Breaking News

রাজস্থানে গণধর্ষণ ও দুই বোনের আত্মহত্যা আইনের শাসন কোথায়

কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল

রাজস্থানে গণধর্ষণ ও আত্মহত্যার ভয়াবহ ঘটনা সম্পর্কে এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ ১৮ মে এক বিবৃতিতে বলেন,

রাজস্থানে দুই বোনের লাগাতার গণধর্ষণ এবং তার পরিণতিতে দুজনেরই আত্মহত্যার যে মর্মান্তিক এবং ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, দেশ জুড়ে তা প্রবল আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বড় বোনকে প্রলুব্ধ করে একটি ছেলে তাঁর সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় এবং ছেলেটি তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও করে রাখে। তারপর সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আনার ভয় দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে এবং আরও কিছু সাগরেদকে নিয়ে প্রায় চার বছর ধরে লাগাতার মেয়েটিকে গণধর্ষণ করে যায়। নিস্তারের কোনও পথ না পেয়ে মেয়েটি এই বছরের মার্চ মাসে আত্মহত্যা করেন।

ছোট বোন পুলিশের কাছে ধর্ষকদের নাম দিয়ে অভিযোগ জানায়। পুলিশ কিছুই করেনি এবং তার পর শুরু হয় ছোট বোনের ওপর অত্যাচার। তাকে হুমকি দেওয়া হয় যে, সে মুখ বন্ধ না রাখলে তাঁর দিদির ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আনা হবে। মেয়েটি আবার পুলিশের কাছে গিয়ে কাতর আবেদন জানান যে, এই অপরাধীদের গ্রেফতার না করলে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবেন। তা সত্ত্বেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি এবং ওই দুষ্কৃতীরা মেয়েটির ওপর অত্যাচার চালিয়ে গেছে। অসহায় মেয়েটি শেষপর্যন্ত বড় বোনের পথেই যেতে বাধ্য হন এবং গত ১৫ মে আত্মহত্যা করেন। এই সময়ের মধ্যে দিল্লির বুকেও নির্ভয়ার ভয়াবহ ধর্ষণকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। অন্যান্য রাজ্যও ব্যতিক্রম নয়। প্রধানমন্ত্রী যখন নিয়মিত ‘বেটি বাঁচাওক্স নিয়ে ঢাকঢোল পেটাচ্ছেন, সেই সময়েই বিজেপি শাসিত ভারতে এই সমস্ত ঘটনায় অপরাধীরা দিনের পর দিন পার পেয়ে যাচ্ছে।

শাসক দলের নেতারা নিজেদের পবিত্র সনাতনী হিন্দুধর্মের এক-একজন ধ্বজাধারী বলে দাবি করেন। এই কি তাদের সেই প্রবল মহিমান্বিত সনাতন ধর্ম, যেখানে তরুণী মেয়েদের নিয়মিত যৌন হেনস্থার শিকার হতে হয়? এই বীভৎস ঘটনার এবং পুলিশ-প্রশাসনের নীরবতার নিন্দা করার জন্য কোনও ভাষাই যথেষ্ট নয়।

আমরা জনসাধারণকে, এই ধরনের জঘন্য অপরাধ বন্ধ করার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।