
দার্জিলিং জেলায় স্কুল গেট থেকে গ্রেফতার ১৯
সরকার নির্ধারিত ফি ২৪০ টাকার বেশি নিয়ে স্কুলে ভর্তি চলছে নানা জেলায়। এর বিরুদ্ধে রাজ্য জুড়ে আন্দোলনে নেমেছে এআইডিএসও। ৩ ডিসেম্বর দার্জিলিং জেলার শক্তিগড় বালিকা বিদ্যালয়। বর্ধিত ভর্তি ফি প্রত্যাহারের দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষ না মানলে ছাত্রীরা স্কুলের গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখায় এবং শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয় পথ অবরোধ করতে। ৪ ঘণ্টা অবরোধ চলার পর পুলিশ প্রশাসন স্কুল গেট থেকে টেনে হিঁচড়ে ওই স্কুলের পাঁচ জন ছাত্রী সহ ১৯ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করে। এর পরেও আন্দোলনে অনড় থাকে ছাত্রীরা। ইতিমধ্যেই দার্জিলিং জেলার বেশ কিছু স্কুল আন্দোলনের চাপে স্কুল কর্তৃপক্ষ বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। স্কুলগুলিতে ছাত্র অভিভাবকরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলনে ফেটে পড়ছেন। আন্দোলনের চাপে বেশ কিছু জায়গায় ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই ভাবে কোচবিহার জেলায় ছাত্র অভিভাবক আন্দোলনের চাপে পড়ে বহু স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত হয়। ছাত্র অভিভাবক সমাজের দাবি–হয় সরকার নির্ধারিত ফি-তে ভর্তি করো, না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। কোচবিহারের হলদিবাড়ির বালিকা বিদ্যালয়ের শত শত অভিভাবক বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে হলদিবাড়ির স্কুল পরিদর্শকের অফিস ঘেরাও করে আন্দোলনের শামিল হন। প্রতি দিনই জেলার বিভিন্ন জায়গায় ফেটে পড়ছে ছাত্র-অভিভাবক আন্দোলন। মালদা জেলার গাজোল ব্লকের ময়না হাই স্কুলে ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলের গেটে তালা লাগিয়ে দিয়ে, জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হয়। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনে চাপে পড়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করে সরকার নির্ধারিত ২৪০ টাকায় ভর্তি নির্দেশিকা জারি করে। একই ভাবে মুর্শিদাবাদ জেলার গোয়ালজান বয়েজ হাই স্কুলের আন্দোলনে সামিল হয় ছাত্রছাত্রীরা, কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয় বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করতে। এ ছাড়া উত্তর দিনাজপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন জেলায় ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠছে। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সামিল হচ্ছে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা। ৫ ডিসেম্বর কলকাতায় সংগঠনের রাজ্য অফিসে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন– ২৪০ টাকার সরকার নির্ধারিত ফিতে সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে ভর্তির দাবিতে উত্তল বাংলা। বর্ধিত ফি প্রত্যাহার না করলে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা আরও ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই দাবি জানিয়েছি স্কুলগুলিকে কম্পোজিট গ্র্যান্টের টাকা দিতে হবে, শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে, পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। সম্প্রতি এই সব দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছি। পশ্চিমবাংলার স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ও শিক্ষকদের আমরা সবিনয়ে বলতে চাই স্কুল পরিচালনা করার আর্থিক দায়ভার নিতে হবে সরকারকে। তা ছাত্রদের উপর চাপিয়ে দিয়ে ফি বৃদ্ধি করা চলবে না। সরকার টাকা না দিয়ে তা ছাত্রদের থেকে আদায় করার চেষ্টা করলে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা বাঁচানোর আন্দোলন হবে এবং সর্বত্র প্রতিরোধ হবে।
স্কুল শিক্ষার পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষায় ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিক্ষণ বিল’ বাতিলের দাবিতে ৬-৭ জানুয়ারি রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে এআইডিএসও। শিক্ষায় চূড়ান্ত কেন্দ্রিকরণ ও ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সারা পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক সমাজকে। একই সঙ্গে স্নাতক স্তরে চার বছরের ডিগ্রি কোর্স বাতিল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী অধ্যাপক ও কর্মচারী নিয়োগ, দ্রুত গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছে এআইডিএসও।