Breaking News

তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী জনরোষ, এসআইআর থেকে গণনা পর্যন্ত নানা অসদুপায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনল

সদ্য শেষ হওয়া রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেস শোচনীয় ভাবে পরাস্ত হয়েছে। কী করে এটা সম্ভব হল?

২০১১ সালে সিপিএমের দীর্ঘ শ্বাসরোধকারী শাসনের বিরুদ্ধে রাজ্যের মানুষের প্রবল ক্ষোভের ঢেউয়ে সওয়ার হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় বসেছিল। কিন্তু মাত্র ১৫ বছরের মধ্যেই সেই তৃণমূল শাসনের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগের অন্ত থাকল না। মানুষ দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় দেখেছে, যে প্রত্যাশা নিয়ে তারা তৃণমূলকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল, যত দিন গেছে তা চরম হতাশায় পরিণত হয়েছে।

তৃণমূল শাসনে রাজ্যে আইনের শাসন কার্যত উবে গিয়েছিল। সমাজের নিচের তলা জুড়ে কায়েম হয়েছিল এক অরাজক অবস্থা। স্থানীয় নেতাদের দৌরাত্ম্য যেন এক সমান্তরাল প্রশাসন তৈরি করেছিল। নতুন ব্যবসা করলে, দোকান খুললে, এমনকি নিম্নবিত্ত-দরিদ্র মানুষ ছোট একটা বাড়ি তৈরি করলেও নেতাদের মোটা টাকা তোলা না দিয়ে উপায় ছিল না। ফুটপাথের দোকান, রিক্সা, অটো প্রভৃতি থেকে নিয়মিত তোলা আদায় রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। পুকুর বা ভেড়ি বুজিয়ে জমি করা, বেআইনি জমি দখল, সিন্ডিকেট ব্যবসা ইত্যাদিতে নেতাদের আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। বিধায়কদের ঔদ্ধত্য এমন স্তরে পৌঁছেছিল যে বহু জায়গায় বিরোধী দলের সমর্থক হলে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট, আয়ের বা বসবাসের সার্টিফিকেট প্রভৃতি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রটুকুও না দিয়ে সাধারণ গরিব মানুষকে হেনস্থা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এই দলবাজি, দুর্নীতি, তোলাবাজি, ঔদ্ধত্যকে তৃণমূল সরকারের সমার্থক হিসাবেই ধরে নিয়েছে।

দুর্নীতি কি শুধু নিচের স্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল? তা কি শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েনি? শিক্ষামন্ত্রী সহ বেশ কিছু নেতা-মন্ত্রীকে দুর্নীতির দায়ে জেলে যেতে হয়েছিল। মানুষ বুঝেছিল, লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ না দিলে চাকরি হবে না। স্কুল-শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি অবিশ্বাস্য গভীরতায় পৌঁছেছিল। বেকার তরুণ-তরুণীরা ধরে নিয়েছিলেন, তৃণমূল থাকলে চাকরির পরীক্ষা আর হবে না। গরু পাচার, কয়লা পাচার, বালি-পাথর খাদানে টাকা লুটের বিপুল তথ্য প্রকাশ্যে এসে গিয়েছিল। মানুষের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, প্রকাশ্যে আসা এই সব দুর্নীতি হিমশৈলের চূড়ামাত্র।

সরকার চালাতে গিয়ে নীতিগত যে সব পদক্ষেপ তৃণমূল সরকার নিয়েছে, সেগুলিও মানুষের ক্ষোভকে বাড়িয়ে তুলেছে। বাংলার স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থা একদিন সারা দেশে দৃষ্টান্ত ছিল। সিপিএম সরকার ইংরেজি এবং পাশফেল তুলে দিয়ে তার সর্বনাশ শুরু করেছিল। সেই সর্বনাশকে সম্পূর্ণ করেছে তৃণমূল সরকার। বাংলামাধ্যম সরকারি স্কুলগুলি শিক্ষকের অভাবে, পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে, ভেঙে পড়ছে। ইতিমধ্যেই ৮২০৭টি স্কুল বন্ধের মুখে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতির কারণে ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হওয়ায় রাজ্যের স্কুলগুলিতে পড়াশোনা কার্যত তলানিতে চলে গেছে। এর ফলে শুধু শিক্ষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হননি, ছাত্রছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রবল ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবকরা। ভোটে এই ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে। এ ছাড়াও ডিএ নিয়ে সমস্ত সরকারি কর্মচারী, অফিসার, শিক্ষক, অধ্যাপক এবং পেনশন প্রাপক– যারা সমাজে মতামত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন, তাঁরা ত্রুদ্ধ হয়েছেন। সেই ক্রোধের প্রতিফলন ঘটেছে ভোটে।

