কমরেড দেবপ্রসাদ সরকারের শেষযাত্রা

কলকাতায় কেন্দ্রীয় অফিসে কমরেড দেবপ্রসাদ সরকারের মরদেহে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ

মরদেহবাহী গাড়িটা তখন গোচরণের কাছাকাছি, তুমুল বৃষ্টিতে সামনের রাস্তা সাদা হয়ে গেছে। হঠাৎ খেয়াল হল বৃষ্টি মাথায় করে খালি গায়ে লুঙ্গি পরা এক মধ্যবয়সী ছুটে আসছেন হাত তুলে, একটু দাঁড়ান– গাড়ি থামতে দেখা গেল, তিনি একা নন, সঙ্গী পুরুষ মহিলা মিলিয়ে আরও তিন চারজন। কাচে হাত বুলিয়ে তাঁরা বলছেন, এই তো আমাদের দেববাবু। এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) দলের পলিটবুরো সদস্য, জয়নগরের সাত বারের বিধায়ক, দলের অবিভক্ত দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলা কমিটির সম্পাদক কমরেড দেবপ্রসাদ সরকার যে তাঁদেরই লোক। ৩০ জুন শেষযাত্রা এমন দৃশ্যের সাক্ষী হল বারবার।

২৮ জুন দুপুরেই জানা গিয়েছিল সেই দুঃসংবাদ, কমরেড দেবপ্রসাদ সরকার আর নেই। মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্রাম-গঞ্জের একেবারে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে আকুল প্রশ্ন– ‘এমন একজন মানুষ কি আর পাব’? এমনকি তাঁর দীর্ঘ ৩৪ বছরের পরিষদীয় ভূমিকার সূত্রে যে সমস্ত সাংবাদিকদের সাথে নানা আদানপ্রদান ঘটেছে, তাঁদের শোকপ্রকাশের ভাষার ছত্রে ছত্রেও ফুটে উঠেছে গভীর শ্রদ্ধা। মহান মার্কসবাদী চিন্তানায়ক কমরেড শিবদাস ঘোষের শিক্ষায় জীবনকে পরিচালনা করার সর্বদিকব্যাপী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কমরেড দেবপ্রসাদ সরকার এমনই এক সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন।

সারা দেশেই দলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ২৯ জুন আইন অমান্য আন্দোলনের ঘোষিত কর্মসূচি থাকায় চোখের জল মুছে তার জন্য তৈরি হলেন দলের নেতা-কর্মীরা। নেতৃত্ব স্মরণ করিয়ে দিলেন মহান নেতা কমরেড শিবদাস ঘোষের শিক্ষা– প্রবল শোকের মধ্যেও বিপ্লবী কর্মীরা কাজকে ভুলে থাকতে পারে না। তিনি বলতেন, চোখ দিয়ে জল পড়বে তবুও বিপ্লবী তার কর্তব্য পালন করে যাবে। সিদ্ধান্ত হল সংরক্ষণ করা হবে দেহ, ৩০ জুন হবে শেষযাত্রা।

ওই দিন সকাল ১১টায় কলকাতায় ৪৮ লেনিন সরণির কেন্দ্রীয় অফিসে কমরেড দেবপ্রসাদ সরকারের মরদেহ পৌঁছানোর আগে থেকেই জড়ো হয়েছেন আশেপাশের জেলার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। মাইকের ঘোষণায় দেবপ্রসাদ সরকারের নাম শুনে ছুটে এসেছেন বহু সাধারণ মানুষও। এমনই একজন মথুরাপুরের আবদুল কালাম পুরকাইত, গভীর আবেগ নিয়ে তাঁর স্মৃতি উজাড় করে দিচ্ছিলেন পাশের জনকে।

