
কেন্দ্রীয় সরকার নতুন আইএসআই বিল এনে প্রতিষ্ঠানটিকে কুক্ষিগত করার যে চক্রান্ত করছে তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ছাত্র, অধ্যাপক, কর্মচারীরা আগেই সরব হয়েছেন। ২৮ নভেম্বর প্রায় ৭০০ মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত হয় এক বিশাল মানব-বন্ধন। এই মানব-বন্ধনে প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-গবেষক-শিক্ষক ও প্রাক্তনীদের সাথে যোগদান করেন ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটি, অল বেঙ্গল সেভ এডুকেশন কমিটি সহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। এলাকার মানুষদের সংগঠিত করে মানববন্ধনে সামিল করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নেয় বরানগর নাগরিক প্রতিরোধ মঞ্চ। মানববন্ধনের পর মিছিল ডানলপ মোড়ে এলে সেখানে এক প্রতিবাদ সভা হয়।
২৪ নভেম্বর সাংবাদিক সম্মেলনে আইএসআই-এর শিক্ষার্থী, গবেষক, অধ্যাপক, কর্মচারীরা এই সর্বনাশা বিল প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই বিল চালু হলে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ ভার সম্পূর্ণরূপে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে চলে যাবে এবং প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস হবে। এই দিন আবারও তারা এই বিলের সর্বনাশা দিকগুলি তুলে ধরেন। ছাত্রছাত্রীদের উপর ফি চালু করার প্রস্তাবকে ধিক্কার জানান। আইএসআই-এর গবেষকরা এই বিল প্রত্যাহারের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে শিক্ষার বেসরকারিকরণের যে প্রক্রিয়া সারা দেশ জুড়ে চলছে তার বিরুদ্ধে সরব হন।
প্রতিবাদ সভায় স্থানীয় সাংসদ উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীরা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বাতিলের দাবি জানান। সাংসদ কার্যত স্বীকার করে নেন যে এই রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ রুখতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ। যদিও আইএসআই বিল বাতিলের দাবিতে তিনি পার্লামেন্টে ভূমিকা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখবেন বলে জানান।
২৮ নভেম্বর রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তরফে এই বিলের একটি সংশোধিত রূপ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এই বিলের সারবত্তা পরিবর্তিত হয়নি। এই বিলের বিপক্ষে হাজার হাজার মানুষের যে ই-মেল মন্ত্রকের কাছে পৌঁছেছে, রাস্তায় যে ব্যাপক আন্দোলনের ঢেউ নেমেছে তারই জেরে মন্ত্রক এই সংশোধিত রূপ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু যতদিন না এই বিলকে সম্পূর্ণভাবে বাতিল ঘোষণা করা হচ্ছে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।