রাজ্যে শিল্প না হওয়ায় কর্মসংস্থান নেই বললেই চলে। ফলে শিক্ষিত যুবকরা তো বটেই, ডিগ্রিহীন যুবকদেরও কাজের জন্য অন্য রাজ্যে এমনকি বিদেশেও নির্মাণশ্রমিক, মিস্ত্রি, গৃহসহায়ক প্রভৃতি নানা কাজ নিয়ে চলে যেতে হয়েছে। যুবসমাজের মধ্যে এই ধারণা দৃঢ়মূল হয়েছে যে এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে কাজ পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। শিক্ষিত এবং মেধাবী যুবক-যুবতীরা মনে করেছেন, তৃণমূল সরকার থাকলে স্বচ্ছ নিয়োগ হবে না। এই রকম অবস্থায় বিজেপির হাজারো প্রতিশ্রুতি, মিথ্যা হলেও যুবসমাজ খড়কুটোর মতো তাকেই আঁকড়ে ধরতে চেয়েছে।

রাজ্যে স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরির পরিবর্তে তৃণমূল সরকার স্কুল, কলেজ, সরকারি অফিস থেকে পুলিশের থানা পর্যন্ত সর্বত্রই কম বেতনের অস্থায়ী কর্মী দিয়ে কাজ চালিয়েছে। অন্য দিকে ছিটেফোঁটা ভাতা দিয়ে মানুষের মুখ বন্ধ করতে চেয়েছে। ভোটের মুখে যুবসাথী প্রকল্পে দেড় হাজার টাকা ঘোষণা করে বেকার যুবসমাজের সমর্থন পেতে চেয়েছে। বিশেষত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে পাঁচশো টাকা বাড়িয়ে চেয়েছে মহিলা ভোট ব্যাঙ্ক তৈরি করতে। এই তথাকথিত ভোটব্যাঙ্ক প্রথম কয়েকটি নির্বাচনে কাজ দিলেও বিজেপির আরও বেশি পরিমাণ টাকার প্রতিশ্রুতি সামনে আসতেই তা ধসে পড়েছে। একের পর এক নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, খুনের ঘটনা রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুতর প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আর জি কর, কসবা আইন কলেজ, সন্দেশখালির ঘটনায় পাড়ায় পাড়ায় প্রশ্ন উঠেছে– রাজ্যের তৃণমূল সরকার কি খুনি-ধর্ষকদের আদৌ শাস্তি দিতে চায়? আর জি করের ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে শুধু এ রাজ্য নয়, সারা দেশে, এমনকি বিশ্বের দেশে দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ, চিকিৎসক, মেডিকেল ছাত্রছাত্রী, বিশেষত মহিলারা যে ভাবে রাস্তায় নেমে দাবি জানিয়েছেন, রাতের পর রাত জেগেছেন তা ছিল নজিরবিহীন। তা সত্ত্বেও তৃণমূল সরকার ন্যায়বিচার দেওয়ার পরিবর্তে দোষীদের আড়াল করেছে। এই ঘটনা তৃণমূল সরকারের প্রতি মানুষকে চূড়ান্ত বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছিল। আর জি কর ছাড়াও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যের জনগণ প্রবল ক্ষুব্ধ হয়েছিল ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, সারদা-নারদা কেলেঙ্কারির মতো ঘটনায়। এগুলির তদন্ত কেন্দ্রীয় সংস্থার উপর দেওয়া হলেও, তারা তদন্তে টালবাহানা করে তৃণমূলবিরোধী ক্ষোভকে জিইয়ে রেখে ফয়দা তুলতে চেয়েছে। ভোটে তার প্রতিফলনও ঘটেছে।