দক্ষিন ২৪ পরগণার জয়নগর অফিসে বিদায় জানাচ্ছেন নেতৃবৃন্দ

‘কমরেড দেবপ্রসাদ সরকার লাল সেলাম’ ধ্বনির মধ্য দিয়ে লাল পতাকায় মোড়া দেহ নামানো হল শববাহী গাড়ি থেকে। প্রথমেই প্রয়াত বিপ্লবী সাথীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মাল্যদান করলেন এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ, প্রবীণ পলিটবুরো সদস্য কমরেড অসিত ভট্টাচার্য। প্রবীণ পলিটবুরো সদস্য কমরেড মানিক মুখার্জীর পক্ষে মাল্যদান করলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মানব বেরা। শ্রদ্ধা জানালেন পলিটবুরো সদস্য কমরেড সৌমেন বসু, কমরেড স্বপন ঘোষ, কমরেড গোপাল কুণ্ডু, পলিটবুরো সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক কমরেড চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেডস ছায়া মুখার্জী, চিররঞ্জন চক্রবর্তী, অশোক সামন্ত, দেবাশীষ রায়, সুভাষ দাশগুপ্ত। প্রবীণ সিপিআইএম নেতা ও বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান কমরেড বিমান বসু, সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক কমরেড মহম্মদ সেলিম, সিপিআইএম নেতা কমরেড রবীন দেব, আরএসপি-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মনোজ ভট্টাচার্য, ফরোয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক কমরেড নরেন চট্টোপাধ্যায়, সিপিআইএমএল লিবারেশনের রাজ্য নেতা কমরেড বাসুদেব বসু প্রমুখ বামপন্থী দলের নেতৃবৃন্দ মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান। দলের রাজ্য নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন জেলা সম্পাদক, এআইএমএসএস-এর সর্বভারতীয় সভাপতি কমরেড কেয়া দে, এআইডিওয়াইও-র সর্বভারতীয় সভাপতি কমরেড নিরঞ্জন নস্কর সহ বিভিন্ন গণসংগঠন ও ফোরামের নেতৃবৃন্দ এবং বহু কর্মী-সমর্থক মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান। সর্বহারার মহান নেতা কমরেড শিবদাস ঘোষ স্মরণে সঙ্গীত ও আন্তর্জাতিক সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে উপস্থিত কমরেডরা শেষ বিদায় জানালেন প্রয়াত নেতাকে।

জয়নগর থেকে মিছিল শুরু

কেন্দ্রীয় অফিস থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত মিছিলের পর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বিধানসভায়। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের সহমুখ্য সচেতক তাপস রায়, বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ও বিধানসভার আধিকারিকরা মাল্যদান করেন। বিধায়ক হিসাবে কমরেড দেবপ্রসাদ সরকারের অনন্য ভূমিকার কথা সংক্ষেপে তুলে ধরেন স্পিকার। এরপর দলের নেতৃবৃন্দ কমরেড দেবপ্রসাদ সরকারের মরদেহ নিয়ে রওনা হন দক্ষিণ ২৪ পরগণার জয়নগরের উদ্দেশে। তাঁর দীর্ঘ বিপ্লবী জীবনের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল এই জয়নগর-মজিলপুর। বারুইপুরে স্থানীয় নেতা কর্মীরা মাল্যদান শেষ করার পর গাড়ি সবে রওনা হচ্ছে, এমন সময় ছুটে এলেন একজন প্রৌঢ়– প্রণাম করে বললেন, আমাদের সকলের বড় আপনজন গো!

