
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়গপুর শাখায় রেল-যাত্রার দুরবস্থা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাত্রা-যন্ত্রণা কোন স্তরে পৌঁছেছে তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। আড়াই-তিন ঘণ্টা সময়ের যাত্রা কখনও বা পাঁচ-সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় উত্তীর্ণ হচ্ছে। ১২ মে আমি হাওড়া-জলেশ্বর মেমু ট্রেনে হাওড়া থেকে খড়গপুর আসছিলাম। ট্রেনটির হাওড়া থেকে বিকাল ৪-৫০-এ ছেড়ে ৭-০৫-এ খড়গপুর জংশনে পৌঁছবার কথা। ট্রেনটি সে দিন খড়গপুর পৌঁছায় রাত ৯.৩০ নাগাদ। এমন উদাহরণ আরও দিয়ে চিঠির কলেবর বৃদ্ধি করব না। এই দেরির ফলে অফিসে, বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে সবসময় ঠিক সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। কলকাতার বড়বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী এই লাইনে বসবাসকারী যুবক-যুবতীদের সে কারণে দোকানের কর্মচারী হিসাবে রাখতে রাজি হচ্ছেন না। সময়ের ক্ষতি যদিও অপূরণীয়, তবুও দেরি হওয়ার জন্য আমি ক্ষতিপূরণের দাবিতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও গ্রহণযোগ্য কোনও সাড়া পাইনি।
এ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের কোনও মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয় না। রেলের নিজস্ব সময় সারণি মেনে ট্রেন চালানোর দাবিতে আন্দোলন হলে রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কিছু ইতিবাচক কথা শোনান। সেটা ওই পর্যন্তই। তারপর যেই কে সেই। কিংবা বলা যায় অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।
সাধারণ রেল স্টেশনগুলিকে অমৃত স্টেশনে উন্নীত করতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, অথচ সাধারণ সমস্যাগুলো দূর করে সময়ে ট্রেন চালানো যাচ্ছে না!
এরপর যাত্রী সাধারণ এ নিয়ে আন্দোলন করলে সরকারি মদতে রাষ্ট্রশক্তি নেমে পড়বে শান্ত (!) পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। অথচ বর্তমানে যাত্রী-অসন্তোষ সরকারি কর্তাদের নজরে আসছে না। এত দিন এক ইঞ্জিনের সরকার এ সবের মোকাবিলা করত। জানি না ডবল ইঞ্জিন সরকার এবার কী ভাবে এ রাজ্যের এই সমস্যার মোকাবিলা করবে।
গৌরীশঙ্কর দাস, খড়গপুর