বিজেপি নেতৃত্বের ব্যাপক সাম্প্রদায়িক প্রচার, যেমন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীতে রাজ্য ছেয়ে গিয়েছে, সীমান্ত এলাকার ধর্মীয় জনচরিত্র বদলে গেছে, হিন্দুরা শীঘ্রই সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়ে পড়বে, এমন সব প্রচারে এক অংশের মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছেন। পশ্চিমবাংলায় হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী বিজেপির রমরমার পিছনে তৃণমূল কংগ্রেসের নরম হিন্দুত্বের রাজনীতিও কম দায়ী নয়। এক দিকে হিন্দুত্বের রাজনীতির বিভেদ-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের ত্রাতা হিসাবে নিজেদের তুলে ধরে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের ভোটব্যাঙ্ক হিসাবে ব্যবহার করেছে, অন্য দিকে হিন্দুত্বের রাজনীতিকে নীতিগত ভাবে মোকাবিলা করার পরিবর্তে ‘আমরাও কম বড় হিন্দু নই’ বলে বিজেপির উগ্র হিন্দুত্বের পাল্টা নরম হিন্দুত্বের রাজনীতি চালিয়ে গেছে। তারই উদাহরণ জগন্নাথ মন্দির, মহাকাল মন্দির, দুর্গাঅঙ্গন, রামনবমীতে বিজেপির পাল্টা মিছিল। বাস্তবে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির উগ্র হিন্দুত্বের রাজনীতির মোকাবিলার নামে বিজেপির বেঁধে দেওয়া ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির রাস্তাতেই হেঁটেছে। এতে শেষ বিচারে হিন্দুত্বের পালেই হাওয়া লেগেছে। তার সুফল তুলেছে বিজেপি।

এত দিন যে মুসলিম ভোট এককাট্টা ভাবে তৃণমূল পেয়ে এসেছে, এ বার তা আইএসএফ, কংগ্রেস, হুমায়ুন কবীর, মিমের মধ্যে বিভক্ত হয়ে গেছে। তৃণমূল দীর্ঘ দিন ধরে তার সংগঠন চালিয়েছে পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দেওয়া তথ্য, মতামত এবং পুলিশ প্রশাসনের উপর নির্ভর করে। ফলে দলে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নিচের তলায় ক্ষোভ জমেছিল। এই ক্ষোভ থেকে দলের একাংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।

বিপুল অর্থব্যয়ে বিজেপির প্রচারের বিরাট জৌলুষ মানুষকে খানিকটা হলেও প্রভাবিত করেছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিপুল সংখ্যায় রাজ্যে টানা পড়ে থেকে প্রচার, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অজস্র সভা এবং সেগুলি থেকে অনর্গল প্রতিশ্রুতি মানুষের উপর প্রভাব ফেলেছে। যার প্রতিফলন ঘটেছে ভোটে।

ক্ষমতার সুখ-সাম্রাজ্য থেকে তৃণমূলের দ্বারা উৎখাত হওয়ার শোক সিপিএম নেতারা বোধহয় আজও ভুলতে পারেননি। তাই তৃণমূলকেই প্রধান শত্রু হিসাবে গণ্য করে তাঁরা বিজেপির বিরোধিতা করেছেন নাম কা ওয়াস্তে। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁদের কয়েক জন নেতার আসন ছাড়া বাকিগুলিতে সমর্থকদের বড় অংশের ভোট গেছে বিজেপির পক্ষে। এসআইআর-এ ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বাদ দেওয়াটা বিজেপির পূর্ব পরিকল্পিত। এই পরিকল্পনার সূচনা নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন বদলে নিজেদের অনুগত নির্বাচন কমিশনার বসানোর মধ্যে দিয়ে। নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপির বকলমে কাজ করেছে। কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে ভোট শেষ হতেই মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টার পদে পুরস্কৃত করার ঘটনা প্রমাণ করে, কমিশন আর বিজেপির ফারাক বাস্তবে কোথাও ছিল না। নাগরিকদের একটা বড় অংশকে ভোটদান থেকে বিরত রাখার কৌশলও তৃণমূলের ভোট শতাংশ কমাতে সাহায্য করেছে। বহু আসনেই দেখা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস যত ভোটে হেরেছে, এসআইআরে নাম বাদ গেছে ঠিক তত পরিমাণেই বা তার থেকে বেশি। পুরোপুরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভোট হওয়ায় শাসক দলের পক্ষে এ বার জাল ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি, যা শাসক দলগুলি প্রতি ভোটেই করে থাকে। এ বার বিজেপি কর্মীরা তাঁদের দলের অনুগত অফিসার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহযোগিতায় বহু গণনাকেন্দ্রের কার্যত দখল নিয়ে ফেলেছিল। শেষের দিকে বিরোধীশূন্য গণনাকেন্দ্রে এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা বিজেপির নেতাদের নির্দেশ মতো অফিসারদের লিখতে বাধ্য করা হয়েছে। সরকার দখল করতে মরিয়া বিজেপি ভোটার তালিকা থেকে ভোট গণনা, সব পর্যায়ে নানা অসদুপায় অবলম্বন করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল কংগ্রেসের এই পরাজয় বিজেপির প্রতি কোনও আকর্ষণ থেকে নয়, তৃণমূলের অপশাসনে ক্ষুব্ধ মানুষ তাকে সরাতেই বিজেপিকে সমর্থন করেছে।

