শিক্ষাকে পণ্য আর ছাত্রকে ক্রেতায় রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া চলছেই

ফাইল চিত্র, কেরালা

শিক্ষা প্রসঙ্গে সাধারণ ভাবে একটা স্থূল ধারণার প্রচলন আছে। ধারণাটি হল, কোনও বিষয়ে জানাই হল শিক্ষা। অনুশীলন সেই প্রক্রিয়ারই অঙ্গ। যদিও ধারণাটির সীমাবদ্ধতা আছে। যা খুশি শেখাই কিন্তু শিক্ষা নয়। শেখার সাথে বৃহত্তর সমাজ ও তার প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিও যুক্ত। অর্থাৎ শিক্ষা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা যে জ্ঞান অর্জন করি, তার লক্ষ্য সমাজের মঙ্গল সাধন করা, আরও উন্নততর সভ্যতার অভিমুখে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাই শিক্ষার প্রতি সমাজও দায়বদ্ধ। দায়বদ্ধ বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতিনিধি হিসেবে একটা দেশের সরকার। এই ধারণা থেকেই গণতান্ত্রিক যুগের বিশ্বমনীষা শিক্ষার প্রতি দেশের সরকারকে যত্নবান হতে বলেছেন। শিক্ষার সব দায়িত্ব সরকারকে নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন। আমাদের দেশের ক্ষেত্রেও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়, জ্যোতিবা ফুলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ মহান মনীষীরা শিক্ষার উন্নতির জন্য ইংরেজ সরকারের দায়িত্বকে স্মরণ করিয়েছেন বারবার। আমাদের দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্যেও জনশিক্ষার এই দাবি যুক্ত হয়ে ছিল।

এরপর দেশ স্বাধীন হয়েছে ৭৫ বছর। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু পরাধীন দেশে শিক্ষার যে দাবি সেদিন উঠেছিল তা আজও অপূরিত। সেইদিন শিক্ষা সম্পর্কে সমাজ মননে যে উচ্চ ধারণাটা তৈরি হয়েছিল, তাও প্রতিদিন ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে চলেছে, যার পরিণতিতে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা আজ আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।

দেশে শিক্ষার হাল হকিকত

অ্যানুয়াল স্ট্যাটাস অব এডুকেশন রিপোর্ট ২০২৩-এ দেশের স্কুল শিক্ষা সম্পর্কে যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা ভয়ঙ্কর! রিপোর্টে প্রকাশ, দেশের গ্রামীণ এলাকায় ১৪-১৮ বছর বয়স এমন ২৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রী পাঠ্য বইয়ের থেকে মাতৃভাষায় লেখা বাক্য পড়তে পারছে না। ৫৪ শতাংশ ছাত্র তিন অঙ্কের সংখ্যাকে এক অঙ্কের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করতে পারছে না। এমনকি সাধারণ যোগ বিয়োগও করতে পারছে না অনেকেই। সারা দেশে যখন এই চিত্র, তখন পশ্চিমবঙ্গের অবস্থাও ভিন্ন নয়। মাতৃভাষায় লেখা পড়তে না পারার তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ তৃতীয়। এমনকি ইংরাজি বাক্য পড়তে না পারায় এই রাজ্য সব থেকে নিচে। রিপোর্টে আর একটি তথ্যও আশঙ্কাজনক। রিপোর্ট আরও বলছে, ১৪-১৮ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের একটা বড় অংশের কোনও স্বপ্ন নেই। যাদের আছে তারাও স্কুল শিক্ষক, পুলিশ আর ডাক্তার হওয়া ছাড়া অন্য কোনও স্বপ্ন দেখতে পারছে না।

এই অবস্থার দায় কার

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে এই অবস্থার দায় কার? সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার এই অধঃপতনের দায় সরকার কি আদৌ এড়িয়ে যেতে পারে! স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতবর্ষে শিক্ষা প্রসঙ্গে সরকারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি কখনই যথাযথ ছিল না। প্রায় সমস্ত সরকারই ধারাবাহিক ভাবে কমিয়েছে শিক্ষার বাজেট। তবু তখনও আপেক্ষিক অর্থে শিক্ষা সম্পর্কে সরকারগুলো যতটুকু দায়িত্ব পালন করত সমাজতান্ত্রিক সমাজের পতনের পর পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদের একমুখী ব্যবস্থায় তাকেও তারা অস্বীকার করল। এল বিশ্বায়নের ধারণা। পুঁজিবাদের বাজার সঙ্কটের যুগে গ্লোবাল ভিলেজের নামে গোটা বিশ্বকে পরিণত করা হল পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদের বাজারে। রমরমিয়ে চলল বেসরকারিকরণ। এল বাজার অর্থনীতি। ভারতবর্ষের বাজারও খুলে দেওয়া হল বিশ্ব-পুঁজির অনুপ্রবেশের জন্য। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণ সহ সমস্ত পরিষেবা ক্ষেত্রকে পরিণত করা হল বাজারের পণ্যে। ক্রমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকার তার দায়িত্বকে অস্বীকার করে বেসরকারিকরণের পথকে প্রশস্ত করল। এই ব্যাপারে প্রায় সব দল একই ভূমিকা পালন করেছে। সেদিনের কংগ্রেস সিপিএম বা আজকের বিজেপি তৃণমূল সহ অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলো সবাই এই পথেই হেঁটেছে। তাই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দেশে ও রাজ্যে আলাদা আলাদা দলের সরকার থাকলেও শিক্ষা সমস্যার সমাধান তো হয়ইনি, শিক্ষার পরিবেশের আরও ক্ষতি করা হয়েছে। সরকারগুলোর পক্ষ থেকে নানা সময়ে নানা স্লোগানের আড়ালে শিক্ষাঙ্গন থেকে দেশের গরিব মানুষের সন্তানদের বিতাড়িত করা হয়েছে।

