
এ মিছিল স্বপ্ন বাঁচানোর। এ মিছিল শিক্ষা বাঁচানোর। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে ১ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক ছাত্র শহিদ দিবসে এআইডিএসও-র আহ্বানে কলকাতায় ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রীর সমাবেশ ও মহামিছিল শিক্ষার ওপর নেমে আসা সর্বনাশা আক্রমণকে প্রতিহত করার ডাক দিয়ে গেল।
ভুক্তভোগী মানুষ দেখছেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র মাধ্যমে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যবসায়ীদের মুনাফা-লুটের পণ্যে পরিণত করছে। নবজাগরণের চিন্তা ধূলিসাৎ করে চলছে শিক্ষার প্রাণসত্তা ধ্বংসের আয়োজন। নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের যুক্তিবাদী বিজ্ঞানভিত্তিক মনন। চলছে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়ে শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকীকরণের ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র। স্কুলস্তরে সিমেস্টার পদ্ধতি চালু, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা তুলে দেওয়া, প্রাথমিকে পাশ-ফেল চালু না হওয়া, স্কুলে পরিকাঠামোর নিতান্ত অভাব, শূন্য পড়ে থাকা অসংখ্য শিক্ষকপদ ইত্যাদির কারণে আজ সরকারি স্কুল শিক্ষা চূড়ান্ত বিপর্যস্ত। কেন্দ্রে বিজেপি ও পশ্চিমবঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল শাসনে গোটা দেশের পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাও বিপর্যস্ত। এ রাজ্যে ৯ হাজারেরও বেশি সরকারি স্কুল বন্ধ, প্রায় সাড়ে ৬ হাজার স্কুলে ১ জন করে শিক্ষক, বিজ্ঞানের শিক্ষক নেই ৫৭ শতাংশ স্কুলে, স্কুলছুটের সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে।
স্কুলশিক্ষার পাশাপাশি গভীর সংকটে উচ্চশিক্ষার পরিসরও। চার বছরের ডিগ্রি কোর্স, পরিকাঠামো ও শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চূড়ান্ত অভাব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে বেহাল অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। রাজ্যের ৪৬০টি-র বেশি সরকারি ও সরকার পোষিত কলেজে প্রায় ৫০০০ শিক্ষক-পদ, ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০০০-এর বেশি অনুমোদিত পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর তিন মাস কেটে গেছে, এখনও ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘোষণা হয়নি। কলেজের গভর্নিং বডিতে শাসকদল বিজেপির বিধায়ক-সাংসদদের বসিয়ে দলতন্ত্র ও থ্রেট কালচারের পরিবেশ কায়েম করা হচ্ছে আগের মতো করেই।
সম্প্রতি এনটিএ পরিচালিত নিট-এর প্রশ্ন ফাঁসে ২২ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়েছে। গত ১০ বছরে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে ১৫২ বার। এর বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবদের দেশজোড়া দুর্বার আন্দোলনে পুলিশি বর্বরতা প্রবল ধিক্ক´ত হয়েছে। এ দিকে রাজ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সহ ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে চলছে এবিভিপি-র গেরুয়া তাণ্ডব ও দখলদারির রাজনীতি।
শিক্ষার বেসরকারিকরণ, সাম্প্রদায়িকীকরণ সহ এই সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ ও এনটিএ বাতিলের দাবিতে, ১৯৫৯ সালের ১ সেপ্টেম্বরের ছাত্র আন্দোলনের শহিদ স্মরণে এ দিন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর দৃপ্ত স্লোগানে মুখরিত হল কলকাতার রাজপথ।
কলেজ স্কোয়ারে এ দিন বেলা ১২টায় শুরু হয় সমাবেশ। হাজার হাজার মনোযোগী ছাত্রছাত্রীর এই বিশাল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সভাপতি কমরেড মণিশঙ্কর পট্টনায়ক। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক ও দিল্লি রাজ্য কমিটির সম্পাদক কমরেড শ্রেয়া সিং, ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ও উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সম্পাদক কমরেড দিলীপ কুমার, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক কমরেড বিশ্বজিৎ রায় প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সহসভাপতি কমরেড চন্দন সাঁতরা, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য, আসাম রাজ্য কমিটির সদস্য কমরেড প্রশান্ত ভট্টাচার্য।
সমাবেশের পর সুসজ্জিত ও সুশৃঙ্খল একটি ছাত্র মহামিছিল ধর্মতলা পর্যন্ত যায় এবং সেখানে কর্মসূচি শেষ হয়।