এ বারের নির্বাচনে এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) ২৩০টি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জনগণের সামনে একটি বিকল্প রাজনীতি উপস্থিত করেছে। দলের নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেসের চুরি দুর্নীতি তোলাবাজি সহ তাদের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে প্রচার করতে গিয়ে বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মারাত্মক বিপদের পাশাপাশি তার একচেটিয়া পুঁজির স্বার্থরক্ষাকারী চরিত্রটিকেও তুলে ধরা হয়েছে। দল বারবার দেখিয়েছে, তৃণমূলের বিকল্প বিজেপি নয়। কারণ জনগণের জীবনের সমস্ত দুদর্শার মূল রয়েছে পুঁজিপতি শ্রেণির স্বার্থে পরিচালিত এই উৎপাদন ব্যবস্থা, এই সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে। তাই সরকার বদলে, মালিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষা করে চলা একটি দলকে সরিয়ে তাদেরই অনুগত আর একটি দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে জনজীবনের দুর্দশা ঘুচবে না।

এই সমাজের সমস্ত সুফল ভোগ করতে থাকা শাসকশ্রেণি বিনা লড়াইয়ে জনগণকে এক কণাও কিছু দেবে না। তাই চাই উন্নত নীতির ভিত্তিতে জনগণের ঐক্যবদ্ধ সচেতন লড়াই। তার জন্য চাই সঠিক দল নির্বাচন। দলের এই বক্তব্য মানুষের মনে দাগ কেটেছে। সিপিএম নেতৃত্বের কংগ্রেসের সঙ্গে জোট প্রচেষ্টা বা আইএসএফের সঙ্গে জোট বা বিজেপির প্রতি দুর্বলতা মানতে পারেননি বামমনস্ক বহু মানুষ। তাঁরা এসইউসিআই(সি)-র পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

এ রাজ্যের নির্বাচনে ‘পাল্টানো দরকার’ স্লোগান তোলা বিজেপি কোনও নতুন দল নয়। কেন্দ্রীয় সরকারে এবং ১৫টি রাজ্যে তাদের শাসনের জনবিরোধী চরিত্র অজানা কোনও বিষয় নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর তিতিবিরক্ত জনগণের কাছে আপাতত বিজেপি সেই চরিত্র আড়াল করতে পারলেও তাদের স্বরূপ চিনতে বেশি দেরি হওয়ার কথা নয়। সে ক্ষেত্রে জীবন-জীবিকার দাবি নিয়ে রাস্তায় নামা ছাড়া মানুষের সামনে কোনও উপায় নেই। এসইউসিআই(সি) জনজীবনের বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের অঙ্গীকার নিয়েই নির্বাচনী সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। আগামী দিনেও দাবি আদায়ের জন্য সরকারের জনবিরোধী নীতি প্রতিরোধ করার জন্য এই আন্দোলনের রাস্তাতেই শামিল হতে মানুষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে।