৃতীয়ত, ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৭.৪২ কোটি ভোটারের নাম প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম দফা ভোটের পর নির্বাচন কমিশন জানায় ভোটার সংখ্যা ৭.৪৫ কোটি। এই বাড়তি ৩ লক্ষ ভোটার কোথা থেকে এল? নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা এরা মনোনয়ন জমার শেষ দিনের আগে নাম তুলেছে। তবু প্রশ্ন থাকছেই। চতুর্থত, ২১ লক্ষ নতুন নাম যুক্ত হয়েছে, এর মধ্যে ১৪ লক্ষ হচ্ছে ১৮ বছরের নতুন ভোটার, বাকি ৭ লক্ষ নাম যুক্ত হওয়ার ব্যাখ্যা কী? তা কমিশন পরিষ্কার করে জানায়নি। এর ফল কী? এনডিএ ২০২ আসনে জিতেছে, এর মধ্যে ১২৮টি আসনে তারা যত ব্যবধানে জিতেছে তার থেকে বেশি নাম এসআইআর-এ বাদ গেছে। কয়েকটি বিশেষ কেন্দে্রর উদাহরণ দেখা যাক– মুজফফরপুর কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছে ৬১৬ ভোটে। এই কেন্দে্র ভোটার বাদ গেছে ২৪০০। ভোজপুর– জেডিইউ জয়ী ২৭ ভোটে। এসআইআর-এ বাদ গেছে ২৫,৬৮২। মাটিহানি– জেডিইউ জয়ী ৫২৯০ ভোটে, এসআইআর-এ বাদ ৩৩,৭০০ ভোটার। বেশ কিছু কেন্দ্রে এনডিএ-র ২৭ থেকে ৯০০ ভোটে জয়ের ব্যবধান প্রশ্ন তুলছে। এর আগে ২০২৪-এ মহারাষ্ট্রে মাত্র পাঁচ মাসে ৪০ লক্ষ ভোটারের নাম যুক্ত হওয়ার ব্যাখ্যা কমিশন বিশ্বাসযোগ্য ভাবে দিতে পারেনি। কর্ণাটকে শত শত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য যাঁরা আবেদন করেছেন বলে কমিশনের তথ্যে আছে, দেখা যাচ্ছে তাঁরা এর বিন্দুবসর্গ জানেন না। বিহারে শুধু নয় দেশের সর্বত্রই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আজ প্রশ্নের মুখে। এই কারণেই বিজেপি সরকার নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করার বিধি বদল করে বাছাইয়ের কমিটি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে ছেঁটে ফেলে তার জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর পছন্দমতো একজন মন্ত্রীকে ঢুকিয়েছে। নির্বাচন কমিশনারদের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি শাসকদলের পছন্দের ওপর আজ নির্ভরশীল। এই কমিশন কি নিরপেক্ষ হতে পারে? ভারতে আজ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের এই ভূমিকা অজানা কিছু নয়। কিন্তু প্রশ্নটা হল, এটা জেনেও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস কী ভূমিকা নিল? তারা সংবাদমাধ্যমে মুখ দেখিয়েই বিজেপি-আরএসএস-এর মতো সংগঠিত শক্তির মোকাবিলা করে ফেলার দিবাস্বপ্নেই কি মশগুল? কংগ্রেস সঠিক সময়ে বুথ স্তরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই তো ব্যর্থ! মাঠে নেমে বাস্তব রাজনীতি করার বদলে নেতারা সমাজমাধ্যমেই সব করে ফেলেতে তৎপর! তাদের জোটসঙ্গী দক্ষিণপন্থীদের কথা ছেড়ে দিলাম না হয়, কিন্তু যে বামদলগুলি এই কংগ্রেসকে দিয়ে বিজেপিকে রোখার কথা প্রচার করছে তাদের ভাবনাই বা কী?