শিক্ষার প্রশ্নে কংগ্রেস সিপিএম তৃণমূল বিজেপি একই ভূমিকায়

কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারি ক্ষমতায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সব থেকে বেশি সময় রাজত্ব করেছে যারা সেই কংগ্রেস বিজেপি সিপিএম তৃণমূল তাদের সরকারি ক্ষমতা দিয়ে জনশিক্ষা প্রসারে বা শিক্ষা প্রসঙ্গে সমাজ মননে একটা উঁচু ধারণা গড়ে তোলার বিষয়ে যথাযথ ভূমিকা কখনই পালন করেনি। একদিকে শিক্ষার জন্য বাজেটে বরাদ্দ কমিয়ে সরকারি শিক্ষা পরিকাঠামোকে ধারাবাহিক ভাবে নষ্ট করা হয়েছে। কমেছে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ, সিপিএম সরকারের জমানা থেকেই রাজ্যে পার্শ্বশিক্ষক, প্যারা টিচার পার্টটাইম প্রফেসার নিয়োগের মধ্য দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যপক অস্থায়ী নিয়োগ চালু করা শুরু হয়েছে। যা আজও চলছে। বর্তমানে সারা দেশে দশ লক্ষের বেশি শিক্ষক পদ শূন্য অবস্থায় থাকলেও নিয়োগ নেই। নিয়োগ থাকলেওসেখানেও চলছে দুর্নীতি। এর বাইরে আরও পাঁচ লক্ষ পদে শিক্ষকতা করছেন পার্শ্ব শিক্ষকরা। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি সরকারের চরম উদাসীনতায় ধুঁকছে। সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের প্রায় অর্ধেক মাধ্যমিক স্কুলে নেই বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরি। উচ্চমাধ্যমিকে এই সংখ্যা আরও কম। গ্রাম ও মফসসলে পড়াশোনার জন্য উপযুক্ত স্কুল বাড়ি নেই এমন স্কুলের সংখ্যাও অনেক। এই যেখানে অবস্থা, সেখানে শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নত করে শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর করার পরিবর্তে সরকারগুলো যে যেখানে ক্ষমতায় সেখানেই দান খয়রাতি করে হাততালি পেতে চেয়েছে। সিপিএম সরকার পরিকাঠামো ছাড়াই মিড-ডে-মিল চালু করার ফলে রাজ্যের স্কুলগুলো ‘খিচুড়ি স্কুলে’ পরিণত হয়েছিল। আজকের তৃণমূল সরকার স্কুলে সাইকেল, জুতো, ব্যাগ দিচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার জন্য যে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো প্রয়োজন তা তারা তৈরি করছে না। শিক্ষক নিয়োগ প্রায় বন্ধ। বাকি পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত সরকারি বরাদ্দ নেই বললেই চলে। ফলে সরকারি ¦ূ¨লগুলো প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য ছাত্রদের থেকে ডেভেলপমেন্ট ফি-এর নামে ফি, ডোনেশন আদায় করে কোনও রকমে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। ফলে পরিকাঠামোহীন সরকারি স্কুলেও প্রত্যেক বছর ফি বাড়ছে। আর পড়াশোনা? শিক্ষকহীন পরিকাঠামোহীন সরকারি স্কুলগুলোতেই সিপিএম আমলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছে ইংরেজি পড়ানো। তুলে দেওয়া হয়েছে পাশ-ফেল ব্যবস্থা। তৃণমূল আমলে যা ক্লাস এইট পর্যন্ত তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে মূল্যায়নহীন অবস্থায় পাশ করা ছাত্ররাই নাম লিখতে পারছে না। রিডিং পড়তে পারছে না। এই অবস্থায় পরিস্থিতির সাথে যুঝতে গিয়ে একদল ড্রপ আউট হয়ে যাচ্ছে। আর যাদের সামর্থ্য আছে, তারা চলে যাচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। রমরমিয়ে চলছে শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা। যেখানে শিক্ষা ব্যবসায়ী বিক্রেতা এবং ছাত্র ও তার পরিবার একজন ক্রেতা। প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্কে পরিণত হচ্ছে এবং হয়ে চলেছে। যা সাম্প্রতিক কালে বাজার অর্থনীতির নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনেও প্যাকেজ সিস্টেম, প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ানোয় ভূমিকা পালন করলে ফি-এর ক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট ইত্যাদি চালু হয়েছে। যেটা হঠাৎ করে হয়নি। ধারাবাহিক প্রক্রিয়াতে শিক্ষার বেসরকারিকরণ হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষাঙ্গন বিরাট এক বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের নানা ক্ষেত্রে পুঁজির বিনিয়োগ হচ্ছে মুনাফা অর্জনের জন্য। যে বাজারের ক্রেতা তারাই যাদের টাকার জোর আছে। গরিব মানুষ সেখানে ব্রাত্য।

সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার কফিনের শেষ পেরেক বিজেপির জাতীয় শিক্ষানীতি

কংগ্রেস নেতা রাজীব গান্ধীর শিক্ষানীতি ১৯৮৬, শিক্ষার বেসরকারিকরণের সিংহদুয়ার খুলে দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে দেশি বিদেশি পুঁজিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তারপর একের পর এক শিক্ষা কমিশন নানাঘোষনার মধ্যদিয়েবেসরকারিকরণের এই কাজকেই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস সরকার। এরপর ২০২০ সালে বিজেপি সরকারের শিক্ষানীতি সরকারি শিক্ষার যতটুকু অবশেষ ছিল তাকেও শেষ করে প্রাক প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাটাকেই ধ্বংস করে শিক্ষার বেসরকারিকরণের পথকে আরও প্রশস্ত করে দিয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক শিক্ষায় কোনও রকম বইয়ের ব্যবহার থাকবে না। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বৃত্তিমুখী শিক্ষা চালু করা হবে। ধ্বংস করা হবে শিক্ষার মর্মবস্তু। তুলে দেওয়া হবে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষা, চালু হবে সেমিস্টার। ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছরের পরিবর্তে চার বছর করা হবে। তুলে দেওয়া হবে বহু সরকারর স্কুল। ইতিমধ্যে দেশের বহু রাজ্যের সরকারি স্কুল বন্ধ করে সেগুলিকে দেশি-বিদেশি মালিকদের ব্যবসার জন্য তুলে দেওয়া হচ্ছে। খোদ পশ্চিমবঙ্গেই তুলে দেওয়া হচ্ছে ৮২০৭টি সরকারি স্কুল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে এই সংখ্যা ১ লক্ষেরও বেশি। পাশাপাশি শিক্ষার গণতান্ত্রিক চেতনা বৈজ্ঞানিক মনন ধ্বংস করা হচ্ছে। আর এ সবই হচ্ছে সরকারি স্কুলে। যেখানে সাধারণ বাড়ির ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। ফলে গরিবের ঘরের শিক্ষাকে চিরতরে শেষ করতে চাইছে বিজেপি। আর তখন কি করছে বাকি দলগুলো? সিপিএম পরিচালিত কেরালা ইতিমধ্যেই বিজেপির এই অন্ধ তামসিক শিক্ষার মর্মবস্তু ধ্বংসকারী শিক্ষানীতিকে লাল ঝান্ডা উড়িয়েই প্রণয়ন করা শুরু করেছে। বেসরকারিকরণের নীতির প্রশ্নে কংগ্রেসও বিরোধিতা করেনি। কারণ তারাই তো পথপ্রদর্শক। আর এ রাজ্যে তৃণমূল, মৌখিক বিরোধিতা করে রাজ্যের নিজস্ব শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে। রাজ্য শিক্ষানীতি ২০২৩। যা কেন্দ্রের শিক্ষানীতিরই কার্বন কপি।

এই অবস্থায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি মালিকদের ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ চলছে শিক্ষার সমস্ত ক্ষেত্রে। জেনারেল এডুকেশন, টেকনিক্যাল এডুকেশন, প্রফেশনাল এডুকেশন সমস্ত স্তরের শিক্ষাতেই আজ পুঁজির রাজত্ব চলছে। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শিক্ষা বিক্রি হচ্ছে। একদিকে যখন বাড়ছে জীবন জীবিকার সঙ্কট তখন সেই সঙ্কটকেও পণ্যে পরিণত করে বিজ্ঞাপিত করে নতুন বাজার তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্যও নানা প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক টাকার কোর্স বিক্রি করা হচ্ছে। চালু হয়েছে টিউটোপিয়া বাইজুসের মতো অনলাইন টিউটোরিয়াল। যেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে ফিল্মস্টারদের বিজ্ঞাপনের মুখ করে, বাজার সৃষ্টি করা হচ্ছে। আর তা চলছে সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে। টাকা, বৈভব, বিজ্ঞাপন, ঝাঁ চকচকে জৌলুস, র্যান্ডম প্রতিযোগিতা– এর উপযুক্ত চিন্তা জগতকেও প্রোমোট করছে পুঁজির মালিকরা। আর এ সব মিলিয়ে আজকের শিক্ষা আপাদমস্তক কর্পোরেট পুঁজি ও ব্যবসায়িক লক্ষ্যে পরিচালিত। সাধারণ বাড়ির ছাত্রছাত্রীরা সে বাজারে ব্রাত্য।