Breaking News

সংযুক্তিকরণের নামে স্কুল তুলে দেওয়া রুখে দিলেন বেঙ্গালুরুর মানুষ

কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার সম্প্রতি ‘কেপিএস চুম্বক নীতি’র অধীনে স্কুল সংযুক্তিকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য রাজ্যের ৪০ হাজারেরও বেশি সরকারি স্কুলকে যুক্ত করে কয়েকটি কেপিএস চুম্বক স্কুলের অধীনে নিয়ে আসা। এর বিরুদ্ধে গত ছ’মাস ধরে রাজ্য জুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলছে এআইডিএসও এবং সেভ পাবলিক এডুকেশন পিপলস কমিটি।

ওই প্রকল্প অনুযায়ী রামনগর তথা দক্ষিণ বেঙ্গালুরু জেলার ৪০টি স্কুল তুলে দিয়ে সেগুলিকে তিনটি কেপিএস চুম্বক স্কুলে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিল কর্ণাটক সরকার। এর তীব্র বিরোধিতা করে ওই জেলার ২০টিরও বেশি গ্রামের দুশোর বেশি অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রী ২৬ মে সমবেত হয়েছিলেন জেলা শিক্ষা দফতরের সামনে। এর আগে নিজের নিজের গ্রামের স্কুলগুলি রক্ষার দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। শাসক দল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা আন্দোলন বন্ধে তাঁদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে, কেপিএস স্কুল নিয়ে মিথ্যা প্রচার করেছে। কিন্তু কোনও কিছুই গ্রামবাসীদের দমাতে পারেনি।

আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে এ দিন জেলা শিক্ষা দফতরের সামনে স্কুল বাঁচানোর দাবিপত্র নিয়ে তাঁরা সমবেত হন। জেলা অফিসার নিজে অনুপস্থিত থেকে দফতরে অন্য এক অফিসারকে স্মারকলিপি গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা এআইডিএসও-র নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত নেন, যতক্ষণ না জেলা অফিসার ফেরেন, ততক্ষণ দফতর ঘেরাও করে রাখা হবে। কর্তৃপক্ষের বারংবার অনুরোধ ও হুমকি তাঁদের টলাতে পারেনি। শেষপর্যন্ত বেশ কয়েক ঘণ্টা পরে জেলা অফিসার বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হন এবং প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হন যে, স্কুল সংযুক্তিকরণের সরকারি নির্দেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং সন্তানদের কেপিএস চুম্বক স্কুলে পাঠানোর জন্য কোনও অভিভাবককে চাপ দেওয়া হবে না।

এই ঘোষণার পর আন্দোলনের জয়ে উচ্ছ্বাসিত গ্রামবাসীদের স্লোগানে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। গোটা রাজ্য জুড়ে শিক্ষা বাঁচানোর দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, দক্ষিণ বেঙ্গালুরুতে দাবি আদায়ের এই ঘটনা সেই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।