গোচরণ বাস মোড়ে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও অপেক্ষা করে আছেন বেশ কিছু যুবক, বাইক মিছিল করে তাঁরা কমরেড দেবপ্রসাদ সরকারের শেষযাত্রাকে পৌঁছে দেবেন জয়নগর। হরিনারায়ণপুরের এক যুব কর্মীর গায়ে জ্বর, এই প্রবল বৃষ্টিতে ভিজলে ক্ষতি হবে শরীরের, তবু তিনি যাবেনই। অন্যের বাইক ধার নিয়ে এসেছেন কয়েকজন ঠিকা শ্রমিক, মজুরি কাটা যাওয়ার তোয়াক্কা আজ তাঁদের নেই। ভিজতে ভিজতে বাইক নিয়ে এসেছেন কয়েকজন মহিলা কর্মীও। সারিবদ্ধ প্রতিটি বাইকে বাঁধা অর্ধনমিত রক্তপতাকা। এগিয়ে চলল শেষযাত্রা। কিন্তু মাঝে মাঝেই থামতে হচ্ছে আশপাশের মানুষের ডাকে, শ্রদ্ধা জানিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। সরবেড়িয়া পার হতে বাইকের সংখ্যা আরও বাড়ল। পদ্মেরহাটে মিছিল থামতেই মালা দিতে এসে বুক ফাটা কান্নায় ভেঙে পড়লেন এক প্রৌঢ় কমরেড। আবার শুরু হল মিছিল, সামনে বাইক আরোহী একশো ছাড়িয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তার দুধারে প্রচুর মানুষ। মহিলারা আছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। সজল চোখে অনেকেই গলা মেলাচ্ছেন লাল সেলাম ধ্বনিতে। দক্ষিণ বারাশত বাজারে আবার দাঁড়াতে হল স্থানীয় মানুষের শ্রদ্ধানিবেদনের জন্য। বহড়ূর কাছাকাছি বৃষ্টি কমতেই রাস্তায় ঢল নামল মানুষের। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য সমবেত শত শত মানুষ তো আছেনই, মাঝ রাস্তাতেও বারবার গাড়ি থামিয়ে একবারটি দেখে যেতে চাইছেন অনেকেই। একটাই কথা মুখে মুখে– এমন মানুষকে ভোলা যায় না, আমরা ভুলব না। উনি নিছক এমএলএ নন, আমাদের ঘরের লোক।

জয়নগর ইনস্টিটিউশনের গেটে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন শিক্ষকরা। দীর্ঘ সময় বিনা বেতনেই এই স্কুলে পড়িয়েছেন দেবপ্রসাদ সরকার। প্রয়াত জননেতা কমরেড শচীন ব্যানার্জী ও সুবোধ ব্যানার্জীর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যমণ্ডিত শান্তি সংঘের সামনে তাদের সদস্যরা শ্রদ্ধা জানালেন। এরপর কমরেড দেবপ্রসাদ সরকারের দীর্ঘ সময়ের স্মৃতি বিজড়িত জয়নগরের পার্টি অফিসে পৌঁছে গেল মিছিল।

 

অফিসের সামনের রাস্তায় শুধু মানুষ আর মানুষ। শুরু হল শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্ব। প্রথমেই দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষের পক্ষে মাল্যদান করলেন রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড সুজাতা ব্যানার্জী, রাজ্য সম্পাদক কমরেড চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য, রাজ্য কমিটির প্রবীণ সদস্য কুলতলির প্রাক্তন বিধায়ক কমরেড প্রবোধ পুরকায়েত, জেলার প্রবীণ নেতা কমরেড পাঁচু নস্কর, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও বারুইপুর জেলা সম্পাদক কমরেড নন্দ কুণ্ডু, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও জয়নগরের প্রাক্তন বিধায়ক কমরেড তরুণ নস্কর, রাজ্য কমিটির সদস্য ও কুলতলির প্রাক্তন বিধায়ক কমরেড জয়কৃষiর হালদার, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড সৌরভ মুখার্জী, ডায়মন্ড হারবার জেলা সম্পাদক কমরেড মাদার আলি নস্কর, ক্যানিং জেলা সম্পাদক কমরেড বাদল সরদার, কাকদ্বীপ জেলা সম্পাদক কমরেড সুজিত পাত্র প্রমুখ জেলা নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অসংখ্য কর্মী সমর্থক ও এলাকার বহু বিশিষ্ট মানুষ মাল্যদান করেন। সিপিআইএম, আরএসপি, বিজেপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও মালা দেন।

