
‘‘… বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। বুর্জোয়ারা শক্তিশালী বলে, তাদের হাতে প্রবল রাষ্ট্রক্ষমতা রয়েছে বলে চিরকাল তারা জগদ্দল পাথরের মতোই আমাদের ঘাড়ের উপর বসে থাকবে– এমন ঘটলে বুর্জোয়াদের হয়তো ভাল হত এবং এ ভেবে তারা খুশিও হতে পারে, কিন্তু এ রকম ঘটে না। তবে এই পরিবর্তন কত দিনে ঘটবে, এটা নির্ভর করছে আপনাদের ওপর। যথার্থ বিপ্লবী আদর্শ এবং লাইন গ্রহণ করে, যথার্থ বিপ্লবী পার্টির নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়ে স্তরে স্তরে গণআন্দোলনগুলো ঐক্যবদ্ধ ভাবে পরিচালনার মারফত জনগণের রাজনৈতিক শক্তির অভ্যুত্থান, অর্থাৎ সোভিয়েটের মতো বিপ্লবী কাউন্সিল এবং গণকমিটিগুলো গড়ে তুলতে কত দিন আপনারা নেবেন তার ওপর নির্ভর করছে কত তাড়াতাড়ি বিপ্লব হবে।
আপনারা মনে রাখবেন, এ কাজ ফাঁকি দিয়ে হবে না, মাঠে-ঘাটে শুধু চিৎকার করেও হবে না বা ভোটের বাক্সে কেরামতি-কারসাজি দেখিয়েও হবে না। বিপ্লব তখনই আপনারা করতে সক্ষম হবেন যখন সঠিক মূল বিপ্লবী রাজনৈতিক লাইন ও আদর্শের ভিত্তিতে এবং সঠিক বিপ্লবী পার্টির নেতৃত্বে জনতার নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তির জন্ম আপনারা দিতে পারবেন। ভোটেও যে আপনারা লড়েন এবং অর্থনৈতিক দাবিদাওয়া নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন যেগুলো আপনারা গড়ে তোলেন– সেগুলোকেও এই অর্থে লড়াই হিসাবে যদি আপনারা দেখেন এবং মূল বিপ্লবী আন্দোলনের পরিপূরক অর্থে সেগুলোকে গড়ে তুলতে পারেন– তবেই মনে রাখবেন, এগুলোর সার্থকতা আছে। তা ছাড়া এক ইঞ্চিও বেশি এর কার্যকারিতা নেই। আর, এইটা যদি আপনারা ধরতে সক্ষম হন তাহলে সাথে সাথে এটাও আপনাদের বুঝতে হবে, যে গণআন্দোলনগুলো আপনারা গড়ে তুলছেন, এর আগে যাওয়া আছে, পিছু হঠা আছে, জয় আছে, পরাজয় আছে, মার খাওয়া আছে– কারণ এর আঁকাবাঁকা পথ আছে।
কিন্তু মূল কথা হচ্ছে, এই গণআন্দোলনগুলোর আদর্শ, নীতি, মূল রাজনৈতিক লাইন, বিপ্লবের স্তর নির্ণয় আপনারা ঠিক করেছেন কি না– অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদীদের জায়গায় বুর্জোয়া শ্রেণি যে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন এবং এই বুর্জোয়া শ্রেণিকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করাই যে বিপ্লবের প্রধান কার্যক্রম– এটা আপনারা ধরতে সক্ষম হয়েছেন কি না।”
(মহান নভেম্বর বিপ্লবের পতাকাতলে )