Breaking News

পাঠকের মতামতঃ মদবিরোধী আন্দোলনের শক্তি বাড়াতে হবে

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বর্তমান অর্থবর্ষে মদ বিক্রিতে শিরোপা পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মদ বিক্রি হয়েছিল জেলায় ১৯৪০ কোটি টাকার, যা রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। বর্তমান অর্থবর্ষে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ও আবগারি মন্ত্রীর বদান্যতায় বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ২০২৩ কোটি টাকা। জেলা আবগারি দপ্তরের কর্তারা সেই লক্ষ্য পূরণে ইতিমধ্যে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন। জেলায় লাইসেন্স প্রাপ্ত মদের দোকানের সংখ্যা ২৯৩টি। এ ছাড়াও লাইসেন্সবিহীন মদের দোকান, হোটেল, মোটেল, বার কাম রেস্টুরেন্ট, জাতীয় ও রাজ্য সড়কের পাশের দোকানগুলিতে সরকারি দলের নেতা ও প্রশাসনের মদতে দিবারাত্রি মদ বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি গরিব বস্তি, পাড়ার অলিতে গলিতে চোলাই মদের রমরমা। আবগারি দপ্তর বকলমে স্বীকার করেছে, সুকুমারমতি ছাত্রছাত্রীরা এখন মদের দোকানের কাস্টমার। বিয়েবাড়ি, অন্নপ্রাশন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সভা এমনকি শ্রাদ্ধ বাড়িতেও এখন মদ না হলে চলে না।

মধ্যবিত্ত, উচ্চ-মধ্যবিত্তদের মধ্যে সপরিবারে মদ খাওয়ার প্রচলনও তৈরি হয়েছে। আকণ্ঠ মদ্যপান করে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ মারা যাচ্ছে। আরও ভয়ঙ্কর হল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেও মদের পার্টি চলছে। চোলাই ব্যবসায়ীদের সাথে শাসকদল ও পুলিশের দহরম মহরম, চলে সাপ্তাহিক তোলা আদায়। মাদকাসক্তির কারণে পরিবারগুলোতে অশান্তি বেড়ে চলেছে, এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটছে। স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা মদ্যপদের হাতে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে। সিপিএম সরকারের আমলে মদের দোকানের লাইসেন্স বিলি হত। তৃণমূল সরকার মদের কারখানার লাইসেন্স দিয়েছে। ভোটসর্বস্ব দলগুলো প্রতিবার নির্বাচনে মাদকাসক্তদের মদের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়। অসহায় মানুষগুলো ঠিক-বেঠিক বিচার করতে পারে না। বার বার ঠকে যায়, কপাল চাপড়ায়। বর্তমান পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থায় এটাও পুঁজি। সবাই জানে। তাই বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস– যে যখন যেখানে ক্ষমতায় থাকে মদের প্রসার ঘটায়। কিন্তু মনুষ্যত্বকে ধ্বংস করার সরকারি ষড়যন্ত্রটাই সব নয়। প্রতিবাদের সামাজিক শক্তিও আছে। বাড়াতে হবে তার গতিবেগ। না হলে সমাজকে তো বটেই, আমরা নিজেদের ঘরও রক্ষা করতে পারব না।

স্বপন জানা, মেছেদা, পূর্ব মেদিনীপুর