বিহার নির্বাচন আবার দেখিয়ে দিল, খেটে খাওয়া মানুষের অসহায়তা থেকে সাম্প্রদায়িক বিজেপি যেমন ফয়দা তুলতে সচেষ্ট, একই ভাবে বিজেপি বিরোধী বলে পরিচিত জাতপাত ভিত্তিক দল এবং কংগ্রেস–তাদের কারও ভূমিকা আলাদা কিছু নয়। তা হলে পথ কী? মানুষকে সহজে কিছু পাওয়ার লোভ দেখিয়ে যারা তাদের ভোট কিনতে চায় তাদের হাত ধরে কিছু সিট যদি বামপন্থীরা পেতে পারে তাতেই কি সমাধান হবে? অথচ মানুষ কি ভরসার হাত খোঁজেনি? পাটনা হোক কিংবা ভাগলপুর, মজফফরপুর, কাঁটি, পূর্ণিয়া সর্বত্র একটা অভিজ্ঞতা প্রচার করতে গিয়ে এস ইউ সি আই (সি) কর্মীরা পেয়েছেন– বামপন্থার প্রতি আকর্ষণ মানুষের প্রবল। তাঁরা যেন কান পেতে আছেন এ আহ্বান শোনার অপেক্ষায়। সুলতানগঞ্জের এসইউসিআই(সি) প্রার্থী সুনীল কুমারের প্রচার-গাড়ি থামিয়ে এই কথাটাই বলেছিলেন মিশরপুর চৌকের এক মাঝবয়সী মানুষ। বলেছিলেন, আপনারা যে ভাবে এদের দুই পক্ষের মুখোশ খুলে দিচ্ছেন, অন্য বাম দলগুলো তো তা করছে না! আপনারা ভোটে যদি নাও জেতেন, মনে রাখব যে আপনারাই বলেছেন আমাদের কথা। এটাই রাস্তা। একটি এলাকার প্রচারে সিপিআই-এর এক প্রবীণ কর্মী এস ইউ সি আই (সি)-র প্রচার থেকে একজনকে ডেকে লাল পতাকাটা একবার চেয়ে নিয়ে ধরে দেখলেন। বললেন, কংগ্রেস, আরজেডির পিছু পিছু লাল ঝান্ডা নিয়ে হাঁটি যখন, বড় লজ্জা করে। তাই আপনাদের হাতের পতাকাটা একবার ছুঁয়ে গেলাম।
ভোটের আগে বামপন্থী দলগুলো এবং বাম মনোভাবাসম্পন্ন মানুষের কাছে ঠিক এই আহ্বানটাই রেখেছিল এস ইউ সি আই (সি)। বিজেপি বিরোধিতার নামে জনগণের দাবি নিয়ে গণআন্দোলনের রাস্তা পরিত্যাগ করে নিছক কিছু আসন জেতার জোট নয়, ঐক্যবদ্ধ বামপন্থী আন্দোলনই বিকল্প রাস্তা। ভোটের প্রচারের সময় এসইউসিআই(সি) কর্মীদের ডেকে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন মানুষ বলেছেন, গত বারে তো বামপন্থীরা অনেকগুলো আসনে জিতেছিল। কিন্তু তোমরা যে ভাবে জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে সমস্ত খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলছ, ওরা তা করতে পারেনি। এ বারেও ওরা কিছু আসন জিততে পারে। তাতে বামপন্থার পক্ষে লাভ কী হবে? ওই বামপন্থীদেরও যে আরজেডি-কংগ্রেসের মতো একই স্তরের ভাবছে মানুষ! অথচ বিহারে তো অতীতে বামপন্থীদের অনেক আন্দোলন হয়েছে। এ ভাবে জনগণকে দক্ষিণপন্থার হাতে সঁপে দিয়ে তাদের নিজেদের সিটের হিসাবে মশগুল হতে দেখে তাঁরা ব্যথিত। এই সময়ে সংগ্রামী বামপন্থার যে পতাকাটা এস ইউ সি আই (সি) দেশের সর্বত্র এমনকি নির্বাচনী ময়দানেও তুলে ধরেছে, তাকে সিটের কিংবা ভোটের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা চলে না। সমাজ বদলের সঠিক রাস্তা দেখানোর এই নিশানকে তুলে রাখার বলিষ্ঠ হাতটাকে আরও শক্তিশালী করার প্রশ্নটাই এখন প্রধান।