ভিড়ের মধ্যে দাঁড়ানো জয়নগর পৌরসভার বাসিন্দা পরিবহণ কর্মী বাপী প্রামাণিক, শ্রীপুরের নজি রহমানদের মতো অনেকেই স্মৃতিচারণ করে গেলেন এই সর্বজনশ্রদ্ধেয় জননেতার। বলছিলেন, জনপ্রতিনিধি কাকে বলে তা এই দলের বিধায়কদের দেখেই প্রথম বুঝেছি। এখন এমএলএ মানে দামী গাড়ি, জাঁকজমক। দেবপ্রসাদ সরকার ছিলেন তার ঠিক বিপরীত। তাঁরা অনেকেই লোকাল ট্রেনের ভিড়ে এমএলএ দেবপ্রসাদ সরকারের সহযাত্রী হওয়ার অভিজ্ঞতা শোনালেন। বললেন, জয়নগরের উন্নয়ন বিশেষত রেল পরিষেবা, রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, বাস পরিবহণের উন্নতির জন্য তাঁর লড়াইয়ের কথা। অন্য দলের এক ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীও বলে গেলেন, ‘নানা চাপে অন্য দল করি, আসলে মানুষ তো এখানেই আছে’। জালাবেড়ে-২-এর মানিক নাইয়া পৈলান সাহেব আর দেববাবুর জীবন থেকে বুঝেছেন মানুষ কাকে বলে। বললেন, এই নেতারা সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধা করতেন, তাই শ্রদ্ধাও পেতেন। জয়নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অনিতা দাস, একই রকম তাঁর অভিব্যক্তি। ‘পরিপূর্ণ আদর্শ মানুষ’, বলে গেলেন সুধাবিন্দু দাস। বললেন, ছোটরা তাঁর সামনে খুব খোলামেলা কথা বলতে পারত। গোপালগঞ্জের রতন নস্করের স্মৃতিতে– চাষি আর গরিব মানুষের পক্ষে উচিত বক্তা। জয়নগরের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার অসিত দেব মাল্যদান করার পর গিয়ে দেখা করতে বললেন, ‘আমার শিক্ষক। শিক্ষক হিসাবেও ব্যতিক্রমী দেবপ্রসাদবাবু। মিষ্টভাষী, মৃদুভাষী এই মানুষটির প্রতি একটা শ্রদ্ধা মিশ্রিত সমীহ সর্বদা কাজ করত। যে কোনও বিষয় পড়ানোর ক্ষমতা ছিল। এমন নিপাট ভদ্রলোক খুব কম দেখা যায়’। তাঁর কথায়, ‘সংকীর্ণ রাজনীতির অনেক উর্ধ্বে ছিলেন দেবপ্রসাদ সরকার। জয়নগরের উন্নয়নে এমএলএ হিসাবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন’। প্রয়াত জননেতা কমরেড সুবোধ ব্যানার্জীর প্রসঙ্গে ডাক্তারবাবু বললেন, ‘কংগ্রেস রাজনীতি করা ঘরের সন্তান হয়েও কৈশোরে তাঁর যে স্নেহ পেয়েছি, তা আমাকে প্রবল আকর্ষণ করত’।

গাড়ি থামিয়ে শেষবার দেখার আকুতি
বুকফাটা কান্নায় শেষবিদায়

 

 

 

 

 

সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসছে, শেষযাত্রা এগিয়ে যাবে শ্মশানের দিকে, অথচ তখনও বহু মানুষ মালা হাতে দাঁড়িয়ে। কমসোমল বাহিনীর ৮৭ জন স্বেচ্ছাসেবক রক্তপতাকা হাতে মরদেহবাহী গাড়িকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। সামনে নেতৃবৃন্দ, তার পিছনে বিশাল মিছিল। কমরেড শিবদাস ঘোষ স্মরণে সঙ্গীত এবং আন্তর্জাতিক সঙ্গীতের সাথে মিশে যাচ্ছে লাল সেলাম ধ্বনি। বিষ্ণুপুর শ্মশানে চোখের জলে শত শত নেতা-কর্মী শেষ বিদায় জানালেন তাঁদের প্রিয় কমরেড দেবপ্রসাদ সরকারকে।

অগণিত মানুষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন প্রিয় নেতাকে